Author name: if0_39360873

গল্প

মরিচ তোলার দিন

মরিচ তোলার দিন মুহাম্মদ ফজলুল হক   একটু পর পর মাথা উঁচু করে চারদিকে তাকাচ্ছে বেলা। আলো ক্রমশ কমে আসছে। দিনের শেষ রোদ মাঠের ওপর নরম সোনালি আভা ছড়িয়ে দিয়েছে। আকাশ পরিষ্কার থাকায় কারো ভ্রুক্ষেপ নেই। সবাই কাজে মগ্ন। রনি, শম্পা, ইয়াছমিন, ঊষা ও পরশ দ্রুত মরিচ তুলছে । হাসিঠাট্টা, প্রতিযোগিতা ও আন্তরিকতা মিলিয়ে মাঠজুড়ে এক অদ্ভুত প্রাণচাঞ্চল্য। মাঠের কাজে সবাই মগ্ন হলেও চারপাশের মগ্নতায় মুগ্ধ বেলা। কি অপরূপ চারপাশ! চোখ তুললেই নদী। তিতাস নদীর কাজল কালো পানি। নদীর পাড়ের জমিতে সবুজের বাড়াবাড়ি। নানা রঙের ফুলের বাহার। আঁকাবাকা মেঠোপথ। বাতাসে বসন্তের গন্ধ শুকে শুকেই একজীবন শেষ করা যায়।   রনি বলল, “দেখি আজ কে বেশি মরিচ তোলে!” পরশ তার কথা শুনে হেসে বলল, “তুই তো দিনশেষে দ্বিতীয় হস। প্রথম হওয়ার আশা বাদ দে রে ভাই!” ঊষা ঝুড়িতে মরিচ ফেলতে ফেলতে বলল, “আজ প্রথম হবে বেলা। ওকে কেউ ধরতে পারবে না।” বেলা অন্য দিনের মতো নেই। চোখ-মুখে অদ্ভুত অস্থিরতা । কাজে মন বসছে না। বারবার দৃষ্টি যাচ্ছে গ্রামমুখী সেই পথের দিকে।   শম্পা খেয়াল করে বলল, “কি হয়েছে, বেলা?” বেলা মৃদু হেসে বলল, “কিছু হয়নি রে।” ঊষা ঠাট্টা করে বলল, “কি জানি, কার কথা মনে পড়ছে!”   সবাই হেসে ওঠে। বেলাও যোগ দেয় হাসিতে। মনটি আজ তার সত্যি ভারী। অদৃশ্য কেউ তাকে টেনে রেখেছে বিষণ্ণতার গহ্বরে। মাঠজড়ে ছড়িয়ে থাকা প্রকৃতির সীমাহীন সৌন্দর্য তার ভেতর অদ্ভুত আলোড়ন তুলেছে। দিগন্ত বিস্তৃত জমির বুক জুড়ে লাল-সবুজ মরিচ রোদের আলোয় ঝিলমিল করছে। পাশেই ধনেপাতার কোমল সবুজ শাখা দুলে দুলে নীরব সুর তোলছে। গন্ধ ভেসে বেড়াচ্ছে বাতাসে। পরেই সারি বেঁধে দাঁড়িয়ে থাকা লালচে ও সাদা মূলার চারা। বাধাকপি আর ফুলকপি বেড়ে উঠছে। পাতা মেলে মনকাড়া আবেদন জানাচ্ছে। সরষে ফুলের কথা আলাদা করে বলাই যেন অন্যায়। নিজেই আলো ছড়ায়। স্বর্ণাভ, মায়াময় দীপ্তি। চোখে পড়লে মন অবধারিতভাবে থমকে যায়। বেলা তাকিয়ে থাকে বিস্ময়ে।   মরিচ তুলতে তুলতে জমির ফাঁক দিয়ে লাইন দিয়ে এগোচ্ছে। হাতের ঝুড়ি ভর্তি হলে দৌড়ে গিয়ে বস্তায় ঢেলে আবার লাইনে নেমে আসে। রনি হঠাৎ বলে উঠল, “এই দেখ, আমার ঝুড়ি সবার আগে ভরছে!” পরশ বলে, “তা হবেই। তোমার গাছে মরিচ কম। দু-তিনটে তুললেই ভরে যায়!” হাসির রোল পড়ে মাঠে।   বেলা সচেতন হয়ে উঠে। সে নিজের গতি ধরে এগুলেও তার ভেতরে ছন্দ নেই। কিছুদূর এগিয়ে সে আকাশের দিকে তাকায়। এক ঝাঁক বক উড়ে আসছে। সন্ধ্যার আলোয় তাদের সাদা ডানা আরো সাদা মনে হচ্ছে।   বেলা ভাবতে থাকে, “ইস্! যদি পাখি হতে পারতাম! মনের সুখে উড়তে পারতাম।” তার কল্পনা হঠাৎ রূপ বদলায়। সে পাখিদের মনের কথা শুনতে শুরু করে।   “উড়তে আর ভালো লাগছে না। ডানা ব্যথা করছে। খাবারের জন্য প্রতিদিন দূরে যেতে হয়। কাছে যদি একটা বিল থাকত, তাহলে বাঁচতাম।”   বেলা হেসে ফেলল, “পাখিদের কত কষ্ট!”   ঊষা বলল, “কি হলো? একা একা হাসছ?”   “কিছু না রে। ওদের কথা ভাবছিলাম।”   কাজ শেষ। সবাই ক্লান্ত। আনন্দও কম নয়। মরিচ তোলা তাদের কাছে শুধু কাজ নয়, যেন উৎসব। বেলা বলল, “চল, নদীতে গিয়ে হাত-মুখ ধুই।”   তারা দ্রুত চলে যায় পুরাতন তিতাস নদীর কাছে।   