গল্প

বাংলা গল্প সমাহার

বাংলা গল্প সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় ধারা। কালের সাঁকোতে প্রকাশিত হয় নতুন বাংলা গল্প, সমকালীন গল্প, গ্রামীণ জীবনভিত্তিক গল্প, শিশুতোষ গল্প, কিশো গল্প এবং সাহিত্যধর্মী বিভিন্ন সৃষ্টিশীল গল্প। দেশের ও প্রবাসের লেখকদের মৌলিক গল্প নিয়মিত প্রকাশিত হয় এখানে। বাংলা সাহিত্যের পাঠকদের জন্য এটি একটি সমৃদ্ধ গল্পভাণ্ডার।

শূন্যতা
গল্প

অনুভূতি

অনুভূতি আবুল কালাম আজাদ   মিলনের ফুপু মারা গেছেন কিছুক্ষণ আগে। মিলন আতিউতি করে খুঁজছে তার মোবাইল ফোন। ফুপুকে নিয়ে ফেসবুকে একটা স্ট্যাটাস দেয়া দরকার। যে কয়দিন ফুপু হাসপাতালে ছিলেন, বেশির ভাগ সময় মিলন ফুপুর পাশে থেকেছে।   ফুপুর চিকিৎসা নিয়ে ক্ষণে ক্ষণে আপডেট স্ট্যাটাস দিয়েছে। এখন ফুপুর মৃত্যু নিয়ে একটা স্ট্যাটাস দিতে না পারলে ব্যাপারটা খুব খারাপ দেখায়। নাকি মোবাইলটা কেউ নিয়ে গেল? আজকাল মানুষের ভেতর নীতিজ্ঞান বলে কিছু নেই।   অসুস্থ মানুষ, এমনকি মৃত মানুষের ঘর থেকে একটা মোবাইল চুরি করার সুযোগ হাতছাড়া করবে না। মানুষগুলো দিন দিন লোভী ও স্বার্থপর হয়ে উঠছে।   এই ফুপু মিলনকে ছোটবেলায় অনেকদিন লালন-পালন করেছেন। মিলনের জন্মের পর ওর মা অনেকদিন খুব অসুস্থ ছিলেন। মিলনের সেবাযত্ন তো দূরের কথা, কোলে পর্যন্ত নিতে পারতেন না।   এই ফুপু না থাকলে মিলনের বেঁচে থাকা অনিশ্চিত হয়ে যেত। তারপর থেকে মিলনের প্রতি ফুপুর কেমন অন্ধ স্নেহ-মায়া পড়ে যায়। নিজের ছেলে আর মিলনকে কখনোই আলাদা করে দেখতে পারেননি।   সেই মমতাময়ী ফুপুর মৃত্যুতে ফেসবুকে একটা স্ট্যাটাস দিতে পারবে না—বিষয়টা খুব খারাপ দেখায়। লোকজন কী ভাববে? এমন অবস্থায় মিলনের প্যান্টের পেছনের পকেটে ফোন বেজে উঠল। সে সাধারণত সামনের পকেটে মোবাইল ফোন রাখে।   পেছনের পকেটে কখন রেখেছে তা মনে নেই। ফোন করেছে মিলনের চাচাতো ভাই। বলল— “কিরে মিলন, ফুপু নাকি মারা গেছে? তা তোর কাছ থেকে কোনো স্ট্যাটাস পেলাম না। কি আশ্চার্য! ফুপু তোকে এত ভালোবাসতেন অথচ…” “আরে, ফোনটা খুঁজে পাচ্ছিলাম না। এইমাত্র পেলাম। এখনই স্ট্যাটাস দিচ্ছি।” মিলন স্ট্যাটাস দিল— “ফুপু আমাকে নিজের সন্তানের মত কোলে-পিঠে করে মানুষ করেছেন, তিনি আজ চিরদিনের মত হারিয়ে গেলেন।” লাইনটা মিলন কয়েকবার পড়ল। ভালোই হয়েছে। কাব্যিকতা আছে কথার ভেতর। সাথে একটা কান্নার ইমোজি দিয়ে লেখাটা মিলন পোস্ট করে দিল।   আজকাল কান্না-হাসি-আনন্দ-বেদনা ইমোজি দিয়েই সেরে ফেলা যায়। প্রাকটিক্যালি না করলেও চলে। তারপর ক্ষণে ক্ষণে লাইক-কমেন্ট দেখা। লাইক-কমেন্টের অবস্থা ভাল না। খুব ধীরগতিতে এগোচ্ছে।   আজকাল মানুষগুলো যেন বদলে গেছে। সবাই বড্ড আত্মকেন্দ্রিক। কারও দুঃখ-কষ্ট কাউকে স্পর্শ করে না সেভাবে। মৃত্যুর মতো একটা অমোঘ বিষয় নিয়ে স্ট্যাটাস, তাও লোকে লাইক দিতে চায় না, দু’টো কথা লিখে সান্ত্বনা দিতে চায় না।মানুষদের মন মরে যাচ্ছে।   যখন ফুপুর সব কার্যাদি শেষ করে তাকে কবরস্থানের দিকে বহন করে নিয়ে যাওয়া হচ্ছে, তখন মিলন আরও একবার ফেসবুকের নোটিফিকেশন চেক করল—১৪৫টা লাইক আর ৬৭টা কমেন্ট। খুব কম।   একজন মানুষ চিরতরে বিদায় নিয়ে চলে যাচ্ছেন, তার জন্য এই লাইক-কমেন্ট খুবই কম। মানুষের মন বলে আর কিছু অবশিষ্ট নেই। মানুষগুলোর হৃদয় পাথর হয়ে যাচ্ছে।   ফুপুকে কবরে শুইয়ে দিয়ে ফেরার পথে সবার সাথে হাঁটতে হাঁটতে মিলন পিছিয়ে পড়তে লাগল। নিজের অজান্তেই তার পায়ের গতি শ্লো হয়ে যাচ্ছে।   পিছিয়ে পড়তে পড়তে মিলন একেবারে একা হয়ে গেল। আর তখনই তার ভেতর এক মহাশূন্যতা হাহাকার করে উঠল—ব্ল্যাকহোলের মত মহাশূন্যতা।   এই শূন্যতা যেন তাকে গিলে খাবে। কি একটা গাছ যেন। পাতা নেই। শুধু হিজিবিজি ডাল। সেই গাছের নিচে কোনো ঘাস নেই। ধুলো আর ধুলো। মিলন সেই ধুলোর উপর হাঁটু গেড়ে বসে পড়ল।   ফুপুর মুখটা চোখের পাতায় কেমন স্পষ্ট থেকে স্পষ্টতর হচ্ছে। সেই হাসি, সেই কন্ঠ, সেই আদোর-স্নেহ, সেইসব মায়াভরা স্পর্শ! মিলন পকেট থেকে ফোন বের করল। ফুপু বিষয়ক যত স্ট্যাটাস ছিল সব ডিলিট করে দিল। মনে মনে বলল—”এসবের কোনো মানে নেই।   আমি যা হারিয়েছি তা শুধু আমিই অনুভব করতে পারব। আর কেউ তা পারবে না। আমার শূন্যতা, আমার হারানোর কষ্ট অনুভব করার ক্ষমতা কারোই হবে না।   বাবাকে হারিয়েছি, মাকে হারিয়েছি, তবু আমার কিছু ছিল। আজ থেকে আমার আর কিছুই নেই। এই না থাকার কোনো সান্ত্বনা হয় না। ইমোজির কান্না দিয়ে এই কান্না প্রকাশযোগ্য নয়।” মিলন হাহাকার করে কাঁদতে লাগল।   আরও গল্প পড়ুন….

