Author name: if0_39360873

কবিতা

আকাশলীনা

আকাশলীনা জীবনানন্দ দাশ সুরঞ্জনা, ওইখানে যেওনাকো তুমি, বোলোনাকো কথা ওই যুবকের সাথে; ফিরে এসো সুরঞ্জনা: নক্ষত্রের রুপালি আগুন ভরা রাতে; ফিরে এসো এই মাঠে, ঢেউয়ে; ফিরে এসো হৃদয়ে আমার; দূর থেকে দূরে— আরো দূরে যুবকের সাথে তুমি যেওনাকো আর। কি কথা তাহার সাথে? তার সাথে! আকাশের আড়ালে আকাশে মৃত্তিকার মতো তুমি আজ: তার প্রেম ঘাস হ’য়ে আসে। সুরঞ্জনা, তোমার হৃদয় আজ ঘাস: বাতাসের ওপারে বাতাস— আকাশের ওপারে আকাশ।     কবিতা-রাত্রি

কবিতা, নির্বাচিত লেখা

রাত্রি

রাত্রি অমিয় চক্রবর্তী অতন্দ্রিলা, ঘুমোওনি জানি তাই চুপিচুপি গাঢ় রাত্রে শুয়ে বলি,শোনো, সৌরতারা ছাওয়া এই বিছানায় -সূক্ষ্মজাল রাত্রির মশারি- কত দীর্ঘ দু-জনার গেল সারাদিন, আলাদা নিঃশ্বাসে – এতক্ষণে ছায়া-ছায়া পাশে শুই কী আশ্চর্য দু-জনে দু-জনা – অতন্দ্রিলা, হঠাৎ কখন শুভ্র বিছানায় পড়ে জ্যোৎস্না, দেখি তুমি নেই।       আধুনিক কবিতা

