এক থালা ভাত
আহমেদ কিবরিয়া
ইদের দিন সকালের কথা। ভাইদের সাথে নামাজ পড়ে বাসায় আসলো রাহাত। বাড়ির বড়রা কুরবানির জন্য ব্যস্ত।
রাহাত অসুস্থ থাকায় এগুলোর ধারের কাছে গেলো না। বাড়ির কাজের লোকেরাই ভাই ও বড় আব্বুদের সাথে ছিলো।
রাহাত আম্মুর সাথে রান্নাঘরে গল্প করছিলো আর চা পান করছিলো।
আম্মু বললো, মাংস রান্না হতে হতে দুপুর গড়িয়ে যাবে। তুই কৈ মাছ ঝোল করেছি সেটা দিয়ে খা। রাহাত বাধ্য ছেলের মতো তাই করলো।
দিনটা এভাবে গেলো। সন্ধায়, শুরু হলো ভাবীর চেঁচামেচি। আম্মু কিছু বলছে না। ভাইয়া মন খারাপ করে বসে আছে।
সবাই খাচ্ছিল। রাহাত তখনও খায়নি। মানে তার রুচি ছিল না। জ্বর হলে যা হয়।
হঠাৎ চাচী এসে জোর করে বাসায় নিয়ে গেলো খাওয়ার জন্য। গেলো আর অল্প করে খেয়ে চলে আসলো। কিছুক্ষণ পর, ভাবী ডাকলো, ভাত খাবা না।
রাহাতের উত্তর-না।
-কেন খাবে না?
-রুচি নাই।
-খেতে হবে আমি বলছি।
-না খাবো না প্লিজ।
-তুই খাবি, তোর ভাই বলেছে তাই তোকে খেতে হবে।
ভয়ে ভাত খেলো রাহাত। ভাবীর দিকে খেয়াল করলো সে। উনার মুখে ছিল বন্য পরিহাস আর তাচ্ছিল্য।
রাতে শুরু হলো অস্বাভাবিক খারাপ লাগা। বমি বমি ভাব, গলা জ্বলে যাচ্ছিল, চোখে ঝাপসা দেখছিলো সে।
মা রুমে এসে দেখে, প্রচুর খিচুনী হচ্ছে রাহাতের। আম্মু তাড়াতাড়ি ওকে টক আচার আর কি যেনো একটা গাছের পাতা খাইয়েছিলেন। ফলে ওর অনেক বমি হয় আর একটু সুস্থ ফিল করে।
সেদিন সারা রাত আম্মু ঘুমায়নি। রাহাতের পাশে ছিলো আর দোয়া পড়ে ফুঁ দিচ্ছিলো। মজার ব্যাপার এই বিষয়টি বাসার কেউ জানতো না।
রাহাত আম্মুকে প্রশ্ন করলে আম্মু বলেছিলো, বাবা, ইনকাম করতে পারলে তোর একথালা ভাতের অভাব হবে না।
আজ ৪ বছরেরও বেশী সময় অতিবাহিত হয়েছে, আম্মু আর কখনও এসে বলবে না, খোকা ভাত খাবি না?
শুধু ওর অসুস্থ বাবা জামিল সাহেব একবার রুমে এসে নক করে বলেন, কিরে ভাত খাসনি খোকা?
খেয়ে নে বাবা, অনেক রাত হয়েছে। সারাদিন কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকিস । না খেলে টিকবি কিভাবে?
এখন রাহাত দু’বেলা নয় তিন বেলায়ই ভাত খায় কিন্তু একা একা। খাওয়ার পর ছাদে যায়।
আকাশের দিকে তাকালে দেখতে পায়, অনেক তারকা মিটমিট করে জ্বলছে। একটা শুকতারা যেনো ওর দিকে তাকিয়ে থাকে।
রাহাত আচমকা বলে উঠে, ওইতো! ওটাই আমার আম্মু। আম্মু কিছু বলতে চাইছে। মনে হয় বলছে, ভালো থাকিস
ইদের দিন সকালের কথা।
ভাইদের সাথে নামাজ পড়ে বাসায় আসলো রাহাত। বাড়ির বড়রা কুরবানির জন্য ব্যস্ত। রাহাত অসুস্থ থাকায় এগুলোর ধারের কাছে গেলো না।
বাড়ির কাজের লোকেরাই ভাই ও বড় আব্বুদের সাথে ছিলো। রাহাত আম্মুর সাথে রান্নাঘরে গল্প করছিলো আর চা পান করছিলো।
আম্মু বললো, মাংস রান্না হতে হতে দুপুর গড়িয়ে যাবে। তুই কৈ মাছ ঝোল করেছি সেটা দিয়ে খা। রাহাত বাধ্য ছেলের মতো তাই করলো।
দিনটা এভাবে গেলো। সন্ধায়, শুরু হলো ভাবীর চেঁচামেচি। আম্মু কিছু বলছে না। ভাইয়া মন খারাপ করে বসে আছে।
সবাই খাচ্ছিল। রাহাত তখনও খায়নি। মানে তার রুচি ছিল না। জ্বর হলে যা হয়। হঠাৎ চাচী এসে জোর করে বাসায় নিয়ে গেলো খাওয়ার জন্য। গেলো আর অল্প করে খেয়ে চলে আসলো। কিছুক্ষণ পর, ভাবী ডাকলো, ভাত খাবা না।
রাহাতের উত্তর-না।
-কেন খাবে না?