এখানে নদী সরু হয়ে পূর্ব-পশ্চিমে দুই ধারায় ভাগ হয়েছে । পানি কম, স্রোত নেই। প্রাণহীন। তাদের উপস্থিতি এবং কোলাহলে নদী প্রাণ ফিরে পায়।   রনি পানিতে নেমেই চিৎকার করে উঠল, “পানি কিন্তু ঠান্ডা রে!”   পরশ দুষ্টুমি করে এক মুঠো পানি শম্পার গায়ে ছিটিয়ে দিল।   শম্পা চমকে উঠে বলল, “ওই! কি করছিস?”   ঊষা সাথে সাথে এগিয়ে গিয়ে পরশের গায়ে পানি ছুড়ে মারল।   পরশ বলল, “ওহ হো! তুই আমার শত্রু হয়ে গেলি কখন থেকে!”   হাসতে হাসতে সবাই পানিতে ছিটাছিটি করে।   কেউ কারো কথা শুনছে না। কয়েক মুহূর্ত তাদের ক্লান্তি ভুলিয়ে দেয়।   ধীরে ধীরে সবাই পানি থেকে উঠে আসে। কেউ চুল মুছছে । কেউ হাঁসের পালের দিকে তাকিয়ে আছে। কেউ নদীর পানে তাকিয়ে গান গাইছে।   মরিচভর্তি বস্তা কাঁধে নিয়ে বাড়ির দিকে রওয়ানা দেয়। শম্পা হাঁটতে হাঁটতে বলল, “আজ যদি মালিক একটু বেশি ভাগ দিত!”   পরশ বলল, “ওসব আশা করে লাভ নেই রে। সাতভাগের একভাগ ছাড়া কিছু দেবে না।”   রনি যোগ করল, “তাতেই বা কম কি!”   সবাই মাথা নেড়ে সায় দিল।   গ্রামের পথ ধরে তারা এগিয়ে চলে। সন্ধ্যার আবেশ চারপাশে নেমে আসছে। ক্ষেতের কোণের বকের দলও বাড়ি ফিরছে। বকের ডানার শব্দ, বাতাসের গন্ধ, স্নিগ্ধ পরিবেশ-সব মিলিয়ে বেলার মনটা নরম হয়ে ওঠে। সে মনে মনে বলে, “পাখিরাও ক্লান্ত, আমরাও ক্লান্ত। অথচ   তারা না পায় ভাগ, না পায় বিশ্রামের জায়গা।”   মালিকের বাড়িতে এসে সবাই নিঃশ্বাস ফেলল।   রনি দৌড়ে গিয়ে পানি এনে দিল। তখন সুরমা চাচী এসে বললেন, “শুধু পানি খেয়ে পেট ফুলাবে না। মুড়ি খাও।” শম্পা দৌড়ে গিয়ে তেল আর পেঁয়াজ নিয়ে এল। বলল, “মেখে দিচ্ছি। কেউ তাড়াহুড়ো করে গিলে ফেলবি না কিন্তু!”   পরশ হাসল, “আজ তোকে খুব উপদেশ দিতে দেখছি।”   মুড়ি খাওয়ার সময় সবাই মেতে ওঠে গল্প আর হাসিতে। খাওয়া শেষে সুরমা চাচী মরিচ ভাগ করতে আসেন। তিনি ছোট একটি বোল নিয়ে সবার সামনে বসে যত্নসহকারে এক এক করে সবার মরিচ ভাগ করছেন। চাচীর মুখে মমতা। এমন মায়াবতী মানুষ এই গ্রামে কম আছে।   চাচী বললেন, “এই নাও। সমান ভাগ করে দিলাম। কেউ কারো দিকে তাকিয়ো না।”   তারপর সবাই বেলার কাছে আসে। বেলা তাদের দলনেতা। & nbsp; রনি বলল, “বেলা, তোমারটা নাও।”   বেলা মাথা নেড়ে বলল, “আরে ধুর! আমায় কেন দিবে? আমি নিলে তোদের ভাগ কমে যাবে।” শম্পা প্রায় জোর করেই বলল, “আরো না! তুমি আমাদের কাজে নিয়ে আসো, সাহস দাও, কাজ শেখাও। তোমারে না দিলে আমাদের ভাল লাগে না।”   ঊষা মিষ্টি হেসে বলল, “তুমি না নিলে মনে হবে দলনেতা রাগ করেছে।”   বেলা অগত্যা সবার নিকট থেকে একটু একটু করে নেয়   বাড়ি ফেরার সময় বেলা বলল, “কাল সকাল সকাল বের হবো। দুই জমির মরিচ তুলতে হবে। দুপুরের খাবার সাথে নিও।”   কেউ কিছু বলে না। তারপর রনি বলে, “চল চল। ভাবলে হবে না। কাল আবার প্রতিযোগিতায় নামতে হবে।” সবাই হেসে ওঠে।   বেলা আকাশের দিকে তাকায়। দূর থেকে ভেসে আসছে গানের সুর। সে মনে মনে বলে, “জীবন কত কষ্টের। তবু কত সুন্দর!” তার দলকে দেখে তার মন ভরে ওঠে । কত কষ্ট করে সবাই। অথচ মুখ ফুটে কেউ কিছু বলে না। অভাব-অনটন নিত্য হলেও স্পর্শ করতে পারে না কাউকে।   রাতের বাতাসে তখন ক্ষুধার গন্ধ। বাড়ির পথে হাঁটতে হাঁটতে তারা গল্পে মেতে উঠে। দিনের ক্লান্তি মুছে যায় ফেরার আনন্দে।   বেলা হাঁটতে হাঁটতে ভাবে, “পাখির মতো ডানা নেই। জীবন আর ভালোবাসার