চুইং গামের যত উপকারি অপকারি দিক
নির্বাচিত লেখা

চুইং গামের যত উপকারি অপকারি দিক

চুইং গামের যত উপকারি অপকারি দিক  প্রিন্স মাহমুদ হাসান চুইং গাম চিবোতে কার না ভাল লাগে? এটিকে ঘিরে অনেকের মধুর শৈশব জড়িত। ছোটদের মধ্যে অনেকেই চুইং গাম চিবিয়ে বেলুনের মত ফুলাতে পছন্দ করে বা ফোলানোর প্রতিযোগিতা করে। সারা বিশ্বে ছোট থেকে বড় প্রায় সবারই প্রিয় তালিকায় বিভিন্ন রং ও স্বাদের চুইং গাম আছে। খেলোয়াড়দের বিভিন্ন সময় চুইং গাম চিবানোর দৃশ্য দেখে আমরা অভ্যস্ত। তবে চুইং গাম কীভাবে এল সে বিষয়ে অনেকেরই ধারণা নেই। চুইং গাম আজকাল যেভাবে মজাদার ও সুদগন্ধযুক্ত খাবার হিসেবে বিবেচনা করা হয় কিন্তু এক সময় ঠিক সেভাবে বিবেচিত ছিল না। শুরুতে চুইং গাম দাঁত পরিষ্কারক, জীবাণু নাশক বা ঔষধ হিসেবে ব্যবহৃত হত। ধারণা করা হয় কমপক্ষে পাঁচ থেকে নয় হাজার বছর পূর্বে যখন মানুষ পাথর, কাঠ ও হাঁড় দিয়ে অস্ত্র তৈরি করা শিখে ঠিক তখন অর্থাৎ প্রস্তর যুগে মানুষ চুইং গামের ব্যবহার করতে শিখে। তখন চুইং গাম তৈরি হতো বিশেষ কিছু গাছের আঠা বা কষ থেকে। ফিনল্যান্ডের ইলি এলাকায় সুদৃশ্য গাছ হিসেবে বিবেচিত বার্চ নামক পর্ণমোচী গোষ্ঠীর অন্তর্গত এক ধরণের গাছের আঠা থেকে তৈরি সেই সময়ের চুইং গামে দাঁতের ছাপের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে। যা প্রস্তর যুগে চুইং গামের অস্তিত্বের কথা জানান দেয়। প্রাচীণ গ্রিসসহ বিভিন্ন দেশে চুইং গাম তৈরি হত বৃক্ষ, ঘাস ও রজনের নির্যাস, সফেদা গাছের কষ, ম্যাসটিক গাছের রজন দিয়ে। তারপর লেবাননে সুগন্ধযুক্ত চুইং গামের ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়। যা ছিল তুমুল জনপ্রিয়। বর্তমান সময়ে আমরা যে ধরণের চুইং গাম খাচ্ছি তা মূলত তৈরি হচ্ছে বিভিন্ন ধরণের কেমিক্যাল ও অভোজ্য উপাদানের সমন্বয়ে। চুইং গাম চিবোলে দাঁতের ক্ষয় রোধ হওয়ার পাশাপাশি দাঁতের গর্ত তৈরি থেকে রক্ষা পাওয়া যায়। এটি ক্যালোরি বার্ন করে ওজন কমানোর পাশাপাশি মস্তিষ্ককে উদ্দিপিত করে মানসিক প্রশান্তি বাড়ায়, নিশ্বাসের দুর্গন্ধ কমায়, দাঁতের হলুদ ভাব দূর করে ও ক্ষুধা ভাব কমায়। চুইং গামের যেমন অনেক উপকারি দিক আছে তার চেয়েও বেশি অপকারি দিক আছে। চুইং গাম বেশি খেলে স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ে। চুইং গাম বেশি খাওয়ার কারণে পেটে গ্যাসের সমস্যা, পেট ফুলে যাওয়া, রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি, মাইগ্রেন বা মাথাব্যথা, শ্বাস কষ্ট, দাঁত ও মাড়ির ক্ষতিসহ বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। এখন অনেক চুইং গামে চিনির পরিবর্তে স্বাদের জন্য কৃত্রিম চিনি বা আর্টিফিশিয়াল সুইটনার অথবা অ্যাসিড ব্যবহার করা হয় যা ক্যানসারের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়। তাছাড়া যত্রতত্র চুইং গাম ফেলানোর কারণে এটি কাপড়, রাস্তা-ঘাট ও পরিবেশের অনেক ক্ষতি করে। আর ঠিক সে কারণেই সিঙ্গাপুরে সুইং গাম ক্রয়, বিক্রয় ও বাজারজাত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। সবার প্রিয় এই সুইং গাম চিবানোর আগে অবশ্যই ভেবে দেখা উচিৎ এটি কী কারণে খাওয়া হচ্ছে আর তা কতক্ষণ খাওয়া হবে এবং খাওয়ার পর তা কোথায় ফেলা হবে। (লেখাটি দৈনিক ইত্তেফাকে প্রকাশিত)