এক থালা ভাত
গল্প

এক থালা ভাত

এক থালা ভাত আহমেদ কিবরিয়া ইদের দিন সকালের কথা। ভাইদের সাথে নামাজ পড়ে বাসায় আসলো রাহাত। বাড়ির বড়রা কুরবানির জন্য ব্যস্ত। রাহাত অসুস্থ থাকায় এগুলোর ধারের কাছে গেলো না। বাড়ির কাজের লোকেরাই ভাই ও বড় আব্বুদের সাথে ছিলো। রাহাত আম্মুর সাথে রান্নাঘরে গল্প করছিলো আর চা পান করছিলো। আম্মু বললো, মাংস রান্না হতে হতে দুপুর গড়িয়ে যাবে। তুই কৈ মাছ ঝোল করেছি সেটা দিয়ে খা। রাহাত বাধ্য ছেলের মতো তাই করলো। দিনটা এভাবে গেলো। সন্ধায়, শুরু হলো ভাবীর চেঁচামেচি। আম্মু কিছু বলছে না। ভাইয়া মন খারাপ করে বসে আছে। সবাই খাচ্ছিল। রাহাত তখনও খায়নি। মানে তার রুচি ছিল না। জ্বর হলে যা হয়। হঠাৎ চাচী এসে জোর করে বাসায় নিয়ে গেলো খাওয়ার জন্য। গেলো আর অল্প করে খেয়ে চলে আসলো। কিছুক্ষণ পর, ভাবী ডাকলো, ভাত খাবা না। রাহাতের উত্তর-না। -কেন খাবে না? -রুচি নাই। -খেতে হবে আমি বলছি। -না খাবো না প্লিজ। -তুই খাবি, তোর ভাই বলেছে তাই তোকে খেতে হবে। ভয়ে ভাত খেলো রাহাত। ভাবীর দিকে খেয়াল করলো সে। উনার মুখে ছিল বন্য পরিহাস আর তাচ্ছিল্য। রাতে শুরু হলো অস্বাভাবিক খারাপ লাগা। বমি বমি ভাব, গলা জ্বলে যাচ্ছিল, চোখে ঝাপসা দেখছিলো সে। মা রুমে এসে দেখে, প্রচুর খিচুনী হচ্ছে রাহাতের। আম্মু তাড়াতাড়ি ওকে টক আচার আর কি যেনো একটা গাছের পাতা খাইয়েছিলেন। ফলে ওর অনেক বমি হয় আর একটু সুস্থ ফিল করে। সেদিন সারা রাত আম্মু ঘুমায়নি। রাহাতের পাশে ছিলো আর দোয়া পড়ে ফুঁ দিচ্ছিলো। মজার ব্যাপার এই বিষয়টি বাসার কেউ জানতো না। রাহাত আম্মুকে প্রশ্ন করলে আম্মু বলেছিলো, বাবা, ইনকাম করতে পারলে তোর একথালা ভাতের অভাব হবে না। আজ ৪ বছরেরও বেশী সময় অতিবাহিত হয়েছে, আম্মু আর কখনও এসে বলবে না, খোকা ভাত খাবি না? শুধু ওর অসুস্থ বাবা জামিল সাহেব একবার রুমে এসে নক করে বলেন, কিরে ভাত খাসনি খোকা? খেয়ে নে বাবা, অনেক রাত হয়েছে। সারাদিন কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকিস । না খেলে টিকবি কিভাবে? এখন রাহাত দু’বেলা নয় তিন বেলায়ই ভাত খায় কিন্তু একা একা। খাওয়ার পর ছাদে যায়। আকাশের দিকে তাকালে দেখতে পায়, অনেক তারকা মিটমিট করে জ্বলছে। একটা শুকতারা যেনো ওর দিকে তাকিয়ে থাকে। রাহাত আচমকা বলে উঠে, ওইতো! ওটাই আমার আম্মু। আম্মু কিছু বলতে চাইছে। মনে হয় বলছে, ভালো থাকিস ইদের দিন সকালের কথা। ভাইদের সাথে নামাজ পড়ে বাসায় আসলো রাহাত। বাড়ির বড়রা কুরবানির জন্য ব্যস্ত। রাহাত অসুস্থ থাকায় এগুলোর ধারের কাছে গেলো না। বাড়ির কাজের লোকেরাই ভাই ও বড় আব্বুদের সাথে ছিলো। রাহাত আম্মুর সাথে রান্নাঘরে গল্প করছিলো আর চা পান করছিলো। আম্মু বললো, মাংস রান্না হতে হতে দুপুর গড়িয়ে যাবে। তুই কৈ মাছ ঝোল করেছি সেটা দিয়ে খা। রাহাত বাধ্য ছেলের মতো তাই করলো। দিনটা এভাবে গেলো। সন্ধায়, শুরু হলো ভাবীর চেঁচামেচি। আম্মু কিছু বলছে না। ভাইয়া মন খারাপ করে বসে আছে। সবাই খাচ্ছিল। রাহাত তখনও খায়নি। মানে তার রুচি ছিল না। জ্বর হলে যা হয়। হঠাৎ চাচী এসে জোর করে বাসায় নিয়ে গেলো খাওয়ার জন্য। গেলো আর অল্প করে খেয়ে চলে আসলো। কিছুক্ষণ পর, ভাবী ডাকলো, ভাত খাবা না। রাহাতের উত্তর-না। -কেন খাবে না? -রুচি নাই। -খেতে হবে আমি বলছি। -না খাবো না প্লিজ। -তুই খাবি, তোর ভাই বলেছে তাই তোকে খেতে হবে। ভয়ে ভাত খেলো রাহাত। ভাবীর দিকে খেয়াল করলো সে। উনার মুখে ছিল বন্য পরিহাস আর তাচ্ছিল্য। রাতে শুরু হলো অস্বাভাবিক খারাপ লাগা। বমি বমি ভাব, গলা জ্বলে যাচ্ছিল, চোখে ঝাপসা দেখছিলো সে। মা রুমে এসে দেখে, প্রচুর খিচুনী হচ্ছে রাহাতের। আম্মু তাড়াতাড়ি ওকে টক আচার আর কি যেনো একটা গাছের পাতা খাইয়েছিলেন। ফলে ওর অনেক বমি হয় আর একটু সুস্থ ফিল করে। সেদিন সারা রাত আম্মু ঘুমায়নি। রাহাতের পাশে ছিলো আর দোয়া পড়ে ফুঁ দিচ্ছিলো। মজার ব্যাপার এই বিষয়টি বাসার কেউ জানতো না। রাহাত আম্মুকে প্রশ্ন করলে আম্মু বলেছিলো, বাবা, ইনকাম করতে পারলে তোর একথালা ভাতের অভাব হবে না। আজ ৪ বছরেরও বেশী সময় অতিবাহিত হয়েছে, আম্মু আর কখনও এসে বলবে না, খোকা ভাত খাবি না? শুধু ওর অসুস্থ বাবা জামিল সাহেব একবার রুমে এসে নক করে বলেন, কিরে ভাত খাসনি খোকা? খেয়ে নে বাবা, অনেক রাত হয়েছে। সারাদিন কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকিস । না খেলে টিকবি কিভাবে? এখন রাহাত দু’বেলা নয় তিন বেলায়ই ভাত খায় কিন্তু একা একা। খাওয়ার পর ছাদে যায়। আকাশের দিকে তাকালে দেখতে পায়, অনেক তারকা মিটমিট করে জ্বলছে। একটা শুকতারা যেনো ওর দিকে তাকিয়ে থাকে। রাহাত আচমকা বলে উঠে, ওইতো! ওটাই আমার আম্মু। আম্মু কিছু বলতে চাইছে। মনে হয় বলছে, ভালো থাকিস বাব। আম্মুর কাছে খুব জানতে ইচ্ছে হয় রাহাতের, সেদিন রাতে কি হয়েছিলো? আর, তাকেই বা কেনো বমি করিয়েছিলো? এর উত্তর আজও পায়নি সে। আর পেতেও চায় না সে। আসলে জীবনের কিছু হিসেব-নিকেশ সময়ের সাথে সাথে ঘৃণার আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হয় আর নোংরা মনের মানুষগুলো মানুষের ন্যায্য হককে বঞ্চিত করে তার প্রিয়ার সাথে জাগতিক সুখে লিপ্ত হয়ে ভুলে যায় জীবনের আসল উদ্দেশ্য। বৃদ্ধাশ্রম, আমার-তোমার ভবিষ্যৎ, নারী অধিকার, শ্বশুরবাড়ি এসব টার্ম আমরাই সমাজে সৃষ্টি করি। হয়তোবা এভাবে চলছে, চলবে হাজার বছর ধরে….   আরও গল্প