কাহা পরব কবিতার প্রতীকী চিত্র: সাঁওতাল গ্রাম, নৃত্য, ঢোল ও লোকজ আবহ
কবিতা

কাহা পরব

কাহা পরব মারুফ আহমেদ নয়ন দূরতম সাঁওতাল গ্রাম যেন এক কৃত্রিম উপগ্রহ— পৃথিবীকে কেন্দ্র করে ঘুরছে নিরন্তর। আমি ঘুরতে ঘুরতে ধরা পড়ে গেছি তোমার পাখি ধরার ফাঁদে। আমার দুটি নখর—কী নাজুক! শস্যদানা খুঁজে বনে–জঙ্গলে এসেছিলাম। দেখো, আমার চলন কত সরল— খরগোশের মতো ধীর, স্থির পদক্ষেপে হাঁটছি। ডানার নিচে আগুন ছিল— মনে করতে গিয়ে ভুলে গিয়েছি মানব-আচরণ। যদি তুমি আমাকে সম্বোধন করো ‘বটেরা’ কিংবা ‘তিতির’ বলে, আমি বলব— “বাক-বাকুম!” পাখিদের বর্ণমালা তোমার বোধগম্য নয়। বরং কাহা পরবে ঢুকে পড়ি— দেখি, শিকার শেষে নৃত্যের ভেতরে লুকানো কী মাদকতা! ভোজে মদ ও মাংসের কাবাব— উপগ্রহ থেকে ভেসে আসে কৃত্রিম সংগীত, যেন এলিয়েনরা বাজাচ্ছে ঢোল ও বাঁশি। আধুনিক বাংলা কবিতা বিভাগ

চন্দনকৃষ্ণ পালের দুপুর বাংলা কবিতা
কবিতা

দুপুর

দুপুর চন্দনকৃষ্ণ পাল ডোর বেলে কে আঙুল রাখে মাঝ দুপুরে দরজা খুলে দেখি আমি শূন্যতা খুব- কেউ আসেনি, শূন্য প্যাসেজ, ফিরছে না কেউ সিঁডি ধরে। কে বাজালো ? অবাক আমি হচ্ছেটা কী? একা থাকার স্মৃতি নিয়ে বাজাচ্ছে কেউ এই আমাকে ? বুকের ভেতর কাঁপন জাগে কারা যেনো খুব নিরবে যাচ্ছে হেঁটে দীঘল চোখের ছায়া ফেলে আমার চোখে নীল বেদনার মেঘ ছড়িয়ে বিষণ্নতার মেঘ ধোঁয়াশা ছুঁইয়ে দিয়ে যাচ্ছে চলে মাঝ দুপুরে কে বা কারা এমন করে? অবাক করে? আমার দুপুর এমন দুপুর হলো কেনো ? উত্তরটা দূরে দাঁড়ায়, মুচকি হাসে বিহ্বলতা আমায় আরো জাপটে ধরে। আপনারও কি কখনো এমন এক “দুপুর” এসেছে জীবনে — যখন কেউ ছিল না, তবু কারও উপস্থিতি অনুভব করেছেন? কমেন্টে জানান আপনার অনুভব। আরও পড়ুন: অ্যালগরিদমের কলম – জয়শ্রী দাস

