সাকিবের গল্প
আলমগীর কবির
সাকিবুল ইসলাম সাকিব নাটোর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র। বিজ্ঞানে ওর ভীষণ আগ্রহ। ছোটমামা নাম দিয়েছেন ক্ষুদে বিজ্ঞানী। ছোটমামা যতখানি ওকে সহযোগিতা করেন, বাসার অন্য কেউ ততটা করেন না। এই নিয়ে মাঝে মাঝে সাকিবের মন খারাপ হয়। যদি সবাই ওর কাজে উৎসাহ দিতেন, তাহলে কাজগুলো অনেক সহজ হয়ে যেত। তখন কতই না মজা হতো!
আজ শুক্রবার। ছুটির দিন। সাত সকালেই ক্ষুধায় পেট চোঁ চোঁ করছে। রান্নাঘর থেকে খাবারের ঘ্রাণ ভেসে আসছে। মা নিশ্চয়ই রান্নাঘরে। সাকিব দৌড়ে রান্নাঘরে গেল।
রান্নাঘরে গিয়েই ওর চোখ ছানাবড়া! মা নেই কোথাও। একটি বাটিতে দুধ রাখা ছিল। বাসার বেড়ালটা চুপিচুপি সেটি খাচ্ছে। সাকিব ভালো করে লক্ষ্য করতে লাগল।
— “আরে এ কী অবাক কাণ্ড! বেড়ালটা দুধ খেয়ে নিচ্ছে, কিন্তু বাটির মাঝে কোনো আলোড়ন তৈরি হচ্ছে না!”
ঠিক তখনই ছোটভাই রাকিব এসে বলে উঠল—
— “আরে ভাইয়া! বেড়াল দুধ খাচ্ছে আর তুমি চুপচাপ দেখছো? আবার এক্সপেরিমেন্ট করছো নাকি?”
সাকিব উত্তর দিল—
— “না রে, ভুল বুঝিস না। আমি আসতেই দেখি বেড়ালটা দুধ সাবাড় করছে।
কিন্তু একটা ব্যাপার কিছুতেই মাথায় আসছে না—বেড়াল দুধ খাচ্ছে অথচ বাটির মধ্যে কোনো আলোড়ন হচ্ছে না।”
রাকিব বলল—
— “দেখেছি, কিন্তু তুমি বেড়ালটাকে তাড়াচ্ছো না কেন ভাইয়া?”
সাকিব হেসে বলল—
— “আরে, আমি আসার আগেই দুষ্টু বেড়ালটা সব নষ্ট করে ফেলেছে। তাড়ালেও আর কেউ তো এটা খেতে পারবে না। যা হওয়ার হয়ে গেছে।”
এমন সময় মা রান্নাঘরে এসে বললেন—
— “কিরে, তোরা দুজন রান্নাঘরে কী করছিস?”
সবটা শুনে মা কারো ওপরই রাগ করলেন না।
— “আচ্ছা, যা হওয়ার হয়ে গেছে। এবার তোরা দুটি যা, আমাকে কাজ করতে দে।”
সারাদিন ভাইয়ে-ভাইয়ে খুনসুটি চলতে থাকল। মা রান্নায় ব্যস্ত হয়ে গেলেন। পেঁয়াজ কাটতে গিয়ে মার চোখে জল এলো। সাকিব তা দেখে কষ্ট পেল।
সে মায়ের কাছে গিয়ে বলল—
— “মা, তোমার তো অনেক কষ্ট হচ্ছে। এক কাজ করো, পেঁয়াজগুলো আগে পানিতে ভিজিয়ে রাখো তারপর কাটো। আচ্ছা, আমিই ভিজিয়ে দিচ্ছি।”
মা অবাক হয়ে দেখলেন, সত্যিই এবার আর চোখ দিয়ে জল বেরোচ্ছে না। তিনি হাসলেন।
— “বাবা, আমার ছেলে তো সত্যিই ক্ষুদে বিজ্ঞানী হয়ে গেছে।”
রাতের আকাশে গোল চাঁদ উঠল। জোৎস্নায় ভেসে যাচ্ছে চারিদিক। ছোটমামা এলেন। খাবার পর সবাই বারান্দায় বসে গল্প করছিল।
সাকিব বলল—
— “মামা, আমার একটা প্রশ্ন আছে।”
মামা হেসে উত্তর দিলেন—
— “নিশ্চয়ই কোনো বিজ্ঞান বিষয়ক। আচ্ছা, বলো।”
সাকিব জিজ্ঞেস করল—
— “আকাশের তারাগুলো মনে হয় মিটিমিটি জ্বলছে কেন? জোনাকি পোকার দেহে আলো জ্বলে কেন? কোন রঙের সাথে মিলে কোন রঙ তৈরি হয়? রংধনু সম্পর্কেও জানতে চাই।”
মা মুচকি হেসে বললেন—
— “সাকিব, মামাকে এত প্রশ্ন করছো কেন?”
মামা হেসে বললেন—
— “বুবু, ওকে প্রশ্ন করতে দাও। এখন তো প্রশ্ন করার বয়স। আচ্ছা সাকিব, কাল তোমার জন্য কিছু বিজ্ঞানবিষয়ক বই কিনে দেব।”
সাকিব আনন্দে বলল—
— “সত্যি মামা? তাহলে বেশ ভালো হবে!”
রাকিবও লাফিয়ে উঠল—
— “মামা, আমার জন্য কী কিনে দেবেন?”
মামা হেসে বললেন—
— “কি চাই তোমার?”
রাকিব গম্ভীর হয়ে বলল—
— “একটা খেলনা বিমান চাই। তারপর সেটা দেখে দেখে বিমান বানাবো। আমিও ভাইয়ার মতো বিজ্ঞানী হবো।”
ওর কথা শুনে সবাই হেসে উঠলেন—
— “বেশ, বেশ, তাই হবে।”