ভালোর সাথে মন্দ আসে
গল্প, শিশু সাহিত্য

ভালোর সাথে মন্দ আসে

ভালোর সাথে মন্দ আসে রানা জামান ভালোর সাথে মন্দ আসে কষ্টের অন্ত নেই শাহেদের। গায়ের রংটা বিচ্ছিরি রকমের কালো, নিগ্রোকেও হার মানায়।  মুখে লাবণ্যর পরিবর্তে ওমপুরির মতো মুখভর্তি ছোট ছোট গর্ত; একটা চোখের মণি শাদা। ডান পা টেনে হাঁটে আর বাম হাতের অনামিকা আঙ্গুলটা অনেক খাটো। অমন দৈহিক ত্রুটি নিয়ে জন্মের জন্য ও দায়ি না থাকলেও সবাই প্রকারান্তরে ওকেই দোষারোপ করে। অপরিচিত কেউ ওর দিকে তাকালে দ্রুত ঘৃণায় মুখ ফিরিয়ে নেয়। অনেক ডাক্তারের সাথে আলোচনা করেও ওর খুঁতসমূহ প্লাস্টিক সার্জারি কিংবা অন্য কোনো কৃত্রিম পদ্ধতি প্রয়োগ করে সারানোর বা বাইরে যাবার সময় ঢাকার কোনো উপায় পাওয়া যায়নি। কী বলে শান্তনা দেবে মা-বাবা ওকে?   মা-বাবা কিছু বললে শাহেদ উল্টো ওঁদের উপর ক্ষোভপ্রকাশ করে। মা-বাবার কষ্টটা ও বুঝতে পারে না এবং মা-বাবা ওর কষ্ট বুঝতে পেরেও অসহায় অবস্থায় দীর্ঘ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন শুধু। ছোটবেলায় এতো স্পর্শকাতর ছিলো না শাহেদ। সহপাঠীরা খোঁচা মেরে কথা বললেও তেমন রা করতো না। তবে একবার এক সহপাঠীকে মেরে মারাত্মক জখম করে ফেলেছিলো। সালিশে মা-বাবা ক্ষমা চেয়েও পার পান নি-স্কুল পরিবর্তন করতে হয়েছে। পরের স্কুলে ভর্তির আগে খুব করে বুঝিয়েছে যে, এমনটা ফের করলে ওকে আর কোনো স্কুলে ভর্তি করা যাবে না; তখন ওকে গণ্ডমুর্খ হয়েই থাকতে হবে। শারীরিক এই ত্রুটি থেকে মুক্তির একমাত্র পথ হলো লেখাপড়া করে বড় বিদ্বান হওয়া।   একমাত্র উচ্চশিক্ষাই পারে শারীরিক ত্রুটি ঢেকে দিতে; যেমন বার্নার্ড শ এবং স্টিভেন হকিং। এই দুই জনের ছবি দেখে ও জীবনী শোনার পর শাহেদ শান্ত হয়েছে। কিন্তু কলেজে উঠার পর বয়স্ক ক্লাশমেটদের টিটকারি ওর পক্ষে সহ্য করা কঠিন হয়ে পড়লো। তাই সে কলেজে যাওয়া বাদ দিয়েছে; বলা যায় লেখাপড়াই বাদ দিয়েছে। ছোটকালে বার্নার্ড শ ও স্টিভেন হকিং-এর জীবনি শান্তনা দিলেও এখন আর তা পারছে না।   শাহেদ একা একা বনবাদাড়ে, কখনোবা নদীর পাড়ে ঘুরে বেড়ায়। একদিন শাহেদ প্যান্টের পকেটে ডান হাত ঢুকিয়ে বনের ভেতর দিয়ে হাঁটছে । পথিমধ্যে একটা সাপকে চিৎ হয়ে পড়ে থাকতে দেখে ভাবলো মরে আছে।পাশ কাটিয়ে যাবার সময় সাপটাকে নড়তে দেখে এক লাফে সরে গেলো দূরে। সাপটা সোজা হয়ে ফণা তুলতে গিয়ে নেতিয়ে গেলো ফের। একটা কাঁটা দুই চোয়াল একত্রিত করে এফোঁড় ওফোঁড় হয়ে আছে।   মানে সাপটা আহত! দুধকলা দিয়ে পোষলেও একদিন সাপ ছোবল মারেই। একে সুস্থ করলে কী করবে ও? ওর জীবনের এমনিতেই কী মূল্য আছে? এই উছিলায় মরে যেতে পারলে জীবনের সমাপ্তি হবে সহজেই। এটাই দরকার ওর! শাহেদ সাপের মাথার কাছে বসে হাত রাখলো মাথায়। এক টানে বের করে ফেললো কাঁটাটা। একটা সজারুর কাঁটা!   কষ্ট থেকে মুক্তি পেয়ে সাপটা সোজা হয়ে একবার ফোঁস করে মাথা নোয়ালো। শাহেদ অবাক হলো সাপের কৃতজ্ঞতা প্রকাশে। সাপটা খোলস ছেড়ে ইশারায় ওকে বললো খোলসটা গায়ে জড়াতে। শাহেদ ভাবলো: যার জীবনের কোনো মূল্য নেই, সে সাপ হয়ে গেলে ক্ষতি কী! শাহেদ সাপের খোলসটা জড়িয়ে দেখলো সাপটা ও টের পাচ্ছে কেমন যেনো পরিবর্তন হচ্ছে শরীরে।   বাম হাতের অনামিকা আঙ্গুলটা বেড়ে ডান হাতের অনামিকা আঙ্গুলের সমান হয়ে গেলে সাপের খোলসটা ঝরে পড়লো ওর গা থেকে। আর কী পরিবর্তন হলো ওর শরীরে? হাতে তাকিয়ে বেশ অবাক: গায়ের রংটা মিশকালো থেকে আস্তে আস্তে উজ্জ্বল শ্যামবর্ণ হয়ে গেলো! মুখের কিছু হয়েছে কি?মুখে হাত দিলো শাহেদ। মুখের গর্তগুলো নেই। অত্যন্ত খুশি মনে শাহেদ ফিরে এলো বাড়িতে। কলবেল টেপার পর দরজা খুললে মাকে খুশির খবরটা বলতে চাইলে গলা দিয়ে স্বর বের হলো না ওর!   বাংলা গল্প