জয়শ্রী দাসের অ্যালগরিদমের কলম কবিতা
কবিতা

অ্যালগরিদমের কলম

অ্যালগরিদমের কলম জয়শ্রী দাস আগে শব্দ জন্মাত নিঃশব্দ রাত্রিতে, কাগজের বুক চিরে উঠত মানুষের শ্বাস। এখন সার্ভারের আলোয় জ্বলে ওঠে বাক্য, বাইনারি বৃষ্টিতে ভিজে থাকে উপমা-রূপক। এআই শোনে—কিন্তু শোনে কি হৃদয়ের কম্পন? সে জানে ছন্দ, জানে সহস্র উপাখ্যান, কিন্তু জানে না হঠাৎ থেমে যাওয়া দীর্ঘশ্বাস, ভাঙা দুপুরে হারিয়ে যাওয়া নামহীন দুঃখ। তবু তার আঙুলে জন্মায় নতুন সম্ভাবনা, ভাষার মানচিত্রে আঁকে অজানা পথ। মানুষের কল্পনা পায় এক নীরব সহযাত্রী, যে ভুল করে না, কিন্তু অনুভবও করে না। সাহিত্যের আকাশে তাই আজ যুগল নক্ষত্র—মানুষ আর যন্ত্র, আলোর দ্বন্দ্বে বাঁধা। কলমটি কার, তা আর প্রশ্ন নয় একা, প্রশ্ন শুধু—আত্মা থাকবে কি লেখার ভেতর?     আরও বাংলা কবিতা

