বিকেল বেলা খুশির মেলা
স্বপনকুমার রায়
বিকেল বেলা খুশির মেলা
জল টলটল ঢেউ তিরতির একটা নদীর তীরে। সেই নদীকে ঘিরে, আজকে আমার গল্প। বলতে পারো গল্পটাতে মজা আছে, দুঃখ আছে অল্প। নদীর তীরে কী যেন এক গ্রাম। জানা নেই তার নাম। থাক না ওসব, কী আসে যায় তাতে।
সেই গ্রামে তো সূর্য ওঠে, ফুটফুটে চাঁদ জোছনা ছড়ায় রাতে। গ্রামের মাঝে বিশাল মাঠ নরম ঘাসে ঢাকা।
চারদিকে তার গাছগাছালি সবুজ রঙে আঁকা। বিকেল হলে সেই সে মাঠে বসে খুশির মেলা। সারা গ্রামের ছোটরা এসে করে নানান খেলা। কেউ খেলছে কানামাছি, কেউ খেলছে বউ-বসন্তি কেউবা রুমাল চুরি। কেউ খেলছে কুমির-ডাঙা কেউ ওড়াচ্ছে ঘুড়ি।
হা-ডুডু, কেউ রবারের ছোট বল। সারা মাঠ জুড়ে কেবল খুশির ঢল। বন্ধুরা বল খেলার জন্য দুটো দলে ভাগ করে নিল।
তাতাই বিল্টুরা একটা দল আর বিতানরা একটা দল। দু’দল মিলে খেলছিল সেই বল।
খেলতে খেলতে কষ্ট হলে তাতাই মাঠের পাশে, হাঁপিয়ে উঠে বসল গিয়ে ঘাসে। এদিকে, বল নিয়ে ছুটতে ছুটতে বিল্টু গিয়ে যেই দিয়েছে গোল, তাতাই দেখে ঘাসের মধ্যে ফড়িং খোকাদের ‘গোল হয়েছে, গোল হয়েছে’ বলে, আনন্দেতে কতই কলরোল।
গুবরে পোকারা ছিলো বিতানদের পক্ষে। বিতানদের টিম গোল খেয়েছে। এখন নেই তো তাদের রক্ষো ফড়িংয়ের দলের সে কী টিটকিরি। নানা রকম ছিরি। হাসতে হাসতে নাচতে নাচতে করছে কতই ভঙ্গি। যত ছিল ফড়িং দলের সঙ্গী।
গুবরের মুখে চুন, লজ্জায় রাগে মুখ লাল। সময় আছে, বিতানের দল এখনই ছাড়বে কেন হাল? এবারে বিতানের দল খুব সিরিয়াস। উরিব্বাস। বল নিয়ে ছুটছে জোরে, আরও জোরে, করছে পাস। কী নিখুঁত! আরে ধুৎ!
বিকেল বেলা মজার খেলা
পাস্ ভুল, বল আবার বিল্টুদের পায়ে। জমে উঠেছে খেলা, আজকে বিকেলবেলা। এদিকে ফড়িং আর গুবরে, পড়বে কে মুখ থুবড়ে? কাদের হবে জিৎ? দেখছে তাতাই, পাচ্ছে মজা। ওদের মাঝে ঘাসে বসে সে-ই তো উপস্থিত।

ওদিকে উঠছে ঘুড়ি আকাশ নীলে। বউ-বসন্তি, রুমাল চুরি খেলছে ওরা সবাই মিলে।
এদিকে ছোট রবারের বলে বিল্টু আর বিতানদের জেতার লড়াই চলে। চলছে লড়াই আরও।
গুবরে আর ফড়িং-দের মধ্যে সেটাও বলতে পারো।
ক্রমে ক্রমে বল খেলা উঠেছে জমে। বল আবার বিতানদের দখলে গেছে এসে। দেখা যাক কী হয় শেষে! চলছে দারুন লড়াই।
গুবরে বলে ওরে ফড়িং করিস না আর বড়াই। এক্ষুনি দেখ শোধ হবে তোর গোল। সবুর কর না পাল্টে দেব তোদের মুখের বোল! টানটান উত্তেজনা। সারা মাঠ জুড়ে ছোটদের আনাগোনা।
বল একবার বিতানদের কাছে তো একবার বিল্টদের কাছে। খেলার সময় যত হয়ে আসছে শেষ। সবার মধ্যে ততই যেন বাড়ছে ব্যস্ততার রেশ। রুমাল চুরি খেলায় কে হবে চোর! কুমির-ডাঙায় কে হবে কুমির!
বউ বসন্তি খেলায় জিতবে কারা, তা নিয়েও চলছে লড়াই জোর।
এদিকে বিতান মাঝমাঠে বল পেয়েছে নিজে। কাটিয়ে নিয়ে এক একজনকে ছুটছে জোরে কী যে।
তারপর গোলের কাছে গিয়ে মারলো যেই শর্ট, হয়ে গেল গোল। গুবরে পোকার মনে তখন খুশির কলরোল।
বিকেল বেলা বিল্টু
রেগে গিয়ে বলটাকে বিল্টু মারল জোরে। বলটা গিয়ে পড়ল মাঠের প্রান্তে। যেখানে ছিল গুবরে পোকার দল, পারল না কেউ জানতে। বলের আঘাতে একটা গুবরে পোকার পায়ে লাগলো ভীষণ চোট।
প্রচন্ড যন্ত্রণা, কি হবে এবার। বলছে সবাই ডাক্তারের কাছে ছোট। ফড়িংদের মধ্যে ছিল একজন ডাক্তার-ফড়িং। সে এই অবস্থা দেখে ছুট্টে গিয়ে কী সব ঘাসপাতা নিয়ে জাব বানালো চিবিয়ে চিবিয়ে।
তারপর গুবরের পায়ে দিল লাগিয়ে। কিছুক্ষণের মধ্যে গুবরে উঠলো সেরে। সবার মনে তখন আবার খুশির হাওয়া ফেরে।
খেলা শেষ হয়েছে। বিতান ও বিল্টু দু’দলের মনই খুশি, যেন ভাই-ভাই। কিন্তু তাতাই! সে ফড়িং আর গুবরেদের কান্ড দেখছিল।
আর অবাক হচ্ছিল। একটু আগে যারা ছিল বিপক্ষ, ছিল দলাদলি। কেমন করে বলি, যখন বিপদ এলো গুবরে পোকার, তখন কে ফড়িং আর কে গুবরে। সবাই তো পোকা। ওরা কী আর মানুষের মত বোকা ! তাই মিলেমিশে একাকার।
ফড়িং এলো গুবরেকে সারিয়ে তুলতে। তাতাই দেখে অবাক, পারছে না এই দৃশ্যটাকে ভুলতে।
ভাবছে, মানুষের মধ্যে যদি এমন সম্ভাব থাকতো, তবে হতো কি এত বিবাদ, এত ধ্বংস?
বিশ্বজুড়ে হাসত সবাই খুশির খেলায় সবাই নিত অংশ…..