সমানে সমান
বিখ্যাতদের লেখা, হাসির গল্প

সমানে সমান

সমানে সমান জসীম উদ্দিন সমানে সমান ছোট্ট একটা নদী, হাঁটিয়াই পার হওয়া যায়। তার পশ্চিম পারে থাকে এক ট্যাটন, নাম ধূলি । পুব পারে থাকে আর এক ট্যাটন । তার নাম বালি । ট্যাটন মানে অতি চালাক। লোক ঠকাইয়া বেড়ানোই তাহার পেশা । বালি এক ছালা বিচেকলার বীজ মাথায় লইয়া নদীর ওপার দিয়া যাইতেছে। পশ্চিম পারের ট্যাটন ধূলি তেমনি আর এক ছালা গাবের পাতা মাথায় করিয়া নদীর এপার দিয়া যাইতেছে । কেউ কাহাকে জানে না ।   ধূলি বালিকে ডাক দিয়া জিজ্ঞাসা করিল, “তোমার ছালায় কি লইয়া যাইতেছ ?” বালি উত্তর করিল, “একবস্তা গোলমরিচ লইয়া চলিয়াছি হাটে । তোমার মাথায় কি লইয়া যাইতেছ ভাই ?” ধূলি বলিল, “এক ছালা তেজপাতা লইয়া চলিয়াছি হাটে।”   সমানে সমান-জসীম উদ্দিন দুইজনে নদীর এপার ওপার পথ ধরিয়া চলিতেছে। আর প্রত্যেকে প্রত্যেকের বুদ্ধিতে শান দিতেছে, কি করিয়া একে অপরকে ঠাকইবে। ধূলি ভাবে, যদি আমার গাবের পাতার বস্তা বদল করিয়া ওর গোলমরিচের বস্তা লইতে পারিতাম! বালি ভাবে, যদি আমার কলার বীজের বস্তা বদল করিয়া ওর তেজপাতার বস্তা লইতে পারিতাম! কিন্তু কেউ কাহাকে কিছু বলে না, কেবল মনে মনে নানা ফন্দি ফিকির আঁটে। আর একথা সেকথা বলিয়া এ ওর আপন হইতে চায় ।   অনেকক্ষণ পর বালি ধূলিকে বলে, “আচ্ছা ভাই! তোমার সঙ্গে যখন এতই খাতির হইল, আইস আমরা একে অন্যের বোঝা বদলা-বদলি করি।” ধূলি ত তাহাই চায়! সে তাহার গাবের পাতার বস্তার বদলে যদি গোলমরিচের বস্তা লইতে পারে তবে ত পোয়াবারো । একটু কাশিয়া সে জবাব দেয়, “আগেকার দিনে রাজপুত্রেরা বন্ধুত্ব করিতে পাগড়ি বদল করিত, এসো ভাই আমাদের বন্ধুত্ব হোক ছালা বদল করিয়া ।” দুইজনেই দুইজনের কথায় খুশি ।   বালি তাহার কলাবীজের বস্তা বদল করিয়া ধূলির গাবের পাতার বস্তা লইল । এ বলে আমি ওকে ঠকাইয়াছি। ও বলে আমি তাকে ঠকাইয়াছি! সেইজন্য কেউ কারো বস্তা পরীক্ষা করিল না । বাড়িতে লইয়া গিয়া ধূলি দেখে, তার বস্তা ভরিয়া শুধু বিচেকলার বীজ। একটাও গোলমরিচের দানা নাই। বালি ও তেমনি দেখিল, তার বস্তা ভরিয়া শুধু গাবের পাতা। প্রত্যেকে মনে মনে হাসিল, আর এ ওর বুদ্ধির তারিফ করিতে লাগিল। কিন্তু দুইজনে মনে মনে ফন্দি আঁটিতে লাগিল, কি করিয়া একে অপরকে ঠাকইবে।   কে কত চালাক পরদিন ভোরবেলায় বালি নদীর ওপারে চুলা জ্বালাইয়া তার উপরে এক হাঁড়ি গরম পানি জ্বাল দিতে লাগিল। নদীর এপার হইতে ধূলি ডাকিয়া জিজ্ঞাসা করিল, “দোস্ত! কি করিতেছ ?” বালি উত্তর করিল, “তোমার সঙ্গে গোলমরিচের বস্তা বদল করিয়া তেজপাতা লইয়া হাটে গিয়াছিলাম । আমার বেশ লাভ হইয়াছে । তাই সকাল সকাল ভাত রান্না করিতেছি।” ধূলি বলিল, “আমিও ভাই তোমার গোলমরিচ বেচিয়া বেশ কিছু পাইয়াছি। কিন্তু আমার ত চুলা নাই । আমার কাছে কিছু চাউল আছে। তোমার হাঁড়ির মধ্যে ছাড়িয়া দেই। দুইজনে একসঙ্গে ভাত খাইব ।”   বালি ভাবিল, “তা মন্দ কি! আমি ত শুধু পানি সিদ্ধ করিতেছি। ও যদি এর মধ্যে কিছু চাউল ছাড়িয়া দেয়, তবে ওর উপর দিয়াই আজিকার সকালের আহারটা সারিয়া লইব ।” প্রকাশ্যে বলিল, “তা বেশ ত তোমার চাউল লইয়া আইস। আমরা একসঙ্গে রান্না করিয়া খাই ।” নদীতে পানি অল্প । হাঁটিয়াই পার হওয়া যায়। এপার হইতে ধূলি আসিয়া সেই উনানের পাশে বসিল।   বালি যেই একটু ওদিকে তাকাইয়াছে, অমনি ধূলি তার কাপড়ের এক কানি একটা পোটলার মতো করিয়া ধরিল। যেন ধূলি বুঝিতে পারে, তার মধ্যে চাউল আছে । তারপর বালিকে বলিল, “দেখ— দেখ ভাই । অকাশ দিয়া কেমন একটা পাখি যাইতেছে।” পুব পারের ট্যাটন একটু চাহিয়াছে, অমনি ধূলি তার কাপড়ের পুটলি খুলিয়া হাঁড়ির মধ্যে চাউল ঢালিতেছে এরূপ ভান করিয়া কাপড় ঝাড়া দিতে লাগিল। তারপর হাঁড়ির মুখে ঢাকনি দিয়া দুইজন চুলায় জ্বাল দিতে লাগিল। অনেকক্ষণ চুলায় জ্বাল দিয়া যখন তাহারা ঢাকনি খুলিল, তখন দেখা গেল হাঁড়ির মধ্যে শুধুই গরম পানি সিদ্ধ হইতেছে। একটাও ভাত নাই । একে অপরের মুখ চাওয়া-চাওয়ি করিয়া তাহারা সবই বুঝিতে পারিল ।   