শিশু সাহিত্য

গিট্টুভূতের রাস্তা কাণ্ড-১ চন্দনকৃষ্ণ পাল
টাকুর টুকুর

গিট্টুভূতের রাস্তা কাণ্ড-১

গিট্টুভূতের রাস্তা কাণ্ড-১ চন্দনকৃষ্ণ পাল   ১. বারান্দাতেই গিট্টুর সাথে দেখা হয়ে যায় চান্দুমামার।মামাকে বারান্দায় দেখেই আওয়াজ দেয় গিট্টু। – শুভ বিকেল মামা। – ও গিট্টু! মেজাজটা খুব খারাপ রে বাপ। – কেন মামা ? – আর কেন? রাস্তার অবস্থা দেখেছিস? সবাই মিলে সমস্ত নিচু জমি ভরাট করে ফেলেছে। এলিভেটেড এক্সপ্রেস ভরাট করেছে রেলের জমি। বনরূপাসহ অন্যান্য কোম্পানিও চারপাশের জমে ভরাট করে ফেলেছে। এখন পানি যাবার কোন রাস্তা নেই। সব পানি রাস্তায় আর গলিতে। পানি থাকতে থাকতে রাস্তায় ভয়াবহ গর্ত।অটো উল্টাচ্ছে রিক্সা উল্টাচ্ছে। এইমাত্র রাস্তার পচা পানিতে ডুব দিয়ে এলাম। সারা শরীরে দুর্গন্ধ। – আহা মামা খুব বাজে অবস্থা তো আপনার। তাড়াতাড়ি বাথরুমে ঢুকেন। – হ্যাঁ দেখার কেউ নেই রে গিট্টু। কেউ নেই। প্রতিদিন অফিস যেতে আসতে চরম ভোগান্তি। – কিন্তু মামা লেকসিটির কাছে ব্রীজের পাশে দেখলাম পাইপ ফেলেছে। পাইপলাইন বসাবে। মাটি কাটার মেশিনও এনেছে একটা। – শুনেছি কিন্তু তাতে কী? একটা মেশিনে মাটি কাটলে এই তিন কিলোমিটার রাস্তা কেটে পাইপ বসাতে তিন বছর লাগবে। এই তিন বছরে আমরা তো শেষ। – তাহলে? – তাহলে আর কী? আমি এ এলাকা ছেড়ে দিবো। – এটা কোন সমাধান হলো মামা? – তো আমি কী করবো। নেতারা তো চুপচাপ। ঠিকাদারকে কে বলবে যে দ্রুত কাজ করতে, বেশি মেশিন আর লোকজন নিয়োগ করতে। আমরা জিম্মি হয়ে আছি তাদের কাছে। অসহায় মানুষদের কপালে দুর্ভোগই থাকে। এটা ধানমন্ডি, গুলশান বা বারিধারা হলে দেখতে কতো দ্রুত কাজ হয়। আমাদের কপালই এমন। ২. গিট্টু খুব চিন্তায় পড়ে যায়। কী করা যায়? সারা খিলক্ষেতের মানুষ কষ্ট করছে গত এক বছর ধরে। আগে রাস্তার দুই এক জায়গায় গর্ত হতো, পানি জমতো। এখন পুরো এলাকা পানির নীচে। চিন্তিত মনে বাইরে বের হয় গিট্টু। লেক সিটির পূর্ব পাশের ব্রীজের গোড়ায় এসে দাড়ায় ও। একটা মাত্র মেশিন দিয়ে একটু একটু করে মাটি কাটা হচ্ছে। সারাদিনে একটার বেশি পাইপ বসাতে পারবে বলে মনে হয় না। একটা ভূড়িওয়ালা লোক দূরে দাড়িয়ে কাজ দেখাশুনা করছে। পাশের এক দোকানদার লোকটার কাছে এসে দাঁড়ায়। – স্লামালেকুম ঠিকাদার সাব। – ওয়ালাইকুম সালাম। উত্তর দেন ভূড়িওয়ালা ঠিকাদার সাব। – মাত্র একটা মেশিনে তো পুরা কাজ করতে কয়েক বছর লাগবে। – তো? – মেশিন বাড়ান, লোকজন বাড়ান…। – আপনের কথায়? জ্ঞান দিয়েন না তো ভাই। খেঁকিয়ে ওঠে ভূড়িওয়ালা। – ওই চালায়ে যা আমি বিকালে আসমু আবার। গটগট করে পূর্বপাড়ার দিকে হাঁটতে থাকে ঠিকাদার। গিট্টু তার পিছন পিছন হাঁটতে থাকে। পূর্বনামা পাড়ার জমকালো বাড়িটার দোতলায় উঠে পড়ে লোকটা। গিট্টু তার বাসাটা চিনে ফিরে আসে। ৩. লোকটাকে সাইজ করা দরকার। তাকে বুঝানো দরকার যে মানুষ কষ্ট পাচ্ছে। পানি নেমে যাবার খাল যারা ভরাট করেছে তাদেরও বুঝানো দরকার। একটা রিয়েল এস্টেট কোম্পানী খালসহ জমি ভরাট করায় পানি নামতে পারছে না। প্রথমে ঐ কোম্পানীর সাইট অফিসে একটা ঢুঁ মারা যায়। রাতে অপারেশন ভূড়িওয়ালা। কার্যক্রম ঠিক করে মনে একটু শান্তি পায় গিট্টু। দিনের বেলা সাইট অপারেশন। বোটঘাট এসে লেকসিটির দিকে হাঁটে গিট্টু। শত শত লোক রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছে। অটো রিক্সা নেই। কোথাও হয়তো অটো গর্তে পড়ে রাস্তা জ্যাম হয়ে আছে। এটা এখন নিয়মিত ঘটনা। লেক সিটির পর রিয়েল এস্টেট এর অফিস। অদৃশ্য হয়ে অফিসে ঢুকে পড়ে গিট্টু।