লালকমল নীলকমল Bangla Golpo
গল্প, শিশু সাহিত্য

লালকমল নীলকমল

লালকমল নীলকমল সুব্রত দাস তোমরা তোনকা কে চেনো ? ওই যে সেন বাড়ির সেই দুষ্টুমিস্টি ছেলেটা গো। যার ভালো নাম রাজর্ষি সেন। ক্লাস সেভেনে পড়ে। ওদের বাড়ির রান্নাঘরে দুই বন্ধু থাকে। একটির নাম লালকমল। আরেকটি নীলকমল। দুটির মধ্যে খুব ভাব। লালুটা পড়েই থাকে সারাদিন। ওই রান্নাঘরে। নীলুটাই বাইরে বেরোয়। রাত সাড়ে দশটার সময় তোনকার বাবা রতনবাবুকে নিয়ে ফিরে আসে নীলু। তোনকার বাবা ওষুধের দোকানে কাজ করেন। দুপুর একটায় যান। রাতে বাড়ি ফেরেন নীলকমলে চ’ড়ে। তারপর বাড়ির সবার খাওয়া দাওয়া হয়ে গেলে যখন লাইট নিভিয়ে শুয়ে পড়েন, তারপর দুই বন্ধুর গল্প শুরু হয় রান্নাঘরে। লালকমল সারাদিন কেমন মন খারাপ অবস্থার মধ্যে থাকে। কেনই বা হবেনা, সেই কবে থেকে রান্নাঘরে জুবুথুবু হয়ে পড়ে আছে সে। এক দিন বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে হঠাৎ ফটাস ক’রে পেছনের চাকা বাস্ট হয়ে গেল। বাড়ি ফিরতে দেরি হলো। কাজে যেতেও দেরি হলো সেদিন রতনবাবুর। যদিও সেদিন তোনকার স্কুলে যাওয়ার সাইকেল নিয়ে গিয়েছিলেন। সেই থেকে লালকমল রান্নাঘরে বন্দী। রোজকার মতো আজকেও ফিরে এলো নীলকমল। লালুর একটু ঝিমুনি এসেছিলো। ঝড়াং ক’রে লালুর গায়ে প’ড়ে বললো, “কি রে, ঘুমোলি নাকি ? শিগগিরি ওঠ্, তোর জন্যে সুখবর আছে ! “ও, তাই ?” লালু বললো, ” তা আজকের সুখবরটা কী, শুনি !” “আজ আমাদের গিন্নি মা কত্তাবাবুরে খুব ক’রে দু’টো কথা শুনিয়ে ছেড়েছে। দুই দিনের মধ্যে তোকে যদি কত্তাবাবু না সারিয়ে তোলেন, তো গিন্নিমা সোজা বাপের বাড়ি চ’লে যাবেন, তাও আবার তোনকাকে নিয়ে।” লালু, মানে লালকমল আনন্দে ব’লে উঠলো, “সত্যি বলছিস?” “ওরে বাবা, হ্যা রে, আর তুই তো জানিস কত্তাবাবু গিন্নিমা ছাড়া এক পাও চলতে পারে না। আচ্ছা ঠিক আছে, কালকেই সারিয়ে দেবো ব’লে আমায় নিয়ে দে ছুট!” ফস ক’রে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে লালু বললো, “রাখ তোর কত্তাবাবুর কথা, কতবারই সারাবার কথা উঠলো…. দেখবি এবারো ঠিক…..” লালুর মুখের কথা কেড়ে নিয়ে নীলু বললো, “নারে এবার ঠিক তোকে সারাবেই। গিন্নিমার রেগে যাওয়াতে কত্তাবাবু খুব ঘাবড়ে গিয়েছে। হারানের সাইকেলের দোকানে গিয়ে তোকে সারাবার জন্য কথা ব’লে এলো যে। দোকান থেকে এক ছোকরা কারিগর কাল সকালে তোকে নিতে আসবে।” লালু তো এসব শুনে আনন্দে আটখানা ! বাব্বা, কতদিন পর আবার লালু আগের মতো ঘুরে ফিরে বেড়াবে। কী যে আনন্দ হচ্ছে তার ! নীলুটা কি বুঝতে পারছে সব !     স্মেল রেকর্ডার-বাংলা গল্প  