বালি তখন ধূলিকে বলিল, “দেখ ভাই ! এখন সত্যই বুঝিতে পারিলাম, আমরা কেহ কাহারও চাইতে বুদ্ধিতে কম না। আমাদের এই মূল্যবান বুদ্ধি একে অপরের উপর ছাড়িয়া শুধুই সময় নষ্ট করিতেছি। এসো আমরা সত্যিকার বন্ধু হই। আমাদের দুইজনের বুদ্ধি একসঙ্গে ব্যবহার করিলে আমরা অনেক লাভ করিতে পারিব।” ধূলি বলিল, “বেশ ভাই! আমি তাহাতে রাজি আছি ।”   তখন দুই বন্ধু অনেক পরামর্শ করিয়া এদেশ ছাড়িয়া বহু দূরে আর এক দেশে চলিয়া গেল । সেখানে যাইয়া শুনিল, এক বিদেশী সওদাগর কিছুদিন হইল মারা গিয়াছে । তাহার টাকা-পয়সার অন্ত ছিল না। আত্মীয়-স্বজনেরা তাহা ভাগ-বাটোয়ারা করিয়া লইয়াছে । চালাকির আরও নমুনা এক গাছতলায় বসিয়া দুই ট্যাটন নানারকম ফন্দি-ফিকির করিতে লাগিল । তারপর রাত্র হইলে সেই লোকটির কবর খুঁড়িয়া তার মধ্যে ধূলি লুকাইয়া রহিল ।   পরদিন সকালবেলায় বালি সেই সওদাগরের বাড়ির সামনে যাইয়া ডাক ছাড়িয়া কাঁদিতে লাগিল । তাহার কান্না শুনিয়া পাড়ার সকলে আসিয়া জিজ্ঞাসা করিল, “তুমি কাঁদ কেন ?” সে বলিল, “এ বাড়ির সওদাগর সাহেব ছিলেন আমার পিতা। তাঁর মরার খবর শুনিয়া আমি অমুক দেশ হইতে আসিয়াছি। কিন্তু আমার পিতার সমস্ত সম্পত্তি অপরে দখল করিয়া লইয়াছে। আমার জন্য কিছুই রাখে নাই।” এই বলিয়া সে আবার কাঁদিতে লাগিল। বিদেশী লোক বলিয়া সবারই একটু দয়ার ভাব! আর লোকটি অমন ইনাইয়া বিনাইয়া কাঁদিতেছে! তাহার কান্না শুনিয়া সকলের চোখে পানি আসিল । কিন্তু সওদাগরের আত্মীয়-স্বজনেরা বলিল, “ও যে সওদাগরের ছেলে তার প্রমাণ কি ?” বালি তখন কান্না থামাইয়া বলিল, “আমার পিতা আমাদের দেশে যাইয়া আমার মাকে বিবাহ করিয়াছিলেন । তারপর এদেশে আসিয়া আমাদের খবর লন নাই। আমি বিদেশী লোক । প্ৰমাণ কোথায় পাইব ? মৌলবি সাহেবেরা বলেন, মরা ব্যক্তির জান তার কবরের মধ্যে লুকাইয়া থাকে। আপনজনের ডাকে তাহারা কখনও কখনও গায়েবি আওয়াজ করিয়া থাকেন। আসুন আপনারা আমার সঙ্গে । বাপজানের কবরের কাছে যাইয়া একবার তাহাকে ডাক দেই। যদি তিনি কথা বলেন, তবে প্রমাণ হইবে আমি তাঁর সত্যিকার ছেলে ।” একথা শুনিয়া সকলেই রাজি হইল। কবরের কাছে আসিয়া বালি ডাক ছাড়িয়া কাঁদিতে লাগিল, “বাপজানগো! তুমি মরিয়া গিয়াছ। আমাকে কিছু দিয়া যাও নাই। আমি যদি তোমার সত্যিকার ছেলে হই, তবে আমার ডাকে সাড়া দাও।” গাঁয়ের লোকেরা অবাক হইয়া শুনিল, কবরের ভিতর হইতে গোঁ গোঁ আওয়াজ হইতেছে। বালি তখন বলিল, “বাপজানগো ! তোমার টাকা-পয়সা সকলে ভাগ করিয়া লইয়াছে । আমার কিছুই নাই । আমাকে কিছু দিয়া দাও ।” কবরের ভিতর হইতে ধূলি আওয়াজ করিল, “ও আমার সত্যিকার ছেলে। তোমরা ওকে সাত ছালা টাকা দাও। নতুবা তোমাদের খুব খারাপ হইবে।” সওদাগরের আত্মীয়-স্বজনেরা গ্রামবাসীদের সঙ্গে পরামর্শ করিয়া বালিকে সাত ছালা টাকা দিয়া দিল। সেই টাকা গনিয়া গাঁথিয়া ছালায় পুরিয়া একটা গরুর গাড়িতে বোঝাই করিয়া বালি বাড়ি রওয়ানা হইল । ধূলি কবরের মধ্যেই পড়িয়া রহিল। একবারও বালি তাহার কথা মনে করিল না। দুপুরবেলায়, যখন কবরের কাছে কোনো জনমানব নাই, সেই সময় ধূলি কবর হইতে উঠিয়া জানিল, বালি আগেভাগেই টাকা লইয়া চলিয়া গিয়াছে । সে তখন শহরের দোকান হইতে খুব দামি একজোড়া জরির জুতা কিনিল ; তারপর যে পথ দিয়া বালি গরুর গাড়ি লইয়া গিয়াছিল, তাহারই চাকার দাগ দেখিয়া দৌড়াইতে লাগিল । অল্পক্ষণের মধ্যে সে বালির কাছাকাছি আসিয়া পৌঁছিল এবং অন্য পথে ঘুরিয়া দৌড়াইয়া তার খানিকটা সামনে যাইয়া একখানা জরির জুতা পথের মধ্যে রাখিয়া দিল । তারপর আরও মাইল খানেক