লোকজন তেমন নেই। অফিসার গোছের একজন মোবাইল টিপছে। কাছে গিয়ে তাকায় গিট্টু। ফেসবুকে ব্যস্ত সে। তার মনোযোগ আকর্ষণ করতে হবে। অনেক জোরে দরোজাটা লাগিয়ে দেয় গিট্টু। লোকটা চমকে ওঠে। বাতাস নেই কোন মানুষও নেই। নিজে নিজে দরোজাটা লেগে যওেয়ার রহস্যটা বুঝতে পারে না লোকটা। সর্বশক্তি দিয়ে চেঁচিয়ে ওঠে সে- – কে? কে? – আমি। মিহি গলায় উত্তর দেয় গিট্টু। লোকটা চমকে গিয়ে চারদিকে তাকায়। কাউকে দেখতে পায় না। ফলে ভীষণ রকম ভড়কে যায় সে। – দেখতে পাবি না। ভূত কি দেখা যায়? যায় না। তবে অজ্ঞান হবি না কিন্তু। হলে মেরে ফেলবো। আমি কী বলি সেটা মনোযোগ দিয়ে শুনবি। আর যা বলি সে মত কাজ শুরু করবি এখনি। লোকটা নির্বাক হয়ে ফ্যলফ্যাল করে তাকায়। কিন্তু কিছুই দেখতে পায় না। – মনোযোগ দিয়ে শোন। খিলক্ষেতের পানি যাবার বোয়ালিয়া খালের মুখ তোরা ভরাট করে ফেলেছিস। এই মূহুর্তে লোক লাগিয়ে সেটা কেটে দিবি আর যেখানে যেখানে পানি যাবার পথ বন্ধ আছে সকল পথ নিজ দায়িত্বে খুলে দিবি। না হলে তোদের কোম্পানীর মালিকসহ সবকটা আজ রাতেই সাবাড় করে দিবো। লোকটা কাঁপতে শুরু করে। – এই কাঁপবি না। নো কাঁপাকাপি। – জী বস… জী বস.. এখনি করছি বস..। – ওকে গুডবাই। আমি কিন্তু খেয়াল রাখছি। ৪. গিট্টু বেরিয়ে আসে। এখন দেখার পালা লোকটা একশনে যায় কি না। গিট্টু আস্তে আস্তে বোয়ালিয়া খালের কাছে এসে দাঁড়ায়। ব্রীজের রেলিংয়ে পা ঝুলিয়ে মাটি ভরাট করা খালের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে। অল্প কিছুক্ষণের মধ্যে জনা দশেক লোক ঝুড়ি ও কোদাল নিয়ে কাজে লেগে যায়। সাইট অফিসের লোকটি ভীত চোখে এদিক ওদিক তাকায়। মজা দেখতে দু’একজন করে লোক জড়ো হতে শুরু করে। সন্ধের দিকে প্রবল বেগে খিলক্ষেতের পানি নামতে শুরু করে। গিট্টু চিৎকার দিয়ে ওঠে, হুররে….! ৫. সন্ধে হয়েছে অনেকক্ষণ। নামাপাড়ার বিলাসবহুল বাড়ির বারান্দায় অদৃশ্য হয়ে অপেক্ষা করছে গিট্টু। শেষ লোকটা ভূড়িওয়ালার রুম থেকে বেরিয়ে যেতেই গিট্টু ঢুকে পড়ে।ওকে দেখেই কর্কশ গলায় ধমকে ওঠে ভূড়িওয়ালা। – তুই কে রে ? কিভাবে ঢুকলি? – আমি কে সেটা বড় কথা নয়। যেটা বলছি সেটা মন দিয়ে শুনুন। বোয়ালিয়া খালের মুখ কাটা হয়েছে খিলক্ষেতের পানি নামতে শুরু করেছে। কাল থেকে মাটি কাটার মেশিন তিন থেকে চারটা লাগাবেন। প্রয়োজন মতো লোক নিয়োগ দিবেন। তিনমাসের মধ্যে পাইপ লাইনের কাজ শেষ করবেন। ফাইনাল বলে গেলাম। না হলে ঘাড়ে মুণ্ডু থাকবে না। আমি গিট্টু ভূতের বাদশাহ। বাচ্চা দেখা গেলেও এটা আমার আসল রুপ নয়। আমি আশে পাশেই থাকবো আগামী তিনমাস। নো টেনশন। আপনারা ভাবেন ভূত নেই, ভূত কিন্তু আছে। কোন কথা চলবে না। কোন অন্যায় নয়। আগামীকাল সকাল থেকে পুরো দমে কাজ শুরু না করলে রাতে কী হবে? ঘাড়ে মুণ্ডু…। বলেই অদৃশ্য হয়ে যায় গিট্টু। – ৬. পরদিন খুব ভোরে দুটি মাটিকাটার আধুনিক মেশিন খিলক্ষেতের লেকসিটির দিকে যেতে দেখা যায়। রঙধনু টুইন টাওয়ারের নয় তলার বারান্দায় বসে চান্দুমামার সাথে আড্ডা দিতে দিতে গিট্টু বলে- ‘দিন ফিরে যাচ্ছে মামা। ঐ দেখেন।’ চান্দুমামা অবাক হয়ে রাস্তার দিকে তাকিয়ে থাকেন।   গল্পের ঢালি