-রুচি নাই।
-খেতে হবে আমি বলছি।
-না খাবো না প্লিজ।
-তুই খাবি, তোর ভাই বলেছে তাই তোকে খেতে হবে।
ভয়ে ভাত খেলো রাহাত। ভাবীর দিকে খেয়াল করলো সে। উনার মুখে ছিল বন্য পরিহাস আর তাচ্ছিল্য। রাতে শুরু হলো অস্বাভাবিক খারাপ লাগা।
বমি বমি ভাব, গলা জ্বলে যাচ্ছিল, চোখে ঝাপসা দেখছিলো সে। মা রুমে এসে দেখে, প্রচুর খিচুনী হচ্ছে রাহাতের। আম্মু তাড়াতাড়ি ওকে টক আচার আর কি যেনো একটা গাছের পাতা খাইয়েছিলেন। ফলে ওর অনেক বমি হয় আর একটু সুস্থ ফিল করে। সেদিন সারা রাত আম্মু ঘুমায়নি। রাহাতের পাশে ছিলো আর দোয়া পড়ে ফুঁ দিচ্ছিলো।
মজার ব্যাপার এই বিষয়টি বাসার কেউ জানতো না। রাহাত আম্মুকে প্রশ্ন করলে আম্মু বলেছিলো, বাবা, ইনকাম করতে পারলে তোর একথালা ভাতের অভাব হবে না। আজ ৪ বছরেরও বেশী সময় অতিবাহিত হয়েছে, আম্মু আর কখনও এসে বলবে না, খোকা ভাত খাবি না? শুধু ওর অসুস্থ বাবা জামিল সাহেব একবার রুমে এসে নক করে বলেন, কিরে ভাত খাসনি খোকা? খেয়ে নে বাবা, অনেক রাত হয়েছে। সারাদিন কাজ নিয়ে ব্যস্ত থাকিস । না খেলে টিকবি কিভাবে?
এখন রাহাত দু’বেলা নয় তিন বেলায়ই ভাত খায় কিন্তু একা একা। খাওয়ার পর ছাদে যায়। আকাশের দিকে তাকালে দেখতে পায়, অনেক তারকা মিটমিট করে জ্বলছে। একটা শুকতারা যেনো ওর দিকে তাকিয়ে থাকে। রাহাত আচমকা বলে উঠে, ওইতো! ওটাই আমার আম্মু। আম্মু কিছু বলতে চাইছে। মনে হয় বলছে, ভালো থাকিস বাব।
আম্মুর কাছে খুব জানতে ইচ্ছে হয় রাহাতের, সেদিন রাতে কি হয়েছিলো? আর, তাকেই বা কেনো বমি করিয়েছিলো? এর উত্তর আজও পায়নি সে। আর পেতেও চায় না সে। আসলে জীবনের কিছু হিসেব-নিকেশ সময়ের সাথে সাথে ঘৃণার আস্তাকুঁড়ে নিক্ষিপ্ত হয় আর নোংরা মনের মানুষগুলো মানুষের ন্যায্য হককে বঞ্চিত করে তার প্রিয়ার সাথে জাগতিক সুখে লিপ্ত হয়ে ভুলে যায় জীবনের আসল উদ্দেশ্য। বৃদ্ধাশ্রম, আমার-তোমার
ভবিষ্যৎ, নারী অধিকার, শ্বশুরবাড়ি এসব টার্ম আমরাই সমাজে সৃষ্টি করি। হয়তোবা এভাবে চলছে, চলবে হাজার বছর ধরে….