গোপালের পড়া
বিখ্যাতদের লেখা, বিখ্যাতদের লেখা গল্প, হাসির গল্প

গোপালের পড়া

গোপালের পড়া সুকুমার রায় দুপুরের খাওয়া শেষ হইতেই গোপাল অত্যন্ত ভালোমানুষের মতন মুখ করিয়া দু-একখানা পড়ার বই হাতে লইয়া তিনতলায় চলিল। মামা জিজ্ঞাসা করিলেন, কিরে গোপলা, এই দুপুর রোদে কোথায় যাচ্ছিস? গোপাল বলিল, তিনতলায় পড়তে যাচ্ছি। মামা: পড়বি তো তিনতলায় কেন? এখানে বসে পড় না। গোপাল: এখানে লোকজন যাওয়া-আসা করে, ভোলা গোলমাল করে, পড়বার সুবিধা হয় না। মামা: আচ্ছা, যা মন দিয়ে পড়গে। গোপাল চলিয়া গেল, মামাও মনে মনে একটু খুশি হইয়া বলিলেন, যাক, ছেলেটার পড়াশুনোয় মন আছে। এমন সময় ভোলাবাবুর প্রবেশ বয়স তিন কি চার, সকলের খুব আদুরে। সে আসিয়াই বলিল, দাদা কই গেল? মামা বলিলেন, দাদা এখন তিনতলায় পড়াশুনা করছে, তুমি এইখানে বসে খেলা কর। ভোলা ততক্ষনাৎ মেঝের উপর বসিয়া প্রশ্ন আরম্ভ করিল, দাদা কেন পড়াশুনা করছে, পড়াশুনা করলে কি হয়? কি করে পড়াশুনা করে? ইত্যাদি। মামার তখন কাগজ পড়িবার ইচ্ছা, তিনি প্রশ্নের চোটে অস্থির হইয়া শেষটায় বলিলেন, আচ্ছা ভোলাবাবু, তুমি ভোজিয়ার সঙ্গে খেলা কর গিয়ে, বিকেলে তোমায় লজেঞ্চুস এনে দেব। ভোলা চলিয়া গেল। আধঘণ্টা পর ভোলাবাবুর পুনঃপ্রবেশ। সে আসিয়াই বলিল, মামা, আমিও পড়াশুনা করব। মামা বলিলেন, বেশ তো আর একটু বড় হও, তোমায় রঙচঙে সব পড়ার বই কিনে এনে দেব। ভোলা: না সেরকম পড়াশুনা নয়, দাদা যে রকম পড়াশুনা করে সেইরকম। মামা: সে আবার কি রে? ভোলা: হ্যাঁ, সেই যে পাতলা-পাতলা রঙিন কাগজ থাকে আর কাঠি থাকে, আর কাগজে আঠা মাখায় আর তার মধ্যে কাঠি লাগায়, সেই রকম। দাদার পড়াশুনার বর্ণনা শুনিয়া মামার চক্ষু স্থির হইয়া গেল। তিনি আস্তে আস্তে পা টিপিয়া টিপিয়া তিনতলায় উঠিলেন, চুপি চুপি ঘরের মধ্যে উঁকি মারিয়া দেখিলেন, তাঁর ধনুর্ধর ভাগ্নেটি জানালার সামনে বসিয়া একমনে ঘুড়ি বানাইতেছে। বই দুটি ঠিক দরজার কাছে তক্তপোশের উপর পড়িয়া আছে। মামা অতি সাবধানে বই দুখানা দখল করিয়া নিচে নামিয়া আসিলেন। খানিক পরে গোপালচন্দ্রের ডাক পড়িল। গোপাল আসিতেই মামা জিজ্ঞাসা করিলেন, তোর ছুটির আর কদিন বাকি আছে? গোপাল বলিল,আঠারো দিন। মামা: বেশ পড়াশুনা করছিস তো? না কেবল ফাঁকি দিচ্ছিস? গোপাল: না, এইতো এতক্ষণ পড়ছিলাম। মামা: কি বই পড়ছিলি? গোপাল: সংস্কৃত। মামা: সংস্কৃত পড়তে বুঝি বই লাগে না? আর অনেকগুলো পাতলা কাগজ, আঠা আর কাঠি নিয়ে নানা রকম কারিকুরি করার দরকার হয়? গোপালের চক্ষু তো স্থির ! মামা বলে কি? সে একেবারে হতভম্ব হইয়া হাঁ করিয়া মামার দিকে তাকাইয়া রহিল। মামা বলিলেন, বই কোথায়? গোপাল বলিল, তিনতলায়। মামা বই বাহির করিয়া বলিলেন, এগুলো কি? তারপর তাহার কানে ধরিয়া ঘরের এক কোণে বসাইয়া দিলেন। গোপালের ঘুড়ি লাটাই সুতো ইত্যাদি সরঞ্জাম আঠারো দিনের জন্য মামার জিম্মায় বন্ধ রহিল। লেখা ও ছবি: সংগৃহীত বাংলা গল্প