অহংকারি রাজহাঁস
টাকুর টুকুর, শিশু সাহিত্য

অহংকারি রাজহাঁস ‎

অহংকারি রাজহাঁস ফারিহা জান্নাত তোহফা ‎ একদা একটা বড় জঙ্গলে অনেক সুন্দর পশুপাখি বাস করতো। তাদের মধ্যে একটি অহংকারি রাজহাঁস ছিল। রাজহাঁসটি নিজের সৌন্দর্যের জন্য খুবই অহংকার করতো। রাজহাঁসটি সত্যিই খুব সুন্দর ছিল। ‎এক সুন্দর সকালে রাজহাঁস নদীতে গেলো পানি আর মাছ খেতে। আড়াল থেকে একটি বাঘ রাজহাঁসকে দেখলো। এত সুন্দর হাঁস খেতে না জানি কত মজা হবে। লোভে তার জিহ্বায় পানি এসে গেলো। তাকে খাওয়ার ফন্দি আটলো মনে মনে। তার সামনে গিয়ে বলল, “ও রাজহাঁস তুমি কত সুন্দর!! আমি অত্যন্ত গর্বিত যে আমাদের জঙ্গলে তোমার মত সুন্দর প্রাণি আছে। নদীর উপরে উঠে এসো! আমি তোমার গায়ে হাত বুলিয়ে দেই।” ‎রাজহাঁস বলল, “তোর বুঝি হিংসে হচ্ছে আমাকে দেখে। ছিঃ! তোর নোংরা হাত দিয়ে আমার শরীরটাকে নোংরা বানাবি। তোর গায়ের রঙ দেখছিস কত বিচ্ছিরি! তোকে যদি মানুষেরা দেখে তাহলে বমি করে ফেলবে। তুই যদি মাটিতে ঘুমাস তাহলে কেউ বুঝবেই না যে এখানে তুই শুয়ে আছিস।” বাঘ এই সব কথা শুনে দুঃখ পেয়ে লজ্জায় লাল হয়ে চলে যায়। কাকের সাাথে খারাপ ব্যবহার আরেকদিন কয়েকটা কাক এসে এই নদীতে পানি খেতে লাগল, তা দেখে রাজহাঁস বললো, “এই তোদের এত সাহস কিভাবে হলো আমার নদীতে এসে পানি খাওয়ার। খেয়ে নদীর রঙটাই কালো করে দিয়েছিস।” কাকেরা দুঃখ পেয়ে চলে যায়। ‎এভাবেই দিন কেটে যায়। ‎একদিন অনেক পিঁপড়া শস্য দানা কষ্ট করে এক জায়গায় জড়ো করছিলো। সেই সব দানা রাজহাঁসটা খেয়ে ফেললো। পিঁপড়ারা বলল, “তুমি আমাদের পরিশ্রম নষ্ট করে ফেলেছো।” রাজহাঁস বলল, “তোদের এতো সাহস আমাকে খেতে মানা করছিস? এর পরিণাম পেতেই হবে।” এই বলে কয়েকটা পিঁপড়াকে পায়ের নীচে ফেলে পিষে ফেলল। তা দেখে পিঁপড়াদের রাজা বলল, “এতো অহংকার করা ভালো না।” ‎এইভাবে বিভিন্নভাবে জঙ্গলের সবাইকে যন্ত্রণা ও কষ্ট দিতো রাজহাঁস। সবার ক্ষতি করে তার আনন্দ হতো। নিজের সৌন্দর্য নিয়ে অহংকার করতে লাগলো আরো বেশি বেশি। ‎একদিন প্রচণ্ড অসুস্থ হয়ে গেলো সে। অনেকদিন অসুখে ভোগার পর রাজহাঁসের সুন্দর পালক ঝরে ঝরে পড়তে লাগলো। সমস্ত পালক ঝরে পড়ায় তাকে দেখতে খুবই বিশ্রী লাগছিলো। তার মধ্যে নতুন করে সমস্ত শরীরে ছোট ছোট গুটি বের হলো। এখন তাকে দেখতে আরো বিশ্রী লাগছিলো। নিজের দিকে তাকিয়ে সারাক্ষণ কান্না করে সে, আর নিজের অহংকারের জন্য অনুতপ্ত হয়। সে বুঝতে পেরেছে তার অহংকারই তার এই দুর্ভোগের কারণ।   আরও গল্প পড়ুন