শিশুতোষ গল্প রাতুলের বন্ধু
গল্প, শিশু সাহিত্য

রাতুলের বন্ধু

রাতুলের বন্ধু হুমায়ুন আবিদ রাতুল তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ে। স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা শেষ। স্কুল বন্ধ তাই সারাদিন পাড়ার বন্ধুদের সাথে খেলাধুলা আর হৈচৈ করে সময় কাটানোই এখন তার কাজ। রাতুল কয়েকদিন ধরে লক্ষ্য করছে একটি অচেনা মা কুকুর প্রতিদিন সকালে নাস্তার সময় এবং দুপুরে খাওয়ার সময় তাদের বাড়ির রান্না ঘরের সামনে এসে বসে থাকে। কেহো লাঠি দিয়ে আঘাত করলেও যায় না শুধু কু কু শব্দ করে, যেনো কিছু বলতে চায়। কুকুরটিকে খাবার মাটিতে দিলে খায় না কিন্তু কোন পলিথিন কিংবা শক্ত কোন প্যাকেটে দিলে তা মুখে নিয়ে দ্রুত কোথাই যেনো দৌড়ে চলে যায়। রাতুল মা কুকুরের এই অদ্ভুত আচরণের বিষয়টি নিয়ে খুব ভাবতে থাকে। রাতুল একদিন তার বন্ধু রানাকে মা কুকুরের অদ্ভুত আচরণের বিষয়টি খুলে বললে, রানা একটু চিন্তা করে  বললো, চল একদিন মা কুকুরের পেছন পেছন গিয়ে দেখি খাবারের প্যাকেট নিয়ে সে কোথাই যায়। রাতুল বললো, তাহলে আগামীকাল নাস্তার সময় আমাদের বাড়িতে চলে আয় তারপর দু’জন মিলে মা কুকুরের পেছন পেছন গিয়ে দেখবো সে কোথাই যায়। পরদিন যথাসময়ে রানা এসে হাজির হলে পরিকল্পনামত মা  কুকুরকে খাবারের প্যাকেট দিলো। মা কুকুর খাবারের প্যাকেটটি মুখে নিয়ে যখন দৌড়াতে লাগলো, চুপিচুপি রাতুল আর রানাও তখন মা ককুরের পেছন পেছন দৌড়াতে লাগলো। মা কুকুরটি এক সময় গ্রামের শেষ প্রান্তে রাস্তার পাশে একটি পুরোনো ভাঙ্গা বাড়ির মধ্যে ডুকে পড়লো। রাতুল আর রানাও সেই পুরনো ভাঙ্গা বাড়ির ভিতর ডুকে পড়লো। দু’জন মিলে খুঁজতে খুঁজতে দেখলো একটি পরিত্যক্ত ঘরের কোনার মধ্যে মা কুকুরটি  তার দুইটি ছোট বাচ্চাকে খাবারের প্যাকেট ছিড়ে দিচ্ছে আর বাচ্চা দুটোও মজা করে খাচ্ছে । হঠাৎ মা কুকুর রাতুল আর রানাকে দেখে কু কু করতে করতে লেজ নাড়াতে থাকলো। রাতুল আর রানা মা কুকুরের মাথায় হাত বুলিয়ে চলে