ছড়া

বাংলা ছড়া

বাংলা ছড়া পড়ুন কালের সাঁকোতে। এখানে শিশুদের ছড়া, মজার ছড়া, শিক্ষামূলক ছড়া, প্রকৃতিভিত্তিক ছড়া এবং সমকালীন ছড়াকারদের নতুন ছড়া নিয়মিত প্রকাশিত হয়।

ছড়া বাংলা সাহিত্যের একটি জনপ্রিয় ও প্রাণবন্ত শাখা। ছন্দ, শব্দের খেলা এবং কল্পনার মেলবন্ধনে রচিত ছড়া শিশু-কিশোরদের আনন্দ দেওয়ার পাশাপাশি শিক্ষা ও মূল্যবোধ গঠনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। তবে ছড়া শুধু শিশুদের জন্য নয়; বিভিন্ন বিষয়, সমাজ, সংস্কৃতি ও সমকালীন ভাবনা নিয়েও অসংখ্য ছড়া রচিত হয়ে থাকে।

কালের সাঁকোর এই ছড়া বিভাগে শিশুদের ছড়া, মজার ছড়া, শিক্ষামূলক ছড়া, প্রকৃতির ছড়া, দেশাত্মবোধক ছড়া এবং সমকালীন ছড়াকারদের নতুন ছড়া প্রকাশিত হয়। ছড়াসাহিত্যের বৈচিত্র্যময় ধারা পাঠকের কাছে পৌঁছে দেওয়াই এই বিভাগের মূল উদ্দেশ্য।

ছড়া সহজ ভাষা, ছন্দময় উপস্থাপনা এবং আকর্ষণীয় ভাবনার মাধ্যমে পাঠকের মনে বিশেষ জায়গা করে নেয়। নতুন ও প্রতিষ্ঠিত ছড়াকারদের সৃষ্টিশীল রচনার সমন্বয়ে এই বিভাগটি একটি সমৃদ্ধ সংগ্রহ হিসেবে গড়ে উঠছে। আপনি যদি ছড়া পড়তে, শিশুদের জন্য সুন্দর ছড়া খুঁজতে অথবা নতুন ছড়াকারদের লেখা আবিষ্কার করতে চান, তাহলে এই বিভাগটি আপনার জন্য।

ছড়া নিয়ে ছড়া
ছড়া

ছড়া নিয়ে ছড়া

ছড়া নিয়ে ছড়া   ছড়া মানে আমিনুল ইসলাম মামুন কাব্যের নূপুরটা পরা আছে ছড়ারই পায়। ঝুমঝুম ছন্দে মনের আনন্দে নেচে নেচে আয় সবে, তার কাছে আয়। কাব্যের নূপুরটা পরা আছে ছড়ারই পায়। ছড়া ওড়ে ডানা মেলে আকাশে হাওয়ার ঝাপটা নিয়ে, ঢেউ খেলা পথ দিয়ে। মনপুরে নামে ছড়া, স্নিগ্ধতা মাখা যে। ছড়ার গায়ে ঐ দেখ, কত ছবি আঁকা যে। ছড়া মানে বাগানের ফুল, ছড়া মানে ঝুনঝুনি, কিংবা তা হারমুনি, কিংবা তা শিশুদের কানে পরা দুল। মাঝে মাঝে ফুটায় তা কারো গায়ে হুল। ছড়া উৎপলকান্তি বড়ুয়া মিষ্টি আমি মিষ্টিরে! তুই- টক তো ভারী তেঁতুল, আচ্ছারে বল স্বাদ নিয়ে তোর জন্যে করে কে তুল? গরম ডেকে ঠান্ডাকে কয় চরম তোমার রূপ তো! পৌষ আর মাঘ ছাড়া কোথায় দশ মাসে রও সুপ্ত? বৃষ্টি বলে, তুফান রে তোর সময়েই তো আসিস, যা করবি কর দুখীদেরও একটু ভালোবাসিস! আকাশ বলে, উঁচুতে রই পাতালরে তুই তলায়, কী করে তোর সঙ্গে রাখি ভাবটা গলায় গলায়? অসীম সাগর অটল পাহাড় মন থেকে না সরাই, সাগর পাহাড় তাদের বুঝি নেই রে অহং-বড়াই!