পুকুর পাড়ের দৈত্য
টাকুর টুকুর, শিশু সাহিত্য

পুকুর পাড়ের দৈত্য

পুকুর পাড়ের দৈত্য প্রিন্স মাহমুদ হাসান পুকুর পাড়ের দৈত্য পুকুর পাড়ে ইয়া বড় একটি দৈত্য থাকে, গোসল শেষে শরীর জুড়ে শ্যাওলা–কাদা মাখে। চোখ দু’টো তার আগুন যেন, কান দু’টো তার কুলো। রান্নার ভয়ে কাঁচা খায় সে, তার লাগে না চুলো। মাছ ধরে সে গাফুস্–গুফুস্, আস্তই খায় গিলে। মাছ না পেয়ে হিংসা করে মাছরাঙা, বক, চিলে। বুদ্ধি করে আনলো তারা বিষাক্ত সাপ ধরে, সাপের ভয়ে দৈত্য এখন থাকে কুঁড়েঘরে।   লেখকের আরও লেখা পড়ুন

ভালোর সাথে মন্দ আসে
গল্প, শিশু সাহিত্য

ভালোর সাথে মন্দ আসে

ভালোর সাথে মন্দ আসে রানা জামান ভালোর সাথে মন্দ আসে কষ্টের অন্ত নেই শাহেদের। গায়ের রংটা বিচ্ছিরি রকমের কালো, নিগ্রোকেও হার মানায়।  মুখে লাবণ্যর পরিবর্তে ওমপুরির মতো মুখভর্তি ছোট ছোট গর্ত; একটা চোখের মণি শাদা। ডান পা টেনে হাঁটে আর বাম হাতের অনামিকা আঙ্গুলটা অনেক খাটো। অমন দৈহিক ত্রুটি নিয়ে জন্মের জন্য ও দায়ি না থাকলেও সবাই প্রকারান্তরে ওকেই দোষারোপ করে। অপরিচিত কেউ ওর দিকে তাকালে দ্রুত ঘৃণায় মুখ ফিরিয়ে নেয়। অনেক ডাক্তারের সাথে আলোচনা করেও ওর খুঁতসমূহ প্লাস্টিক সার্জারি কিংবা অন্য কোনো কৃত্রিম পদ্ধতি প্রয়োগ করে সারানোর বা বাইরে যাবার সময় ঢাকার কোনো উপায় পাওয়া যায়নি। কী বলে শান্তনা দেবে মা-বাবা ওকে?   মা-বাবা কিছু বললে শাহেদ উল্টো ওঁদের উপর ক্ষোভপ্রকাশ করে। মা-বাবার কষ্টটা ও বুঝতে পারে না এবং মা-বাবা ওর কষ্ট বুঝতে পেরেও অসহায় অবস্থায় দীর্ঘ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন শুধু। ছোটবেলায় এতো স্পর্শকাতর ছিলো না শাহেদ। সহপাঠীরা খোঁচা মেরে কথা বললেও তেমন রা করতো না। তবে একবার এক সহপাঠীকে মেরে মারাত্মক জখম করে ফেলেছিলো। সালিশে মা-বাবা ক্ষমা চেয়েও পার পান নি-স্কুল পরিবর্তন করতে হয়েছে। পরের স্কুলে ভর্তির আগে খুব করে বুঝিয়েছে যে, এমনটা ফের করলে ওকে আর কোনো স্কুলে ভর্তি করা যাবে না; তখন ওকে গণ্ডমুর্খ হয়েই থাকতে হবে। শারীরিক এই ত্রুটি থেকে মুক্তির একমাত্র পথ হলো লেখাপড়া করে বড় বিদ্বান হওয়া।   