স্মেল রেকর্ডার
গল্প, প্রযুক্তি ও সাহিত্য, সায়েন্স ফিকশন

স্মেল রেকর্ডার

স্মেল রেকর্ডার প্রিন্স মাহমুদ হাসান ১. রেকর্ডার. খুন… রেকর্ডার. চারপাশে হট্টগোল। প্রফেসর শামসুজ্জোহা দুষ্কৃতকারীর হাতে নৃশংসভাবে খুন হয়েছেন। কখন খুন হয়েছেন তা কেউ কিছুই জানে না । সকাল বেলায় ধান খেতে ওনার লাশটি পড়ে থাকতে দেখে স্থানীয় লোকজন পুলিশকে খবর দেয়। পুলিশ এসে মৃতদেহ তুলে নিয়ে গেছে। শামসুজ্জোহা ছিলেন খুবই ভদ্র লোক। তার কোন শত্রু থাকতে পারে তা কারোই ধারণা ছিল না। পুলিশ সন্দেহভাজন কয়েকজনকে জিজ্ঞাসাবাদ করলেও কোন কূল কিনারা করতে পারছে না। প্রফেসর শামসুজ্জোহা বিজ্ঞানী হিসেবে সমাদৃত ছিলেন। গবেষণার পিছনে সময় দিতে গিয়ে বিয়ের কাজটিও সম্পন্ন করতে পারেননি। পুরো দেশজুড়ে ওনার মৃত্যুর খবর ছড়িয়ে পড়েছে। টেলিভিশন, পত্রিকা, রেডিও সব জায়গাতেই ওনার চাঞ্চল্যকর মৃত্যুকে ঘিরে নানা ধরণের সংবাদ প্রকাশিত হতে থাকলো। কিছুদিন যেতেই আস্তে আস্তে সবাই যেন ঝিমিয়ে পড়লো। অন্যান্য মৃত্যু সংবাদের মত ওনার মৃত্যু সংবাদটাও স্বাভাবিক বিষয় হয়ে দাঁড়াল। ওনার কথা এখন আর কেউ সেভাবে তুলে ধরছে না।  সবাই যেন তাঁকে ভুলতে শুরু করলো। ততদিনে প্রফেসর ইসমাইল হুসেন বিজ্ঞানী হিসেবে পুরো বিশ্বে সমাদৃত হয়ে গেছেন। ইসমাইল হুসেন এমন একটি যন্ত্র তৈরি করেছেন যার দ্বারা অডিও বা ভিডিও কলের মত স্মেল বা গন্ধকে রেকর্ড করে রাখতে পারে। এই যন্ত্র দ্বারা কারও প্রিয় গন্ধকে ধারণ করে যেকোন সময় অবিকল সেই গন্ধটিই ফিরে পাওয়া সম্ভব। যা সহজে ধ্বংস হবে না, যখন খুশি তখনই স্নেল রেকর্ডার চালু করলেই হলো। প্রফেসর ইসমাইল হুসেন বাণিজ্যিকভাবে যন্ত্র তৈরি করার সিদ্ধান্ত নিলেন এবং সিদ্ধান্ত মোতাবেক কাজ শুরু করে দিলেন। স্নেল রেকর্ডার বিক্রয় করে তিনি অল্প সময়ের ব্যবধানে বিজ্ঞানী থেকে ধনকুবের ব্যবসায়ী হয়ে ওঠলেন। তার কারখানায় এখন বেশ কয়েকশো লোক কাজ করে। মো: হামিদ ছিলেন কর্মীদের মধ্যে অন্যতম একজন। তিনি ছিলেন অত্যন্ত সৎ, মেধাবী এবং ধুরন্ধর। তার আরেকটি পরিচয় হলো তিনি প্রফেসর শামসুজ্জোহার ছাত্র। তবে বিষয়টি ইসমাইল হুসেনের অজানা ছিল। হামিদ প্রফেসরের খুনকে স্বাভাবিকভাবে মেনে নিতে পারেননি। প্রফেসর শামসুজ্জোহার খুনের পিছনে তার সন্দেহের তীর প্রফেসর ইসমাইলের দিকেই। ২.  হাশেম মিয়া প্রফেসর ইসমাইল হুসেনের একজন বিশ্বস্ত গৃহকর্মী। ইসমাইল হুসেনের বাড়ির সমস্ত খুঁটিনাটি ছিল তার নখদর্পণে, শুধু একটি মাত্র ছোট কক্ষ ছাড়া। যে কক্ষে প্রফেসর তার সারাদিন-রাত ব্যয় করেন। ইসমাইলের বাড়িতে আসা যাওয়ার সূত্র ধরে মো: হামিদের সাথে হাশেম মিয়ার ভালো সখ্যতা গড়ে ওঠে। হাশেম মিয়ার সব কিছুতেই জানার খুব আগ্রহ। বিষয়টি হামিদের নজরে পড়তে বেশিদিন সময় ব্যয় করতে হয়নি। তাই হামিদ চিন্তা করলেন হাশেম মিয়ার এই আগ্রহটাকেই কাজে লাগাবেন। ইদানিং প্রফেসর ইসমাইল হামিদকে সবার চেয়ে বিশ্বস্ত ভাবা শুরু করেছেন যা ছিল হামিদের পরিকল্পনার একটি অংশ। আসল ঘটনা বিভিন্ন প্রয়োজনে প্রফেসরের বাসায় হামিদের আসা যাওয়া করতে হয়। আর হামিদ সেই সুযোগেরই অপেক্ষায় ছিলেন। বাসায় আসা যাওয়ার সূত্র ধরে হাশেম মিয়ার সাথে আন্তরিকতা বাড়াতেও দক্ষতার ছাপ রাখেন মোঃ হামিদ। এভাবে আরও বেশ কয়েক বছর সব স্বাভাবিকভাবে চলতে থাকলো। একদিন প্রফেসর ইসমাইল ভুল করে তার চশমা বাসায় ফেলে আসেন । তিনি চশমা আনার জন্য হামিদকে তার বাসায় পাঠান। হামিদ হাশেমকে চশমা খুঁজে আনতে বলে ড্রইং রুমে বসলেন। ড্রইং রুমে বসতেই তার চোখ-মুখে যেন আনন্দের ঢেউ বয়ে গেলো। ড্রইংরুমের সোফার কাছে প্রফেসরের চশমাটি পড়েছিল। চশমাটির ঠিক পাশেই একটি চাবি চকচক করতে লাগলো। হামিদ চশমাটি দ্রুত লুকিয়ে ফেললেন আর চাবিটা টি-টেবিলের ওপর রেখে দিলেন। চশমা খোঁজার ছুতোয় মোঃ হামিদ হাশেমকে নিয়ে প্রফেসরের সেই গোপনীয় কক্ষে প্রবেশ করলেন। কক্ষে প্রবেশ করার পরপরই তারা অবাক হয়ে গেলেন। কক্ষ খোলার সাথে সাথেই সুগন্ধির গন্ধে তাদের প্রাণ জুড়িয়ে গেলো। তবে মো: হামিদের কাছে ঘ্রাণটি খুবই পরিচিত মনে হলো। হামিদের মনে হচ্ছিল প্রফেসর শামসুজ্জোহা যেন তার কাছেই দাঁড়িয়ে আছেন। হাশেমের নজর এড়িয়ে হামিদ পকেট থেকে একটি রুমাল বের করে একটি অব্যবহৃত বোতলের ছিপি পকেটে লুকিয়ে ফেললেন। তিনি মনে করেন এই ছিপিটিই প্রফেসর শামসুজ্জোহার আসল খুনিকে পাইয়ে দেবে। হয়তো তিনি যা ধারণা করছেন তা-ই সঠিক। আবার না-ও হতে পারে। হাশেম চশমা খুঁজতে ব্যর্থ হয়ে যখন কক্ষ থেকে বের হতে যাচ্ছিল তখনই হামিদের চতুরতায় হাশেম চশমাটির সন্ধান পায়। তবে তা হামিদের পকেটে নয়, কক্ষের এক কোণে আধখোলা অবস্থায় চশমাটি পড়েছিল। চশমাটি হাতে পাওয়ার সাথে সাথেই হাশেম দ্রুত কক্ষটি লাগিয়ে ফেললেন। ৩. হামিদ রাতে কাজ শেষে বাসায় এসে প্রফেসর ইসমাইলের বাসা থেকে পাওয়া বোতলের ছিপিটি একটি বাল্বের সামনে রেখে পুঙ্খানুপুঙ্খ দেখতে লাগলেন। তিনি খেয়াল করলেন ছিপিটির একপাশে সামান্য ক্ষয়প্রাপ্ত। প্রফেসর শামসুজ্জোহার কক্ষ থেকে উদ্ধারকৃত একটি বোতল হাতে নিয়ে পরখ করতেই হামিদ চমকে উঠলেন। বোতলের গায়ে দাগ পর্যবেক্ষণ করে বোঝা যায় ছিপিটা এই বোতলেরই। তিনি স্পষ্ট বুঝতে পারলেন প্রফেসর শামসুজ্জোহার সাথে প্রফেসর ইসমাইলের কোন যোগসূত্র আছে। পরদিন প্রফেসর ইসমাইল পুলিশের হাতে গ্রেফতার হতেই কারও বুঝতে বাকি রইল না যে প্রফেসর শামসুজ্জোহার আসল খুনি কে। জানা যায় বেশ কিছুদিন আগে প্রফেসর শামসুজ্জোহা এক জায়গায় একটি ব্যাগ পড়ে থাকতে দেখেছিলেন। তিনি ব্যাগের মালিককে খুঁজে ব্যাগ বুঝিয়ে দিতে গেলেই বাঁধে বিপত্তি। ব্যাগটি আর কারও নয়, ব্যাগটি ছিল প্রফেসর ইসমাইলের। ইসমাইল চাননি তার আবিষ্কারের পেটেন্ট সম্পর্কে আগে থেকেই কেউ কিছু জেনে যাক। প্রফেসর ইসমাইলের সন্দেহ হতে থাকলো এই ব্যাগটি যিনি পেয়েছিলেন তিনি নিশ্চয়ই তার আবিষ্কার সম্পর্কে কিছু না কিছু জেনে গেছেন। না হলে উনি কী করে ইসমাইলের হদিস পাবেন। তার উপর যিনি পেয়েছিলেন তিনিও একজন বিজ্ঞানী। তাই প্রফেসর ইসমাইলের মাথায় খুনের ইচ্ছা চেপে বসল। তবে দু’টি বিষয় হামিদের মাথায় খটকা লাগলো। ইসমাইল প্রফেসর শামসুজ্জোহাকে মারার উদ্দেশ্যে পিস্তল চালালেও তিনি তার বুকে দূর থেকে একটি মাত্রই গুলি করেছেন। গুলি ভেদ করার পর প্রফেসর শামসুজ্জোহাকে পড়ে যেতে দেখেই তিনি দ্রুত পালিয়ে যান। তাহলে শামসুজ্জোহার শরীরে যে আঘাতের চিহ্ন সেগুলো আসলো কীভাবে! স্মেল রেকর্ডার যে প্রফেসর ইসমাইল আবিষ্কার করেছেন সে বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই। তাহলে যে বোতলটি খুনিকে পাইয়ে দিলো সেটিই বা ইসমাইলের বাসায় আসলো কীভাবে? বাংলা গল্প