এলো। নাদুসনুদুস সুন্দর কুকুরের বাচ্চাদের প্রতি রাতুলের বেশ মায়া পড়ে গেলো। বাড়ি ফেরার পথে রাতুল রানাকে বললো, এখানে কুকুরের বাচ্চাদুটো নিরাপদ না, শিয়াল যদি একবার খুঁজ পায় তাহলে বাচ্চাদুটোকে মেরে খেয়ে ফেলবে। রানা বললো, তাহলে কি করা যায়। রাতুল বললো, বাচ্চাদুটোকে যদি আমাদের বাড়িতে নিয়ে আসি তাহলে কেমন হয়। রানা বললো, খুব ভালো হয়। রাতুল এবং রানা ফিরে এসেই তাদের বাড়ির পেছনে একটি পরিত্যাক্ত জায়গায় পুরাতন ইট দিয়ে সুন্দর একটি ঘর তৈরী করলো। পুরাতন ইট দিয়ে ঘর তৈরী করতে দেখে রাতুলের আম্মু জিজ্ঞেস করলো, তোমরা এই ছোট্ট ঘর কিসের জন্য তৈরী করেছো। রাতুল বললো, জানো আম্মু আমাদের বাড়িতে সকালে এবং দুপুরে যে মা কুকুরটি এসে খাবার নিয়ে যায় তার না দুটো সুন্দর বাচ্চা আছে। রাস্তার পাশে পুরাতন ভাঙ্গা বাড়িতে তারা থাকে। সেখানে শিয়াল যদি খুঁজ পায় তবে বাচ্চাদুটোকে মেরে খেয়ে ফেলবে তাই এখানে নিয়ে আসবো। মা বললো, বাচ্চা আনার সময় যদি মা কুকুর তোমাদের কাঁমড়ে দেয়। রাতুল বললো, মা কুকুরটি যখন আমাদের বাড়ি থেকে খাবার নিতে আসবে তখন গিয়ে বাচ্চাদুটোকে নিয়ে আসবো। ও হ্যাঁ আমরা না আসা পর্যন্ত কিন্তু মা কুকুরকে খাবারের প্যাকেট দেবে না। পরদিন সকালের নাস্তার সময় মা কুকুরটি রাতুলদের বাড়িতে আসলে, রাতুল আর রানা দৌড়ে গিয়ে বাচ্চা দুটোকে নিয়ে আসে। তারপর খাবারের প্যাকেট দেখিয়ে মা কুকুরকে পুরাতন ইট দিয়ে তৈরী ঘরের সামনে নিয়ে আসে। মা কুকুরটি খাবারের প্যাকেট নিতে এসে বাচ্চাদের দেখে লেজ নাড়িয়ে কু কু করতে থাকে। তারপর থেকে বাচ্চাদুটো রাতুলদের বাড়িতেই বড় হতে থাকে। মা কুকুর এবং বাচ্চাদুটো রাতুলের খুব ভক্ত হয়ে যায়। রাতুল বাচ্চা দুটোর নাম দেয় রাজু এবং সাজু। রাতুল বাচ্চাদুটোকে রাজু, সাজু  বলে ডাকলেই দৌড়ে চলে আসে। রাতুল যেখানেই যায় রাজু-সাজু সেখানে গিয়ে হাজির হয়। রাজু- সাজু এখন পাড়ার বন্ধুদের মতোই রাতুলের খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধু।     গল্প