একমাত্র উচ্চশিক্ষাই পারে শারীরিক ত্রুটি ঢেকে দিতে; যেমন বার্নার্ড শ এবং স্টিভেন হকিং। এই দুই জনের ছবি দেখে ও জীবনী শোনার পর শাহেদ শান্ত হয়েছে। কিন্তু কলেজে উঠার পর বয়স্ক ক্লাশমেটদের টিটকারি ওর পক্ষে সহ্য করা কঠিন হয়ে পড়লো। তাই সে কলেজে যাওয়া বাদ দিয়েছে; বলা যায় লেখাপড়াই বাদ দিয়েছে। ছোটকালে বার্নার্ড শ ও স্টিভেন হকিং-এর জীবনি শান্তনা দিলেও এখন আর তা পারছে না।   শাহেদ একা একা বনবাদাড়ে, কখনোবা নদীর পাড়ে ঘুরে বেড়ায়। একদিন শাহেদ প্যান্টের পকেটে ডান হাত ঢুকিয়ে বনের ভেতর দিয়ে হাঁটছে । পথিমধ্যে একটা সাপকে চিৎ হয়ে পড়ে থাকতে দেখে ভাবলো মরে আছে।পাশ কাটিয়ে যাবার সময় সাপটাকে নড়তে দেখে এক লাফে সরে গেলো দূরে। সাপটা সোজা হয়ে ফণা তুলতে গিয়ে নেতিয়ে গেলো ফের। একটা কাঁটা দুই চোয়াল একত্রিত করে এফোঁড় ওফোঁড় হয়ে আছে।   মানে সাপটা আহত! দুধকলা দিয়ে পোষলেও একদিন সাপ ছোবল মারেই। একে সুস্থ করলে কী করবে ও? ওর জীবনের এমনিতেই কী মূল্য আছে? এই উছিলায় মরে যেতে পারলে জীবনের সমাপ্তি হবে সহজেই। এটাই দরকার ওর! শাহেদ সাপের মাথার কাছে বসে হাত রাখলো মাথায়। এক টানে বের করে ফেললো কাঁটাটা। একটা সজারুর কাঁটা!   কষ্ট থেকে মুক্তি পেয়ে সাপটা সোজা হয়ে একবার ফোঁস করে মাথা নোয়ালো। শাহেদ অবাক হলো সাপের কৃতজ্ঞতা প্রকাশে। সাপটা খোলস ছেড়ে ইশারায় ওকে বললো খোলসটা গায়ে জড়াতে। শাহেদ ভাবলো: যার জীবনের কোনো মূল্য নেই, সে সাপ হয়ে গেলে ক্ষতি কী! শাহেদ সাপের খোলসটা জড়িয়ে দেখলো সাপটা ও টের পাচ্ছে কেমন যেনো পরিবর্তন হচ্ছে শরীরে।   বাম হাতের অনামিকা আঙ্গুলটা বেড়ে ডান হাতের অনামিকা আঙ্গুলের সমান হয়ে গেলে সাপের খোলসটা ঝরে পড়লো ওর গা থেকে। আর কী পরিবর্তন হলো ওর শরীরে? হাতে তাকিয়ে বেশ অবাক: গায়ের রংটা মিশকালো থেকে আস্তে আস্তে উজ্জ্বল শ্যামবর্ণ হয়ে গেলো! মুখের কিছু হয়েছে কি?মুখে হাত দিলো শাহেদ। মুখের গর্তগুলো নেই। অত্যন্ত খুশি মনে শাহেদ ফিরে এলো বাড়িতে। কলবেল টেপার পর দরজা খুললে মাকে খুশির খবরটা বলতে চাইলে গলা দিয়ে স্বর বের হলো না ওর!   বাংলা গল্প

