চুইং গামের যত উপকারি অপকারি দিক

 প্রিন্স মাহমুদ হাসান

চুইং গাম চিবোতে কার না ভাল লাগে? এটিকে ঘিরে অনেকের মধুর শৈশব জড়িত।

ছোটদের মধ্যে অনেকেই চুইং গাম চিবিয়ে বেলুনের মত ফুলাতে পছন্দ করে বা ফোলানোর প্রতিযোগিতা করে।

সারা বিশ্বে ছোট থেকে বড় প্রায় সবারই প্রিয় তালিকায় বিভিন্ন রং ও স্বাদের চুইং গাম আছে।

খেলোয়াড়দের বিভিন্ন সময় চুইং গাম চিবানোর দৃশ্য দেখে আমরা অভ্যস্ত।

তবে চুইং গাম কীভাবে এল সে বিষয়ে অনেকেরই ধারণা নেই।

চুইং গাম আজকাল যেভাবে মজাদার ও সুদগন্ধযুক্ত খাবার হিসেবে বিবেচনা করা হয় কিন্তু এক সময় ঠিক সেভাবে বিবেচিত ছিল না।

শুরুতে চুইং গাম দাঁত পরিষ্কারক, জীবাণু নাশক বা ঔষধ হিসেবে ব্যবহৃত হত।

ধারণা করা হয় কমপক্ষে পাঁচ থেকে নয় হাজার বছর পূর্বে যখন মানুষ পাথর, কাঠ ও হাঁড় দিয়ে অস্ত্র তৈরি করা শিখে ঠিক তখন অর্থাৎ প্রস্তর যুগে মানুষ চুইং গামের ব্যবহার করতে শিখে।

তখন চুইং গাম তৈরি হতো বিশেষ কিছু গাছের আঠা বা কষ থেকে।

ফিনল্যান্ডের ইলি এলাকায় সুদৃশ্য গাছ হিসেবে বিবেচিত বার্চ নামক পর্ণমোচী গোষ্ঠীর অন্তর্গত এক ধরণের গাছের আঠা থেকে তৈরি সেই সময়ের চুইং গামে দাঁতের ছাপের অস্তিত্ব পাওয়া গেছে।

যা প্রস্তর যুগে চুইং গামের অস্তিত্বের কথা জানান দেয়।

প্রাচীণ গ্রিসসহ বিভিন্ন দেশে চুইং গাম তৈরি হত বৃক্ষ, ঘাস ও রজনের নির্যাস, সফেদা গাছের কষ, ম্যাসটিক গাছের রজন দিয়ে।

তারপর লেবাননে সুগন্ধযুক্ত চুইং গামের ব্যবহারের প্রমাণ পাওয়া যায়। যা ছিল তুমুল জনপ্রিয়।

বর্তমান সময়ে আমরা যে ধরণের চুইং গাম খাচ্ছি তা মূলত তৈরি হচ্ছে বিভিন্ন ধরণের কেমিক্যাল ও অভোজ্য উপাদানের সমন্বয়ে।

চুইং গাম চিবোলে দাঁতের ক্ষয় রোধ হওয়ার পাশাপাশি দাঁতের গর্ত তৈরি থেকে রক্ষা পাওয়া যায়।

এটি ক্যালোরি বার্ন করে ওজন কমানোর পাশাপাশি মস্তিষ্ককে উদ্দিপিত করে মানসিক প্রশান্তি বাড়ায়, নিশ্বাসের দুর্গন্ধ কমায়, দাঁতের হলুদ ভাব দূর করে ও ক্ষুধা ভাব কমায়।

চুইং গামের যেমন অনেক উপকারি দিক আছে তার চেয়েও বেশি অপকারি দিক আছে। চুইং গাম বেশি খেলে স্বাস্থ্য ঝুঁকি বাড়ে।

চুইং গাম বেশি খাওয়ার কারণে পেটে গ্যাসের সমস্যা, পেট ফুলে যাওয়া, রক্তে শর্করার মাত্রা বৃদ্ধি, মাইগ্রেন বা মাথাব্যথা, শ্বাস কষ্ট, দাঁত ও মাড়ির ক্ষতিসহ বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়।

এখন অনেক চুইং গামে চিনির পরিবর্তে স্বাদের জন্য কৃত্রিম চিনি বা আর্টিফিশিয়াল সুইটনার অথবা অ্যাসিড ব্যবহার করা হয় যা ক্যানসারের সম্ভাবনা বাড়িয়ে দেয়।

তাছাড়া যত্রতত্র চুইং গাম ফেলানোর কারণে এটি কাপড়, রাস্তা-ঘাট ও পরিবেশের অনেক ক্ষতি করে।

আর ঠিক সে কারণেই সিঙ্গাপুরে সুইং গাম ক্রয়, বিক্রয় ও বাজারজাত সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

সবার প্রিয় এই সুইং গাম চিবানোর আগে অবশ্যই ভেবে দেখা উচিৎ এটি কী কারণে খাওয়া হচ্ছে আর তা কতক্ষণ খাওয়া হবে এবং খাওয়ার পর তা কোথায় ফেলা হবে।

(লেখাটি দৈনিক ইত্তেফাকে প্রকাশিত)

শেয়ার করুন:

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও লেখা:

Scroll to Top