গল্প, শিশু সাহিত্য

পাখিদের মিতা

পাখিদের মিতা মোস্তাফিজুল হক   ভোর ছয়টা। দোয়েল শিস কাটছে। বাতাসে ফুলের সুবাস ছড়িয়ে পড়েছে। আলো ঝলমলে ভোর। তাই পাখিরাও সুর ধরেছে। চড়ুই, শালিক আর টুনটুনি কিচিরমিচির করছে। একটানা গেয়ে চলেছে ওরা। অপু একটা মাটির পেয়ালায় কিছু খুদ ঢেলে নিলো। তারপর বাগানে চলে গেল। খুদগুলো পাখিদের খাবার। রোজ সে এভাবেই খাবার ছিটিয়ে দেয়। তখন পাখিরা বাগানে নেমে আসে। চড়ুই, টুনটুনি, বুলবুলি, দোয়েল, বনছাতারে, হলদে পাখি এমনকি লাজুক ঘুঘুও নেমে আসে। তবে অপু ছাড়া আর কেউ থাকলে নামে না। তখন শুধু দোয়েল নামে। ফিঙেটার রাজকীয় ভাব। ওটা কখনও নামে না। ওটা যেন মাঠের রাজা। আয়েশ করে গরুছাগলের পিঠে বসে থাকে। তারপর উড়ে গিয়ে ফড়িং নয়তো পোকামাকড় ধরে। ভাবটা যেন এরকম- রাজা হয়ে কেন খুদকুঁড়ো খেতে যাব? অপু যেন পাখিদের ভাষা বোঝে। পাখিরাও হয়তো অপুকে বোঝে। তেজপাতা গাছের আড়ালে লুকিয়ে ডাকে ফটিকজল। ভীষণ চড়া গলা। চড়া হলেও খুব সুমধুর গলার সুর। অতটুকুন পাখি। টুনটুনির চেয়ে কিছুটা বড়। দুপুরে সুর ধরে গায়। তখন মনে হয় অপুকেই বলে, ‘কী খাইছ?’ আষাঢ়ের দুপুর। ভোরেই মেঘ ঝরেছে। তবে তাপ একটুও কমেনি। ভীষণ গরম। হাঁসফাঁস করছিল অপু। কদম গাছের ছায়ায় এসে বসল সে। হঠাৎ করেই ওর নজর পড়ল একটা পাখি। ‘ইস্! কী মায়াবী পাখি। টকটকে লাল ঠোঁট। বড় দুটো গোলগাল চোখ। সবুজ পালক। ভোঁতা ভোঁতা ঠোঁটে কিছুটা লাজুক লাজুক…’ ‘এই যে, আমাকে নিয়ে ভাবছো?’ অপু অবাক হয়ে মনে মনে বলল, ‘এ যে কথা বলা পাখি!’ এই অপু, আমি নেচে নেচে গোসল করব। দেখবে তুমি? অপুর গলা দিয়ে আওয়াজ বেরোয় না। বেরোবে কী? পাখিটা যে ওর নামও জানে। তাই সে অনেকটাই বোকা বনে গেছে। মুখে আওয়াজ না বেরুলেও মন বলেছে, ‘দেখাও দেখি! ওহ্! তোমার নামটাও তো জানা হলো না? আগে নামটা বলো।’ ‘আমি বৌরি। তোমাদের এই কদমগাছেই থাকি। খোঁড়লটা তো দেখাই যায়, তাই না? এই খোঁড়লে পানি জমেছে। এতেই আমি নেচে নেচে গোসল করব।’ পাখিটা দুটো ডুব দেয়। ডুব দিয়ে উঠে এসে ডালে বসে। পালক ঝাড়ে। ঠোঁট দিয়ে পালক ঘষে। তারপর আবারও ডোবাডুবি করে। এসব দেখে অপুর ভালো লাগে। সে মনে মনে বলে, ‘ভারী চমৎকার করে গোসল করলে তুমি।’ কেমন যেন আজব ঘটনা! অপু মনে মনে যা বলে, পাখিটা সে-ও বুঝে ফেলে। আর তাই পাখিটা বলে, ‘আমার গোসল করা দেখে তোমার ভালো লেগেছে জেনে খুশি হলাম। তুমিও তো গরমে ভিজে একদম জবজবে হয়ে গেলে। সাঁতার কেটে গোসলটা সেরে ফেলো? শরীর আর মন ফুরফুরে হবে। যাও ভাই।’ অপু ভাবলো, তাইতো। সাঁতার কেটে গোসল করলে গরমে কিছুটা আরাম পাওয়া যাবে। তারপর অপু চলে গেল ভাটিগাঙের ধারে। সেতু থেকে লাফিয়ে পড়ে ডুব সাঁতারে মেতে উঠল সে। এভাবে লাফাতে লাফাতে হঠাৎ একটা দারুণ ঘটনা ঘটে গেল। অপু যেন ডুব দিয়ে নতুন এক জগতের দেখা পেল। সবুজে ঘেরা মায়াবী এক বন। গাছে গাছে কতোই না রঙবেরঙের ফুল! মন ফুরফুরে করে দেওয়া সেসব ফুলের সুবাস। ডালে ডালে হাজারো রকমের পাখি। কতো রঙবেরঙের পালক ওদের! ওরা অপুকে দেখেই সুর ধরে বলল, পাখির মতো মনটা তোমার করবে পাখির রাজ, পালক দিয়ে গড়ব এসো পাখি রাজার তাজ। অপু তুমি পাখির মিতা পাখির আপনজন, তোমার হয়ে গাইবে পাখি সাজবে ফুলের বন। বনের পাখিদের আজ রঙিন ডানার মতোই রাঙানো মন। মনে যেন আজ কোনও ভয় নেই। যার যেমন মন চাইছে, অপুর কাঁধে, হাতে আর মাথায় বসছে। মাথা ঘুরিয়ে ঘুরিয়ে অপুর মুখও দেখছে। আহা রে! যেন কতদিন পরে কতটা আপনজনকে ফিরে পেয়েছে। পাখিরা অপুকে ভালোবেসে কতরকমের ফল খেতে দিলো। টুনটুনি আর বাবুইয়ের গড়া রাজসিক ঘরে নিয়ে বসতেও দিলো। ঘাসের ডগায় আর শিমুল তুলোয় গড়ানো গদির চেয়ার। সেরকম করেই গড়ানো বিছানা। তারপর কখন যেন ঘুমের গভীরে তলিয়ে গেল সে। অপু দুইদিন ধরে বিছানায় শুয়ে আছে। পাখিদের খাবারও দেওয়া হয় না। মা একা মানুষ। সবকিছু সামলে উঠতে পারেন না। এদিকে অপুর শরীরে রেশ উঠেছে। তাপও বেড়ে গেছে। পাখিদের খাবার কখন দেবেন? অনেকটাই অবচেতন অপুকে মা ডেকে বললেন, ‘বাবা, উঠে অষুধটা খেয়ে নাও। অষুধ না খেলে তাড়াতাড়ি ভালো হবে কী করে? তখন অপুর মনে পড়ে গেল পাখিদের কথা। ও ঘুমের গভীরে তলিয়ে গিয়ে যা দেখেছে, ওসব সঠিক নয়। তবে সে বাড়ির আশেপাশের পাখিদের মনে অনেক আগেই জায়গা করে নিয়েছে। সেই তাগিদ থেকে অপু এবার গা ঝাড়া দিয়ে বসল। তারপর বলল, ‘আহা! দুদিন থেকে পাখিদের খাবার দেওয়া হয় না!’       প্রিন্স মাহমুদ হাসান-এর গল্প