বিকেল বেলা খুশির মেলা
গল্প, নির্বাচিত লেখা, শিশু সাহিত্য

বিকেল বেলা খুশির মেলা

বিকেল বেলা খুশির মেলা স্বপনকুমার রায় বিকেল বেলা খুশির মেলা জল টলটল ঢেউ তিরতির একটা নদীর তীরে। সেই নদীকে ঘিরে, আজকে আমার গল্প। বলতে পারো গল্পটাতে মজা আছে, দুঃখ আছে অল্প। নদীর তীরে কী যেন এক গ্রাম। জানা নেই তার নাম। থাক না ওসব, কী আসে যায় তাতে। সেই গ্রামে তো সূর্য ওঠে, ফুটফুটে চাঁদ জোছনা ছড়ায় রাতে। গ্রামের মাঝে বিশাল মাঠ নরম ঘাসে ঢাকা। চারদিকে তার গাছগাছালি সবুজ রঙে আঁকা। বিকেল হলে সেই সে মাঠে বসে খুশির মেলা। সারা গ্রামের ছোটরা এসে করে নানান খেলা। কেউ খেলছে কানামাছি, কেউ খেলছে বউ-বসন্তি কেউবা রুমাল চুরি। কেউ খেলছে কুমির-ডাঙা কেউ ওড়াচ্ছে ঘুড়ি। হা-ডুডু, কেউ রবারের ছোট বল। সারা মাঠ জুড়ে কেবল খুশির ঢল। বন্ধুরা বল খেলার জন্য দুটো দলে ভাগ করে নিল। তাতাই বিল্টুরা একটা দল আর বিতানরা একটা দল। দু’দল মিলে খেলছিল সেই বল। খেলতে খেলতে কষ্ট হলে তাতাই মাঠের পাশে, হাঁপিয়ে উঠে বসল গিয়ে ঘাসে। এদিকে, বল নিয়ে ছুটতে ছুটতে বিল্টু গিয়ে যেই দিয়েছে গোল, তাতাই দেখে ঘাসের মধ্যে ফড়িং খোকাদের ‘গোল হয়েছে, গোল হয়েছে’ বলে, আনন্দেতে কতই কলরোল। গুবরে পোকারা ছিলো বিতানদের পক্ষে। বিতানদের টিম গোল খেয়েছে। এখন নেই তো তাদের রক্ষো ফড়িংয়ের দলের সে কী টিটকিরি। নানা রকম ছিরি। হাসতে হাসতে নাচতে নাচতে করছে কতই ভঙ্গি। যত ছিল ফড়িং দলের সঙ্গী। গুবরের মুখে চুন, লজ্জায় রাগে মুখ লাল। সময় আছে, বিতানের দল এখনই ছাড়বে কেন হাল? এবারে বিতানের দল খুব সিরিয়াস। উরিব্বাস। বল নিয়ে ছুটছে জোরে, আরও জোরে, করছে পাস। কী নিখুঁত! আরে ধুৎ! বিকেল বেলা মজার খেলা পাস্ ভুল, বল আবার বিল্টুদের পায়ে। জমে উঠেছে খেলা, আজকে বিকেলবেলা। এদিকে ফড়িং আর গুবরে, পড়বে কে মুখ থুবড়ে? কাদের হবে জিৎ? দেখছে তাতাই, পাচ্ছে মজা। ওদের মাঝে ঘাসে বসে সে-ই তো উপস্থিত। ওদিকে উঠছে ঘুড়ি আকাশ নীলে। বউ-বসন্তি, রুমাল চুরি খেলছে ওরা সবাই মিলে। এদিকে ছোট রবারের বলে বিল্টু আর