বিকেল বেলা খুশির মেলা
গল্প, নির্বাচিত লেখা, শিশু সাহিত্য

বিকেল বেলা খুশির মেলা

বিকেল বেলা খুশির মেলা স্বপনকুমার রায় বিকেল বেলা খুশির মেলা জল টলটল ঢেউ তিরতির একটা নদীর তীরে। সেই নদীকে ঘিরে, আজকে আমার গল্প। বলতে পারো গল্পটাতে মজা আছে, দুঃখ আছে অল্প। নদীর তীরে কী যেন এক গ্রাম। জানা নেই তার নাম। থাক না ওসব, কী আসে যায় তাতে। সেই গ্রামে তো সূর্য ওঠে, ফুটফুটে চাঁদ জোছনা ছড়ায় রাতে। গ্রামের মাঝে বিশাল মাঠ নরম ঘাসে ঢাকা। চারদিকে তার গাছগাছালি সবুজ রঙে আঁকা। বিকেল হলে সেই সে মাঠে বসে খুশির মেলা। সারা গ্রামের ছোটরা এসে করে নানান খেলা। কেউ খেলছে কানামাছি, কেউ খেলছে বউ-বসন্তি কেউবা রুমাল চুরি। কেউ খেলছে কুমির-ডাঙা কেউ ওড়াচ্ছে ঘুড়ি। হা-ডুডু, কেউ রবারের ছোট বল। সারা মাঠ জুড়ে কেবল খুশির ঢল। বন্ধুরা বল খেলার জন্য দুটো দলে ভাগ করে নিল। তাতাই বিল্টুরা একটা দল আর বিতানরা একটা দল। দু’দল মিলে খেলছিল সেই বল। খেলতে খেলতে কষ্ট হলে তাতাই মাঠের পাশে, হাঁপিয়ে উঠে বসল গিয়ে ঘাসে। এদিকে, বল নিয়ে ছুটতে ছুটতে বিল্টু গিয়ে যেই দিয়েছে গোল, তাতাই দেখে ঘাসের মধ্যে ফড়িং খোকাদের ‘গোল হয়েছে, গোল হয়েছে’ বলে, আনন্দেতে কতই কলরোল। গুবরে পোকারা ছিলো বিতানদের পক্ষে। বিতানদের টিম গোল খেয়েছে। এখন নেই তো তাদের রক্ষো ফড়িংয়ের দলের সে কী টিটকিরি। নানা রকম ছিরি। হাসতে হাসতে নাচতে নাচতে করছে কতই ভঙ্গি। যত ছিল ফড়িং দলের সঙ্গী। গুবরের মুখে চুন, লজ্জায় রাগে মুখ লাল। সময় আছে, বিতানের দল এখনই ছাড়বে কেন হাল? এবারে বিতানের দল খুব সিরিয়াস। উরিব্বাস। বল নিয়ে ছুটছে জোরে, আরও জোরে, করছে পাস। কী নিখুঁত! আরে ধুৎ! বিকেল বেলা মজার খেলা পাস্ ভুল, বল আবার বিল্টুদের পায়ে। জমে উঠেছে খেলা, আজকে বিকেলবেলা। এদিকে ফড়িং আর গুবরে, পড়বে কে মুখ থুবড়ে? কাদের হবে জিৎ? দেখছে তাতাই, পাচ্ছে মজা। ওদের মাঝে ঘাসে বসে সে-ই তো উপস্থিত। ওদিকে উঠছে ঘুড়ি আকাশ নীলে। বউ-বসন্তি, রুমাল চুরি খেলছে ওরা সবাই মিলে। এদিকে ছোট রবারের বলে বিল্টু আর বিতানদের জেতার লড়াই চলে। চলছে লড়াই আরও। গুবরে আর ফড়িং-দের মধ্যে সেটাও বলতে পারো। ক্রমে ক্রমে বল খেলা উঠেছে জমে। বল আবার বিতানদের দখলে গেছে এসে। দেখা যাক কী হয় শেষে! চলছে দারুন লড়াই। গুবরে বলে ওরে ফড়িং করিস না আর বড়াই। এক্ষুনি দেখ শোধ হবে তোর গোল। সবুর কর না পাল্টে দেব তোদের মুখের বোল! টানটান উত্তেজনা। সারা মাঠ জুড়ে ছোটদের আনাগোনা। বল একবার বিতানদের কাছে তো একবার বিল্টদের কাছে। খেলার সময় যত হয়ে আসছে শেষ। সবার মধ্যে ততই যেন বাড়ছে ব্যস্ততার রেশ। রুমাল চুরি খেলায় কে হবে চোর! কুমির-ডাঙায় কে হবে কুমির! বউ বসন্তি খেলায় জিতবে কারা, তা নিয়েও চলছে লড়াই জোর। এদিকে বিতান মাঝমাঠে বল পেয়েছে নিজে। কাটিয়ে নিয়ে এক একজনকে ছুটছে জোরে কী যে। তারপর গোলের কাছে গিয়ে মারলো যেই শর্ট, হয়ে গেল গোল। গুবরে পোকার মনে তখন খুশির কলরোল। বিকেল বেলা বিল্টু রেগে গিয়ে বলটাকে বিল্টু মারল জোরে। বলটা গিয়ে পড়ল মাঠের প্রান্তে। যেখানে ছিল গুবরে পোকার দল, পারল না কেউ জানতে। বলের আঘাতে একটা গুবরে পোকার পায়ে লাগলো ভীষণ চোট। প্রচন্ড যন্ত্রণা, কি হবে এবার। বলছে সবাই ডাক্তারের কাছে ছোট। ফড়িংদের মধ্যে ছিল একজন ডাক্তার-ফড়িং। সে এই অবস্থা দেখে ছুট্টে গিয়ে কী সব ঘাসপাতা নিয়ে জাব বানালো চিবিয়ে চিবিয়ে। তারপর গুবরের পায়ে দিল লাগিয়ে। কিছুক্ষণের মধ্যে গুবরে উঠলো সেরে। সবার মনে তখন আবার খুশির হাওয়া ফেরে। খেলা শেষ হয়েছে। বিতান ও বিল্টু দু’দলের মনই খুশি, যেন ভাই-ভাই। কিন্তু তাতাই! সে ফড়িং আর গুবরেদের কান্ড দেখছিল। আর অবাক হচ্ছিল। একটু আগে যারা ছিল বিপক্ষ, ছিল দলাদলি। কেমন করে বলি, যখন বিপদ এলো গুবরে পোকার, তখন কে ফড়িং আর কে গুবরে। সবাই তো পোকা। ওরা কী আর মানুষের মত বোকা ! তাই মিলেমিশে একাকার। ফড়িং এলো গুবরেকে সারিয়ে তুলতে। তাতাই দেখে অবাক, পারছে না এই দৃশ্যটাকে ভুলতে। ভাবছে, মানুষের মধ্যে যদি এমন সম্ভাব থাকতো, তবে হতো কি এত বিবাদ, এত ধ্বংস? বিশ্বজুড়ে হাসত সবাই খুশির খেলায় সবাই নিত অংশ….. বাংলা গল্প

Scroll to Top