বৃষ্টি পড়ে মনে
গল্প

বৃষ্টি পড়ে মনে

বৃষ্টি পড়ে মনে উম্মুল খায়ের ঘুম ভেঙেই ক্ষুদে বার্তা পেলাম। বার্তাটি খুব পরিচিত জনের। ফেসবুকে দীর্ঘদিনের পরিচয়। দেখা হয়নি, তবে কথা হয়েছে অনেক। বার্তাটি পেয়ে মন খারাপ হয়ে গেল। জানালার পর্দা সরিয়ে তাকালাম আকাশের দিকে। মন খারাপ নিয়ে আকাশের দিকে তাকালে মন ভালো হয়ে যায়। ওমা, হঠাৎ আকাশটা কেমন যেন বদলে গেল! ঘোলাটে হয়ে গেল আকাশের চোখ। মনে হচ্ছে এক্ষুনি কেঁদে ফেলবে। আকাশের কান্নার চমৎকার একটা নাম আছে—বৃষ্টি। আকাশ কাঁদলে তার নাম হয় বৃষ্টি। অথচ কিছু সময় আগেই কি ঝকঝকে ছিল! নীলাকাশে সাদা মেঘের ভরা যৌবন চলছিল। এখন আঁধার কালো মেঘ; আষাঢ়ের আকাশ তো এমনই হয়। মেঘে মেঘে ছেয়ে থাকে আর বৃষ্টি ঝরে। কখনো হালকা বৃষ্টি, আবার কখনো ভারি বৃষ্টি। কোথায় যেন পড়েছিলাম, আকাশ বলে কিছু নেই। আকাশ মূলত পৃথিবীর বায়ুমণ্ডল। বিভিন্ন ধরনের গ্যাস ও জলীয় বাষ্প দিয়ে বায়ুমণ্ডল তৈরি হয়। পৃথিবীর মধ্যাকর্ষণ শক্তির কারণে এটা চারপাশ থেকে পৃথিবীকে ঘিরে আছে। এই বায়ুমণ্ডলকে সূর্যের আলোর কারণে আমরা আকাশ হিসেবে কল্পনা করি। সূর্যের আলোর নীল রঙ বায়ুমণ্ডলে পড়ার কারণে বায়ুমণ্ডল নীল রঙের হয়, তাই আমরা আকাশকে নীল দেখি। আমার মতো অতিসাধারণ মানুষের আকাশ হয় নীল, কিন্তু কবিদের আকাশ নিশ্চয়ই বিভিন্ন রঙের হয়। কবিদের আকাশ তো গোলাপি, খয়েরি, সবুজ, পার্পেল, মেরুন—আরও কত রকমের হতে পারে। কবি মন বলে কথা! আচ্ছা, কবি মাহবুবুর রহমানের আকাশটা কি রঙের? জানতে ইচ্ছে করে। কিন্তু জানা হবে না। আজ থেকে দশ বছর আগের কথা। সেদিন ছিল শ্রাবণের মুষলধারা। মাঠ-ঘাট সব জলে টইটুম্বুর! জানালা দিয়ে শ্রাবণ এসে ছুঁয়ে ছুঁয়ে যাচ্ছিল আমাকে। শ্রাবণের পরশে অন্য রকম অনুভূতিতে মেতে ছিলাম। ঠিক সেই সময় ম্যাসেঞ্জারে কেউ একজন বারবার কল দিচ্ছিলেন। এই একটা সমস্যা—ম্যাসেঞ্জার বাজতেই থাকে, বাজতেই থাকে। ভীষণ বিরক্তিকর। মানুষ এত যন্ত্রণা করে কেন? আমি তো অপরিচিত কারও সঙ্গে কথা বলি না, তাহলে কেন এত বিরক্ত করে? বৃষ্টিময় সুন্দর শ্রাবণের আনন্দটা মাটি হয়ে গেল। হাত বাড়িয়ে মোবাইলটা নিয়ে লাইন কেটে দিলাম। মুহূর্তেই আবারও কল ঢুকে গেল। না! এবার আর সহ্য করা উচিত নয়। কলটা রিসিভ করলাম। অপরপ্রান্ত থেকে খুব সুন্দর একটা পুরুষালী কণ্ঠ ভেসে এলো— —ম্যাডাম, কেমন আছেন? আমি একটু অবাক হলাম। এত সুন্দর করে কেউ কথা বলে! মেয়েরা সুন্দর করে এবং ঢং করে কথা বলে—এটা সবাই জানি। কিন্তু ছেলেরাও যে এত সুন্দর করে কথা বলে, সেটা জানা ছিল না। সুন্দর বাচনভঙ্গির অসীম ক্ষমতা! আমি চুপ হয়ে গেলাম। মেজাজ খারাপ ভাবটা চলে গেল। ওপাশ থেকে বলতে থাকলেন— —আপনাকে আমি প্রতিদিন কল দিই। কিন্তু রিসিভ করেন না। কেন রিসিভ করেন না? আমি বললাম—আসলে অপরিচিত কারও সঙ্গে কথা বলা হয় না। —আপনি এমন কেন, সোহানা? —কেমন? —অন্য রকম। —ওহ। —সোহানা আপু, একটা কথা বলি? —জি, বলুন। —আপনাকে আমার ভালো লাগে। আপনার হাসি ভীষণ সুন্দর। —ধন্যবাদ। —আমি আপনার হাসির প্রেমে পড়েছি। অনেক দিন ধরে আপনাকে ফলো করি। ফেসবুকে যে সব ছবি পোস্ট করেন, সেগুলো মুগ্ধ হয়ে দেখি। আপনি এত সুন্দর! —Excuse me, আমি একটু বিজি আছি। আপনার সঙ্গে পরে কথা বলব। —ওহ, আচ্ছা। আবার কল দিলে রিসিভ করবেন তো? —দেখা যাক। আল্লাহ হাফেজ। মাহবুবুর রহমান তারপর থেকে প্রায়ই কল দিতেন। সকাল, দুপুর, বিকাল, রাত—যখন ইচ্ছে হতো তখনই! এক ভোরে মর্নিং ওয়াকে বের হয়েছি, হঠাৎ ঝুমঝুমিয়ে বৃষ্টি এল। অগত্যা আশ্রয় নিলাম অপরিচিত এক অ্যাপার্টমেন্টের গ্যারেজে। দারোয়ান গেট খুলে দিল। গ্যারেজে দাঁড়িয়ে মুগ্ধতা নিয়ে বৃষ্টির উচ্ছ্বাস