বিতানদের জেতার লড়াই চলে। চলছে লড়াই আরও। গুবরে আর ফড়িং-দের মধ্যে সেটাও বলতে পারো। ক্রমে ক্রমে বল খেলা উঠেছে জমে। বল আবার বিতানদের দখলে গেছে এসে। দেখা যাক কী হয় শেষে! চলছে দারুন লড়াই। গুবরে বলে ওরে ফড়িং করিস না আর বড়াই। এক্ষুনি দেখ শোধ হবে তোর গোল। সবুর কর না পাল্টে দেব তোদের মুখের বোল! টানটান উত্তেজনা। সারা মাঠ জুড়ে ছোটদের আনাগোনা। বল একবার বিতানদের কাছে তো একবার বিল্টদের কাছে। খেলার সময় যত হয়ে আসছে শেষ। সবার মধ্যে ততই যেন বাড়ছে ব্যস্ততার রেশ। রুমাল চুরি খেলায় কে হবে চোর! কুমির-ডাঙায় কে হবে কুমির! বউ বসন্তি খেলায় জিতবে কারা, তা নিয়েও চলছে লড়াই জোর। এদিকে বিতান মাঝমাঠে বল পেয়েছে নিজে। কাটিয়ে নিয়ে এক একজনকে ছুটছে জোরে কী যে। তারপর গোলের কাছে গিয়ে মারলো যেই শর্ট, হয়ে গেল গোল। গুবরে পোকার মনে তখন খুশির কলরোল। বিকেল বেলা বিল্টু রেগে গিয়ে বলটাকে বিল্টু মারল জোরে। বলটা গিয়ে পড়ল মাঠের প্রান্তে। যেখানে ছিল গুবরে পোকার দল, পারল না কেউ জানতে। বলের আঘাতে একটা গুবরে পোকার পায়ে লাগলো ভীষণ চোট। প্রচন্ড যন্ত্রণা, কি হবে এবার। বলছে সবাই ডাক্তারের কাছে ছোট। ফড়িংদের মধ্যে ছিল একজন ডাক্তার-ফড়িং। সে এই অবস্থা দেখে ছুট্টে গিয়ে কী সব ঘাসপাতা নিয়ে জাব বানালো চিবিয়ে চিবিয়ে। তারপর গুবরের পায়ে দিল লাগিয়ে। কিছুক্ষণের মধ্যে গুবরে উঠলো সেরে। সবার মনে তখন আবার খুশির হাওয়া ফেরে। খেলা শেষ হয়েছে। বিতান ও বিল্টু দু’দলের মনই খুশি, যেন ভাই-ভাই। কিন্তু তাতাই! সে ফড়িং আর গুবরেদের কান্ড দেখছিল। আর অবাক হচ্ছিল। একটু আগে যারা ছিল বিপক্ষ, ছিল দলাদলি। কেমন করে বলি, যখন বিপদ এলো গুবরে পোকার, তখন কে ফড়িং আর কে গুবরে। সবাই তো পোকা। ওরা কী আর মানুষের মত বোকা ! তাই মিলেমিশে একাকার। ফড়িং এলো গুবরেকে সারিয়ে তুলতে। তাতাই দেখে অবাক, পারছে না এই দৃশ্যটাকে ভুলতে। ভাবছে, মানুষের মধ্যে যদি এমন সম্ভাব থাকতো, তবে হতো কি এত বিবাদ, এত ধ্বংস? বিশ্বজুড়ে হাসত সবাই খুশির খেলায় সবাই নিত অংশ….. বাংলা গল্প