ঈদ এলে মো. দিদারুল ইসলাম
ছড়া

ঈদ এলে মো. দিদারুল ইসলাম

ঈদ এলে মো. দিদারুল ইসলাম ঈদ এলে ছেলে-বুড়ো রাত করে ভোর, খুকুমণি হাতে তোলে মেহেদির ফোঁড়। ঈদ এলে শহরের অলি-গলি ফাঁকা, অনেকেই ছেড়ে যায় রাজধানী ঢাকা। ঈদ এলে সারা গাঁয়ে পড়ে যায় ধুম, খোকনের চোখ জুড়ে নাহি থাকে ঘুম। ঈদ এলে গরীবের মনে নাই সুখ, আঁখি সদা জলে ভরা দুখ আর দুখ।

শৈশবের দিনগুলো
ছড়া

শৈশবের দিনগুলো

শৈশবের দিনগুলো শফিকুল মুহাম্মদ ইসলাম শৈশবের দিনগুলো ডাংগুলি আর গোল্লাছুটে কেটেছে ছেলেবেলা, খেলার ছলে পাঠশালাতে করেছি ঢের হেলা। সঙ্গের সাথী নিয়ে রোজই দুষ্টুমিতে মেতে, পুতুল খেলার ছল করেছি আনন্দটা পেতে। কলাপাতার ছাউনি দিয়ে ঘর বানাতাম কত, দু’চোখ জুড়ে স্বপ্ন তখন ছিল অবিরত! মাটির হাঁড়ি-পাতিল দিয়ে করতো সাথী রান্না, তার পুতুলের বিয়ে হবে কী— করেছে কান্না! পুতুল বিয়ের ইতিকথা আজও মনে পড়ে, বিষাদগীতি ভেসে উঠে মনটা কেমন করে। নদ-নদীতে সাঁতার কাটি ডুবুরিরই মতো, পিতামাতার বারণ ছিল নিত্য, ক্রমাগত। বৃষ্টি এলে পাড়াগাঁয়ে উচ্ছ্বসিত হয়ে, শ্রাবণধারা শরীর বেয়ে যেতো কত বয়ে। বন-বাদাড়ে খোলামাঠে খুঁজতাম পাখির বাসা, পেয়ে গেলে ছানা ধরে দিতাম ভালোবাসা। সারাদিনের কর্ম সেরে ফিরতাম যখন বাড়ি, মা-জননী রাগের বশে ধরতেন শত আড়ি। সন্ধ্যা হলেই উঠোনজুড়ে বসতো পুঁথির আসর; গল্পের ফাঁকে চাঁদটা দেখে হতো স্বপ্নের বাসর।   আরও পড়ুন