দেখছি, ঠিক তখনই এল মাহবুবুর রহমানের কল। কল রিসিভ করে হাসিমুখে বললাম— —কি খবর আপনার? তিনি একটু অপ্রস্তুত হলেন। হয়তো ভেবেছিলেন, আমি কল রিসিভ করব না। আমতা-আমতা করে বললেন— —আসলে ভুলে চাপ লেগে কল চলে গিয়েছে। এত ভোরে কল দেওয়া উচিত হয়নি। সরি। —অসুবিধা নেই, কবি। কেমন আছেন? —আলহামদুলিল্লাহ ভালো। আপা, কিসের শব্দ? বৃষ্টি হচ্ছে নাকি? —প্রচুর বৃষ্টি হচ্ছে, শ্রাবণের বৃষ্টি। —আপা, কবিতা শুনবেন? —কবিতা! আচ্ছা, শুনান তবে। মাহবুবুর রহমান অসম্ভব সুন্দর ভরাট কণ্ঠে আবৃত্তি করতে লাগলেন— বৃষ্টি পড়ে ঘর দুয়ারে বৃষ্টি পড়ে বনে বৃষ্টি পড়ে অন্ধকারে বৃষ্টি পড়ে মনে। রুক্ষ গেরস্থালি জুড়ে বৃষ্টি ঝমঝম কলহ-কট খড়ো বাতাস আজকে কিছু দূরে— বৃষ্টি এলে চুপ করে যায় অভিযোগের ঝড় মুখের উপর, বুকের উপর—ও বৃষ্টি, তুই পড়। মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে শুনছিলাম। হঠাৎ থেমে গেলেন তিনি। আমি বললাম— —থামলেন কেন? তিনি বললেন— —আমার মন বলল, আপনি কবিতা পছন্দ করেন না, তাই— —ভালোই তো লাগছিল। আপনি ভালো আবৃত্তি করেন। —তাই? আপনি চাইলে আপনাকে প্রতিদিন একটি করে কবিতা শুনাতে পারি। —এত কষ্ট করতে হবে না। আজ বৃষ্টির দিনে বৃষ্টির কবিতা ভালো লাগল। তাই শুনলাম। তা ছাড়া আপনার উচ্চারণভঙ্গি বেশ ভালো। একটা জাদুকরী নেশা লেগে যায়। —তাই? —হুম। কবিতা আর কখনো শুনিনি, তবে তাঁর লেখা অনেক কবিতা পড়েছি। হয় বিরহের, নয় তো প্রেমের। অনেক অনেক প্রেমের কবিতা লিখে পাঠাতেন। পড়ে মনে হতো, আমাকে নিয়ে লেখা। মাঝ বয়সে এসে প্রতিদিন প্রেমের কবিতা পড়তে কোন মহিলার ভালো লাগে জানি না। তবে আমার মোটেই ভালো লাগত না। মনে মনে ভীষণ বিরক্ত হতাম। ভাবতাম—পাগল কোথাকার! আমার মধ্যে কি এমন পেল? তার পাগলামি দেখতে দেখতে কেটে গেল চারটি বছর। একদিন আবারও খুব ভোরে মোবাইল বেজে ওঠে। আমরা তখন মর্নিং ওয়াকে বের হওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। আমার হাসব্যান্ড অত্যন্ত বাজেভাবে কড়া দৃষ্টিতে তাকালেন আমার দিকে। সেদিন তাঁর চোখের ভাষাটা ভালো লাগেনি। তাই ব্লক লিস্টে ফেলে দিলাম কবিকে। হাফ ছেড়ে বাঁচলাম। এতটা চাপ নিতে ভালো লাগে না। ঠিক করেছি—বেশ করেছি। এই বয়সে এসে এত কিসের ঢং? এত কিসের প্রেম? এত প্রেম কোথা থেকে আসে এদের? কবির জন্য মন কেমন করে ওঠেনি। বরং এক সময় ভুলে গিয়েছিলাম। সব কি আর ভোলা যায়? সব ভোলা যায় না। প্রেমিকের পাগলামি ভোলা সত্যি কঠিন। কেউ মন থেকে সত্যিকার ভালোবাসলে সেই ভালোবাসাটা অজান্তেই মনের মধ্যে থেকে যায়। ঘুগরা পোকা হয়ে সময় সময় ডেকে ওঠে। গত নয় বছরে মনের মধ্যে এই ঘুগরা পোকাটা কতবার ডেকে উঠেছে, তার হিসাব রাখা হয়নি। গত বছর আমার এক বন্ধুর আইডিতে হঠাৎ মাহবুবুর রহমানের ছবি দেখতে পাই। আমার বন্ধু কবিকে নিয়ে একটা পোস্ট করেছে। গভীর মন দিয়ে ওর লেখাটা পড়তে থাকি। শরীরের রক্ত কেমন যেন হিম হয়ে এল। ভেতরটা ওলট-পালট হয়ে গেল। নিজেকে অপরাধী মনে হলো। অফিসে গিয়েও কাজে মন বসাতে পারলাম না। বাসায় ফিরে আগে ফেসবুকে ঢুকলাম। মাহবুবুর রহমানকে আনফ্রেন্ড করে রেখেছিলাম; তাঁকে আবার ফ্রেন্ড করে নিলাম। অনেক বছর পরে তাঁর প্রোফাইলে ঢুকলাম একটা নরম, তুলতুলে, মোমের মতো হৃদয় নিয়ে। মায়াময় হৃদয় আমার। পুরো ফেসবুকে কবিতা আর কবিতা। এত্তগুলা কবিতা লিখেছেন তিনি! একটা একটা করে কবিতা পড়লাম। মোট ছিয়াশিটি কবিতা। এইট্টি সিক্স! ভাবা যায়? সবগুলো কবিতা বিষাদময় বিরহের কবিতা। কবিতা পড়ার সময় লক্ষ করলাম, হৃদয়ে ব্যথার পাহাড় জমতে শুরু করেছে। কখন যে চোখে আমার শ্রাবণের ধারা বইতে শুরু করেছে! টিস্যুতে চোখ মুছে বিড়বিড় করে