ওরা ক’জনের গল্প
গল্প, শিশু সাহিত্য

ওরা ক’জনের গল্প

ওরা ক’জনের গল্প উৎপলকান্তি বড়ুয়া ওরা তিনজন। থাকে একসাথে। ওরা ভাই বোন। দুই ভাই এক বোন। আচ্ছা, ওরা কারা? ওহ্ তাই তো! ওদের পরিচয় করিয়ে দেই। ওরা গ ল প। গ এবং প ভাই। ল বোন। গ এবং প -এর একমাত্র বোন ল। বড় আদরের বোন। ওরা খেলে একসাথে। বেড়ায় একসাথে। খায় একসাথে। ঘুমায় একসাথে। থাকে একসাথে। কাউকে ছাড়া কেউ ওরা একা কোথাও যায় না। তিন ভাইবোন একে অপরকে প্রচণ্ড ভালোবাসে। গ এবং প দুই ভাইয়ের একটা বিশেষ বৈশিষ্ট্য আছে। দুই ভাইয়ের-ই মাথায় চুল নেই। ওদের টেকো মাথা। টেকো মাথার গ আর প এর বোন ল তাদের খুব আদরের। চোখের আড়াল হতে দেয় না কোনো মতে। একদিন একা একা ফুল বাগানে খেলছিল বোন ল! বোশেখ মাস। দিনের গনগনে সূর্য চাপিয়ে, আকাশ বাতাস কাঁপিয়ে হঠাৎ মেঘ ডেকে উঠলো গুড়ুম গুড়ুম। মেঘে ছেয়ে যায় চারদিক। বাতাসও যেনো রেগে ওঠে সে সময়! বইতে থাকে প্রচণ্ড বেগে। শুরু হয় ঝড়। ঝড়ের দাপটে ভেঙ্গে পড়ে পাতা, ডাল, শাখা গাছপালা। একা একা ফুল বাগানে খেলায় মশগুল ল’কে নীল প্রজাপতি বললো -ওহে ল, ঝড় প্রচণ্ড ঝড় যে এলো! আমি পালাই। তুমিও পালাও। ঘরে যাও। এই বলে নীল প্রজাপতি দুই পাখা মেলে চটজলদি তার ঘরে ফিরে যায়। প্রজাপতির কথায় এতক্ষণে ল বুঝতে পারে, তাইতো! ঝড় তো বেশি এলো! এবার উপায়! তড়িঘড়ি করে ল খেলনা ফেলে উঠে দেয় দৌঁড়। আর ঠিক সেই সময়েই ঘটে মহা বিপদ! কেউ কি জানতো এমন বিপদ এখানে ওঁত পেতে অপেক্ষা করছিলো? ঝড়ের দাপটে উপর থেকে বড় আমগাছের এক ডাল ভেঙ্গে পড়ে ল এর উপর! বিশাল চিৎকার করে ল লুটিয়ে পড়ে মাটিতে আম গাছের ভাঙ্গা ডালের নিচে। ব্যাস! সেই দূর্ঘটনায় ল এর এক পা গেলো ভেঙ্গে। সেই থেকে পা খোড়া হয়  ল’এর। হাঁটতে রীতিমত বেশ কষ্ট পোহাতে হয় প্রতিটা সময়। আর সেই থেকে ল কে হাঁটতে হয় কারোর সাহায্য নিয়ে। হাঁটে অবশ্য প এর কাঁধে ভর করে সবসময়। গ হাঁটে সামনে আর ল হাঁটে প এর কাঁধে ভর করে পিছু পিছু। সেই থেকেই সকলে ওরা তিনজনকে গল্প নামেই চেনে-ডাকে। গ আর প বরাবরই খুব শান্ত প্রকৃতির। কারোর সাতেও নেই পাঁচেও নেই। যাকে বলে একেবারে নিরীহ দু’জন। পাড়ার কিছু দুষ্টুরা মিলে গ এবং প কে প্রায় সময়েই দূর থেকে দাড়িয়ে , টেকো মাথা টেকো মাথা ঢেকে রেখো– বলে বলে ভেংচি কেটে, খোঁচা মারে। ওরা হলো ঙ ণ এবং ধ। গ এবং প শুনেও সেদিকে কর্ণপাত করে না। নীরব থাকে। কিন্তু প্রিয় ভাই গ আর প’কে কেউ এভাবে বলবে কেন! ল তা সহ্য করে না? এবার রুখে দাঁড়ায় সে পাড়ার দুষ্টু ঙ ণ এবং ধ বিরুদ্ধে। সাফ সাফ প্রতিবাদের সুরে জবাব দিয়ে দেয়, তোমরা কি চুলঅলা? তোমরাও টেকো! নিজ মাথাতেই নিজে হাত দিয়ে দেখো! কেন শুধু অন্যকে খোঁচা মেরে ঘাঁটো নিজে টেকো হয়ে কেনো ভেংচি কাটো? -আরে তাইতো! আমাদের মাথায়ও তো চুল নেই। সেটাই তো মনে ছিল না! লজ্জা পেয়ে যায় ঙ ণ এবং ধ। সেই থেকে ওরা গ আর প কে ভেংচি কেটে আর লজ্জা দেয় না। ওরাও বেশ ভালো হয়ে যায় তখন থেকে।   গ প আর ল কে দেখলে এখন ভালো করে, সুন্দর করে কথা বলে, কুশল‌ বিনিময় করে। খেলা করে একসাথে। গানে গলা মিলায় সুর করে। তাদের একটা প্রিয় গান আছে। গ ল আর প এবং ঙ ণ আর ধ একসাথে ইদানিং ওরা ছয়জন একসাথে হলে তাদের প্রিয় গানটি গায় মজা করে-   আমরা ক’জন সুখী, বুকে স্বপ্ন অফুরান হাত ধরে এক অপরের আজ গাইরে খুশির গান। ভালোবাসা ছাড়া ওরে কিচ্ছু তো নেই মনা, একসাথে এক পাড়ায় থাকি আমরা তো ছয়জনা। একসাথে এক পাড়ায় থাকি আমরা তো ছয়জনা।।     স্বপনকুমারের গল্প

Scroll to Top