ভাইফোঁটা
ছড়া

ভাইফোঁটা

ভাইফোঁটা সুব্রত দাস ভাইফোঁটা উৎসব নীল আকাশে রোদ ঝিকমিক, ধানের শীষে হাওয়া, হিম জড়ানো দূরের মাঠে হারিয়ে কোথায় যাওয়া! উৎসবের বিষয়বস্তু কোথায় কোথায় ভাইয়ের ভালে চন্দনেরই টিপ, ভাইফোঁটা দিই ভোর শিশিরে— জ্বালিয়ে রাখি দীপ! জ্বালিয়ে রাখি, স্বপ্ন আঁকি ধান–দুব্বো–শাঁখে, আশীষ যেন ভাই সোনাদের সতেজ সবুজ রাখে!!       নোট: ভাইফোঁটা হলো বাঙালির এক আবেগঘন পারিবারিক উৎসব, যা মূলত ভাই–বোনের ভালোবাসা, স্নেহ ও মঙ্গলকামনার প্রতীক। ভাইফোঁটা কী? উৎসবটি পালিত হয় কার্তিক মাসের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে, দীপাবলির দু’দিন পর। এই দিনে বোনেরা ভাইয়ের কপালে ফোঁটা দেয়—চন্দন, সিঁদুর, ধান, দূর্বা ইত্যাদি দিয়ে—আর ভাইয়ের দীর্ঘায়ু, সুস্বাস্থ্য ও নিরাপদ জীবনের জন্য প্রার্থনা করে। ভাইফোঁটার প্রচলিত রীতি- সকালে স্নান করে সব বোনেরা পূজার উপকরণ প্রস্তুত করে বোনেরা ভাইকে সামনে বসিয়ে কপালে ফোঁটা দেয় মন্ত্র বা শুভকামনা উচ্চারণ করা হয় ভাই বোনকে উপহার দেয় ও আশীর্বাদ করে পৌরাণিক গল্প ভাইফোঁটার পেছনে যম ও যমুনার কাহিনি প্রচলিত। যমুনা তার ভাই যমরাজকে এই দিনে ফোঁটা দিলে যম তাকে অমরত্বের আশীর্বাদ দেন। তখন থেকেই বিশ্বাস—এই দিনে ফোঁটা নিলে অকালমৃত্যু দূরে থাকে। সামাজিক ও মানসিক গুরুত্ব ভাইফোঁটা শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়— উৎসবটি পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় করে উৎসবটির ফলে দূরে থাকা ভাই-বোনকে কাছে আনে যা ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধের স্মারক হয়ে থাকে সংক্ষেপে, ভাইফোঁটা মানে রক্তের সম্পর্কের বাইরে গিয়ে এক অটুট আবেগের বন্ধন—যেখানে ভালোবাসাই সবচেয়ে বড় উৎসব।     আরও ছড়া পড়ুন এই বিষয়ে আরও পড়ুন 

শরৎ রূপ
Uncategorized, ছড়া

শরৎ রূপ

শরৎ রূপ সুব্রত চৌধুরী যেদিক তাকাই রূপের আড়ং, বাজে খুশির বীণ, মন-ময়ূরী নেচে বেড়ায়, তাক ধিনা ধিন ধিন। তুলোট মেঘের আনাগোনা আকাশজুড়ে আজ, আকাশ নীলে মেঘ-বালিকার নয়নকাড়া সাজ। নদীর পাড়ে দোলায় চামর কাশফুলেরা যেই, শিউলি-ফুলের মালা গলে নাচে খুকু ধেই। মেঘের ছানা আনাগোনা, স্বচ্ছ আকাশ নীল, শরৎ রূপে খুলবে সবার বদ্ধ মনের খিল। নেমে এসো তুলোমেঘ নূর-ই-ইলাহী সাদা মেঘ, সাদা মেঘ, ওই উড়ে যায়, কোথায় যাও তুলোমেঘ, কোন ঠিকানায়? ভেসে ভেসে নীল ছুঁয়ে উড়ে যাও দূরে, দূরে গিয়ে মিশে যাও আজানের সুরে! সুরে সুরে শরতের ছোঁয়া পেয়ে ফের, পাহাড়চূড়োয় উঠে দেখে নাও ঢের! নদীকূলে নেমে এসো কাশফুলের দুলে, এসো তুমি সাদা মেঘ, নেমে এসো ভুলে। তারপর চুপিচুপি প্রকৃতির নায়ে, শণচুল হয়ে যাও ইক্ষুর গায়ে! বুঝি আমি, বুঝি সব, তুলোমেঘ তুমি, শরতের সই হয়ে কাশফুল চুমি! আখফুল, কাশফুল মুখ খুলে বলে, দেখে নাও আমাদের, ছুঁয়ে নাও গলে। মনে রেখো, আমরাও বিধাতাকে স্মরি, বিধাতার ইশারায় বাঁচি আর মরি। তুলোমেঘ, তুলোমেঘ, নেমে এসো নিচে, নিচে এসে দুধভাত খেয়ে নাও মিছে। মিছেমিছি আর খেয়ো সাদা সাদা ডিম, তুমি এলে আসবেই শিশিরের হিম।   শিউলি তলায় ফুল খুকিরা সাঈদুর রহমান লিটন শিউলি ফুলের গন্ধে আকুল, রূপে মনটা হারায়, ছোট্ট ছোট্ট ছেলেমেয়ে ফুল পেতে হাত বাড়ায়। বিনিসুতার মালা গেঁথে পরে সবাই গলায়, মনে তাদের অবাধ খুশি, যায় বোঝা সব চলায়। ফুলের মতো হাসতে থাকে ভোর বিহানে শিশু, শিউলি ফুলের মোহে পড়ে ছুটতে থাকে পিছু। সবার আগে পাওয়া যাবে শিউলি গাছের তলে, ফুল কুড়িয়ে ফুলখুকিরা কত্তো গল্প করে।       আরও ছড়া পড়ুন