বিশ্বের কয়েকটি ভয়ংকর জিনিস ফাতেমাতুয যাহরা স্মৃতি
নির্বাচিত লেখা

বিশ্বের কয়েকটি ভয়ংকর জিনিস

বিশ্বের কয়েকটি ভয়ংকর জিনিস ফাতেমাতুয যাহরা স্মৃতি   বিশ্বের সবচেয়ে ভয়ংকর প্রাণী পৃথিবীর সবচেয়ে বিষাক্ত ও হিংস্র প্রাণী হলো অস্ট্রেলিয়ান বক্স জেলিফিশ! কী এই বক্স জেলিফিশ? বক্স জেলিফিশ হলো সেই প্রাণী, যা সম্ভবত জেলিফিশের সকল প্রজাতির মধ্যে সবচেয়ে সুন্দর দেখতে। অসাধারণ তার রূপ, ঠিক যেন অনেকটা স্বচ্ছ পর্দার মতো। সামুদ্রিক এই প্রাণীটি প্রায় ১৫ ফুট পর্যন্ত লম্বা হয়ে থাকে। সেই প্রাণীটিই এখন পৃথিবীর সবচেয়ে বিষাক্ত প্রাণী হিসেবে পরিচিত। এক একটি জেলিফিশে যে পরিমাণ বিষ থাকে, তাতে ৬০ জন মানুষের মৃত্যু হতে পারে। বক্স জেলিফিশের বিষ আক্রান্তে হৃৎপিণ্ড, স্নায়ুতন্ত্র ও ত্বকের কোষকে আক্রমণ করে। পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ংকর জঙ্গল পৃথিবীর ফুসফুস খ্যাত আমাজন জঙ্গল, যা হলো এক ভয়ংকর রহস্য। এই বন এতটাই ঘন যে, এর অনেক জায়গায় এখনো সূর্যের আলোই প্রবেশ করতে পারে না। এখানে বসবাস রয়েছে পৃথিবীর সবচেয়ে হিংস্র আর ভয়ংকর সব প্রাণীর। সবচেয়ে ভয়ংকর মাছ বিশ্বের সবচেয়ে বিষাক্ত মাছ হলো পাফার ফিশ। কারণ, এর শরীরে মারাত্মক বিষের উপস্থিতি রয়েছে। পাফার ফিশের মধ্যে রয়েছে টেট্রডক্সিন। এটি নিউরোটক্সিক এবং স্নায়ুবিক সংক্রমণকে বাধা দেয়, যা থেকে পক্ষাঘাত এমনকি মৃত্যুও হতে পারে। পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ংকর গাছ পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ংকর গাছটির বৈজ্ঞানিক নাম ‘হিপোম্যানি ম্যান্সিনেলা’। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডেও পৃথিবীর সবচেয়ে বিষাক্ত গাছ হিসেবে এর নাম রয়েছে। গাছের ফল এবং পাতা আপেল গাছের মতো। চোখে এ বিষ পৌঁছালে অন্ধত্ব বরণ করতে হতে পারে। সবচেয়ে ভয়ংকর ফুল র‍্যাফ্লেসিয়া আর্নল্ডি— পৃথিবীর সবচেয়ে ভয়ংকর ও বড় ফুল এটি। একে মৃত্যুদেহের ফুল বলা হয়ে থাকে। এই ফুলের আয়ু থাকে অল্প কয়েক দিন। সম্প্রতি ইন্দোনেশিয়ার রেইন ফরেস্টে এর দেখা মিলেছে। সবচেয়ে বড় ফুল হলেও এটি দেখতে ভয়ংকর। এই ফুল থেকে মাংস পঁচা গন্ধ বের হয়। দক্ষিণ এশিয়ার বেশ কিছু অঞ্চল, যেমন ফিলিপাইন, জাভা, ইন্দোনেশিয়া ও মালেশিয়ার রেইন ফরেস্টে পাওয়া যায় এই ফুল। এই ফুলটি চওড়ায় ৩ ফুট আর ওজনে প্রায় ১১ কেজি হতে পারে। এতে থাকে পাঁচটি বিশাল পাপড়ি, যার রঙ লালচে বা বেগুনি-বাদামি হতে পারে। রঙের মধ্যে গাঢ় লাল ও সাদা দাগ থাকে। এই অদ্ভুত বিশালাকায় ফুলটি মাংসল। হঠাৎ দেখলে মনে হবে কোনো ভিন গ্রহের প্রাণী বসে আছে জঙ্গলে।   নির্বাচিত লেখা