সাকিবের গল্প
গল্প, শিশু সাহিত্য

সাকিবের গল্প

সাকিবের গল্প আলমগীর কবির সাকিবুল ইসলাম সাকিব নাটোর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র। বিজ্ঞানে ওর ভীষণ আগ্রহ। ছোটমামা নাম দিয়েছেন ক্ষুদে বিজ্ঞানী। ছোটমামা যতখানি ওকে সহযোগিতা করেন, বাসার অন্য কেউ ততটা করেন না। এই নিয়ে মাঝে মাঝে সাকিবের মন খারাপ হয়। যদি সবাই ওর কাজে উৎসাহ দিতেন, তাহলে কাজগুলো অনেক সহজ হয়ে যেত। তখন কতই না মজা হতো! আজ শুক্রবার। ছুটির দিন। সাত সকালেই ক্ষুধায় পেট চোঁ চোঁ করছে। রান্নাঘর থেকে খাবারের ঘ্রাণ ভেসে আসছে। মা নিশ্চয়ই রান্নাঘরে। সাকিব দৌড়ে রান্নাঘরে গেল। রান্নাঘরে গিয়েই ওর চোখ ছানাবড়া! মা নেই কোথাও। একটি বাটিতে দুধ রাখা ছিল। বাসার বেড়ালটা চুপিচুপি সেটি খাচ্ছে। সাকিব ভালো করে লক্ষ্য করতে লাগল। — “আরে এ কী অবাক কাণ্ড! বেড়ালটা দুধ খেয়ে নিচ্ছে, কিন্তু বাটির মাঝে কোনো আলোড়ন তৈরি হচ্ছে না!” ঠিক তখনই ছোটভাই রাকিব এসে বলে উঠল—— “আরে ভাইয়া! বেড়াল দুধ খাচ্ছে আর তুমি চুপচাপ দেখছো? আবার এক্সপেরিমেন্ট করছো নাকি?” সাকিব উত্তর দিল—— “না রে, ভুল বুঝিস না। আমি আসতেই দেখি বেড়ালটা দুধ সাবাড় করছে। কিন্তু একটা ব্যাপার কিছুতেই মাথায় আসছে না—বেড়াল দুধ খাচ্ছে অথচ বাটির মধ্যে কোনো আলোড়ন হচ্ছে না।” রাকিব বলল—— “দেখেছি, কিন্তু তুমি বেড়ালটাকে তাড়াচ্ছো না কেন ভাইয়া?” সাকিব হেসে বলল—— “আরে, আমি আসার আগেই দুষ্টু বেড়ালটা সব নষ্ট করে ফেলেছে। তাড়ালেও আর কেউ তো এটা খেতে পারবে না। যা হওয়ার হয়ে গেছে।” এমন সময় মা রান্নাঘরে এসে বললেন—— “কিরে, তোরা দুজন রান্নাঘরে কী করছিস?” সবটা শুনে মা কারো ওপরই রাগ করলেন না।— “আচ্ছা, যা হওয়ার হয়ে গেছে। এবার তোরা দুটি যা, আমাকে কাজ করতে দে।” সারাদিন ভাইয়ে-ভাইয়ে খুনসুটি চলতে থাকল। মা রান্নায় ব্যস্ত হয়ে গেলেন। পেঁয়াজ কাটতে গিয়ে মার চোখে জল এলো। সাকিব তা দেখে কষ্ট পেল। সে মায়ের কাছে গিয়ে বলল—— “মা, তোমার তো অনেক কষ্ট হচ্ছে। এক কাজ করো, পেঁয়াজগুলো আগে পানিতে ভিজিয়ে রাখো তারপর কাটো। আচ্ছা, আমিই ভিজিয়ে দিচ্ছি।” মা অবাক হয়ে দেখলেন, সত্যিই এবার আর চোখ দিয়ে জল বেরোচ্ছে না। তিনি হাসলেন।— “বাবা, আমার ছেলে তো সত্যিই ক্ষুদে বিজ্ঞানী হয়ে গেছে।” রাতের আকাশে গোল চাঁদ উঠল। জোৎস্নায় ভেসে যাচ্ছে চারিদিক। ছোটমামা এলেন। খাবার পর সবাই বারান্দায় বসে গল্প করছিল। সাকিব বলল—— “মামা, আমার একটা প্রশ্ন আছে।” মামা হেসে উত্তর দিলেন—— “নিশ্চয়ই কোনো বিজ্ঞান বিষয়ক। আচ্ছা, বলো।” সাকিব জিজ্ঞেস করল—— “আকাশের তারাগুলো মনে হয় মিটিমিটি জ্বলছে কেন? জোনাকি পোকার দেহে আলো জ্বলে কেন? কোন রঙের সাথে মিলে কোন রঙ তৈরি হয়? রংধনু সম্পর্কেও জানতে চাই।” মা মুচকি হেসে বললেন—— “সাকিব, মামাকে এত প্রশ্ন করছো কেন?” মামা হেসে বললেন—— “বুবু, ওকে প্রশ্ন করতে দাও। এখন তো প্রশ্ন করার বয়স। আচ্ছা সাকিব, কাল তোমার জন্য কিছু বিজ্ঞানবিষয়ক বই কিনে দেব।” সাকিব আনন্দে বলল—— “সত্যি মামা? তাহলে বেশ ভালো হবে!” রাকিবও লাফিয়ে উঠল—— “মামা, আমার জন্য কী কিনে দেবেন?” মামা হেসে বললেন—— “কি চাই তোমার?” রাকিব গম্ভীর হয়ে বলল—— “একটা খেলনা বিমান চাই। তারপর সেটা দেখে দেখে বিমান বানাবো। আমিও ভাইয়ার মতো বিজ্ঞানী হবো।” ওর কথা শুনে সবাই হেসে উঠলেন—— “বেশ, বেশ, তাই হবে।”

চুং চাং চিং
ছড়া, শিশু সাহিত্য

চুং চাং চিং

চুং চাং চিং ইকবাল বাবুল চুং চাং চিং রঘুনাথ সিং রঘুনাথ সিং কপালে সে বেঁধে রাখে ইয়া বড় শিঙ। কেউ তার পাশে এলে কিংবা সে কাছে পেলে সেই দু’টো শিঙ দিয়ে মারে ঢিং ঢিং রঘুনাথ সিং। রঘুনাথ সিং উঠোনে সে বানিয়েছে বড় এক রিং সেই বড় রিং জুড়ে নেচে নেচে ঘুরে ঘুরে উল্লাসে শূন্যে সে মারে বক্সিং রঘুনাথ সিং। রঘু নাথ সিং রোগা টিং টিং খালি পেটে খায় নাকি সালসা ও হিং সালসা ও হিং খেয়ে মেতে উঠে গান গেয়ে চাইনিজে কথা বলে চুং চাং চিং রঘুনাথ সিং।।       মজার ছড়া

Scroll to Top