তুলনা-কথা জাহাঙ্গীর আলম জাহান
ছড়া

তুলনা-কথা

তুলনা-কথা জাহাঙ্গীর আলম জাহান কাউকে যখন সিংহপুরুষ, ডাকছো বাঘের বাচ্চা, খুশির চোটে নেচে নেচে সে বলে, ‘বেশ-আচ্ছা’। তাকেই যদি গরু-ছাগল কিংবা গাধা ডাকবে, ঘাড়ে তোমার মাথা—বল, আস্ত কি সে রাখবে? কিংবা যদি শৃগাল-বানর, খাটাস তাকে বলবে, সে কি তোমায় বন্ধু ভেবে আদৌ পাশে চলবে? বরং তোমায় শত্রু বলেই গণ্য আরও করবে, সুযোগ পেলে রাস্তাঘাটে টুটিই চেপে ধরবে। বাঘ-সিংহ মানুষ তো না, পশুর জাতিই বটে, তাদের সাথে তার তুলনা বিশ্রী আর উদ্ভটে। কিন্তু মানুষ আজব ভারি, ওই তুলনায় খুশি, হায়রে গরু খায় সে তরু, খেতেও পারে ভূষি!   আরও ছড়া পড়ুন

চায়না শপ
ছড়া

ষাঁড় ঢুকেছে চায়না শপে

ষাঁড় ঢুকেছে চায়না শপে মোহাম্মদ কামরুজ্জামান চায়না শপ ষাঁড় ঢুকেছে চায়না শপে কেনাকাটার ছুঁতায়, শপকিপারের মাথা খারাপ এমন ক্রেতার গুঁতায়। ঝনঝনিয়ে প্লেট পড়ে যায়, খনখনিয়ে বাটি, পায়ের নিচে ডিনার সেটের চলছে ফাটাফাটি। এদিক যখন শিঙে বাধে, ওদিক বাধে পেটে, একমনে ষাঁড় জিনিসপাতি দেখছে হেঁটে হেঁটে। পিরিচগুলো পড়ছে ডানে, কাপগুলো তার বাঁয়ে, গ্লাস ট্রে বোল স্যুপের বাটি ভাঙছে লেজের ঘায়ে। শপকিপারের রাগ চড়ে যায়, সঙ্গে ক্রেতাদেরও, আসলো সবাই তেড়েমেড়ে-ষাঁড় ব্যাটা তুই বেরো। কিন্তু সে ষাঁড় বেরোবে কি-শপিং আরও বাকি, মাথার পরে ঝাড়বাতিরাও হালকা খেল ঝাঁকি। ষাঁড় হয়ে কেউ জন্ম নিলে ষাঁড়ই থাকে-ষাঁড়ই, কী আর করা-দোকানি ওর মাথায় মারে বাড়ি। চারদিকে তার চার পা তুলে লুটিয়ে পড়ে সে ষাঁড়, সবাই হেসে টিটকারি দেয়, ‘উঠল কি না প্রেশার! এক ঘায়ে তুই কাত হয়ে যাস্, হারিয়ে ফেলিস জ্ঞানও, গাধার মতো চায়না শপে ঢুকতে এলি কেন?’     আরও ছড়া পড়ুন চায়না শপ

Scroll to Top