ফাইলের নিচে চাপা শব্দ মোহাম্মদ শাহজামান শুভ
গল্প

ফাইলের নিচে চাপা শব্দ

ফাইলের নিচে চাপা শব্দ মোহাম্মদ শাহজামান শুভ সকালের আলো যখন জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের পুরোনো ভবনের দেয়ালে এসে পড়ে, তখন সেটি আর আলো থাকে না—হয়ে যায় এক ধরনের নিস্তেজ রং। দেয়ালের রং যেমন মলিন, ভেতরের বাতাসও তেমনি ভারী। এখানে বাতাসে কাগজের গন্ধ নেই, শুধু আছে মানুষের দীর্ঘশ্বাস, অনুচ্চারিত অভিশাপ আর ফিসফিসে হিসাব। আব্দুল করিম দাঁড়িয়ে ছিলেন লম্বা লাইনে। হাতে একটি বাদামি ফাইল—বহুবার খোলা-বন্ধের দাগে যার কোণাগুলো নরম হয়ে গেছে। এই ফাইলের ভেতরে জমির কাগজ, বাবার মৃত্যুসনদ আর করিমের নিজের অসহায়তা—সব একসঙ্গে চাপা পড়ে আছে। তিনি জানেন, এই ফাইলের ওজন কাগজে নয়, টাকায় মাপা হয়। টেবিলের ওপাশে বসে আছেন মনির হোসেন। টেবিলের ওপর ফাইলের পাহাড়, নিচে অদৃশ্য এক নদী—যার স্রোত কেবল টাকায় বয়ে চলে। মনির কাগজে চোখ রাখেন, মানুষে নয়। কারণ মানুষে চোখ রাখলে বিবেক জেগে উঠতে পারে—আর এখানে বিবেক বড় ঝুঁকিপূর্ণ বস্তু। — “আসেন, পরে আসেন।” মনিরের কণ্ঠে কোনো নিষ্ঠুরতা নেই, আছে নিয়মিত চর্চার স্বাচ্ছন্দ্য। যেন তিনি কোনো মানুষকে ফিরিয়ে দিচ্ছেন না, বরং একটি আবহাওয়া জানাচ্ছেন। করিম কিছু বলেন না। কিছু বলার ভাষা এখানে নেই। বাইরে এসে তিনি বসেন লোহার বেঞ্চে। বেঞ্চটি ঠান্ডা নয়, অথচ শীতল লাগে। পাশের লোকটি কানে কানে বলে— — “পাঁচ হাজার দিলেই আজ শেষ।” এই বাক্যটি করিমের কানে ঢোকে না, ঢুকে পড়ে বুকের ভেতর। সেখানে আগে থেকেই জমে থাকা হিসাবগুলো নড়েচড়ে বসে। মেয়ের স্কুল ফি, স্ত্রীর ওষুধ, ঘরের চাল—সব হিসাবের ওপর নতুন এক কর বসে যায়। মনির হোসেন একসময় এই বেঞ্চেই বসেছিলেন। বহু বছর আগে। তখন তাঁর চোখেও এমন দ্বিধা ছিল। চাকরিতে ঢোকার প্রথম বছর তিনি ঘুষ নেননি। রাতে ঘুম হতো শান্ত। আয় কম ছিল, কিন্তু স্বপ্ন ছিল বড়। তারপর ধীরে ধীরে অফিসের ভেতরকার অদৃশ্য পাঠশালায় তিনি নতুন অঙ্ক শিখলেন। দুই শতাংশ, পাঁচ শতাংশ। “কাজ ঠিক আছে” বলার দাম। “কিছু দেখা হয়নি” বলার মূল্য। ঘুষ তখন আর পাপ থাকল না—হয়ে উঠল নিয়ম। নিয়ম মানা আর অপরাধ নয়। এটাই তাঁকে শেখানো হলো। মনির যখন প্রথম টাকা নিলেন, হাতে কাঁপুনি এসেছিল। কিন্তু আশ্চর্য—কাঁপুনি বেশি দিন টিকল না। অভ্যাস বড় নিষ্ঠুর শিক্ষক। একদিন বড় প্রকল্প এলো—একটি স্কুল ভবন। শিশুরা যেখানে পড়বে, স্বপ্ন দেখবে। নকশায় সব ঠিক। কাগজে সব নিখুঁত। বাস্তবে ইটের ভেতর ফাঁক। রডে জং। তবু ফাইল বলল—“সম্পন্ন।” দু’বছর পর বর্ষার রাতে ভবনের এক কোণ ভেঙে পড়ল। দেয়ালের সঙ্গে সঙ্গে ভেঙে পড়ল কিছু অদৃশ্য বিশ্বাস। তদন্ত হলো, রিপোর্ট হলো। দায় কারও ঘাড়ে পড়ল না। দায় বরাবরের মতো বাতাসে মিলিয়ে গেল। সেদিন মনির বাড়ি ফিরে ছেলের প্রশ্নের মুখে পড়লেন— — “আব্বু, স্কুলটা ভেঙে গেল কেন?” মনির উত্তর খুঁজে পেলেন না। কারণ উত্তরটা ছিল তাঁর নিজের আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে। অন্যদিকে করিম শেষমেশ টাকা দিলেন। ফাইল নড়ল। সই হলো। কাজ হয়ে গেল। সবাই বলল—“ভাগ্য ভালো।” কিন্তু রাতে করিমের ঘুম এল না। মনে হলো, তিনি শুধু পাঁচ হাজার টাকা দেননি—নিজের নীরব প্রতিবাদটুকুও তুলে দিয়েছেন।   আরও গল্প পড়ুন

Scroll to Top