লালকমল নীলকমল

সুব্রত দাস

তোমরা তোনকা কে চেনো ? ওই যে সেন বাড়ির সেই দুষ্টুমিস্টি ছেলেটা গো। যার ভালো নাম রাজর্ষি সেন। ক্লাস সেভেনে পড়ে।

ওদের বাড়ির রান্নাঘরে দুই বন্ধু থাকে। একটির নাম লালকমল। আরেকটি নীলকমল। দুটির মধ্যে খুব ভাব।

লালুটা পড়েই থাকে সারাদিন। ওই রান্নাঘরে। নীলুটাই বাইরে বেরোয়। রাত সাড়ে দশটার সময় তোনকার বাবা রতনবাবুকে নিয়ে ফিরে আসে নীলু।

তোনকার বাবা ওষুধের দোকানে কাজ করেন। দুপুর একটায় যান। রাতে বাড়ি ফেরেন নীলকমলে চ’ড়ে।

তারপর বাড়ির সবার খাওয়া দাওয়া হয়ে গেলে যখন লাইট নিভিয়ে শুয়ে পড়েন, তারপর দুই বন্ধুর গল্প শুরু হয় রান্নাঘরে।

লালকমল সারাদিন কেমন মন খারাপ অবস্থার মধ্যে থাকে। কেনই বা হবেনা, সেই কবে থেকে রান্নাঘরে জুবুথুবু হয়ে পড়ে আছে সে।

এক দিন বাজার থেকে বাড়ি ফেরার পথে হঠাৎ ফটাস ক’রে পেছনের চাকা বাস্ট হয়ে গেল। বাড়ি ফিরতে দেরি হলো।

কাজে যেতেও দেরি হলো সেদিন রতনবাবুর। যদিও সেদিন তোনকার স্কুলে যাওয়ার সাইকেল নিয়ে গিয়েছিলেন। সেই থেকে লালকমল রান্নাঘরে বন্দী।

রোজকার মতো আজকেও ফিরে এলো নীলকমল। লালুর একটু ঝিমুনি এসেছিলো।

ঝড়াং ক’রে লালুর গায়ে প’ড়ে বললো, “কি রে, ঘুমোলি নাকি ? শিগগিরি ওঠ্, তোর জন্যে সুখবর আছে !

“ও, তাই ?” লালু বললো, ” তা আজকের সুখবরটা কী, শুনি !” “আজ আমাদের গিন্নি মা কত্তাবাবুরে খুব ক’রে দু’টো কথা শুনিয়ে ছেড়েছে।

দুই দিনের মধ্যে তোকে যদি কত্তাবাবু না সারিয়ে তোলেন, তো গিন্নিমা সোজা বাপের বাড়ি চ’লে যাবেন, তাও আবার তোনকাকে নিয়ে।”

লালু, মানে লালকমল আনন্দে ব’লে উঠলো, “সত্যি বলছিস?” “ওরে বাবা, হ্যা রে, আর তুই তো জানিস কত্তাবাবু গিন্নিমা ছাড়া এক পাও চলতে পারে না।

আচ্ছা ঠিক আছে, কালকেই সারিয়ে দেবো ব’লে আমায় নিয়ে দে ছুট!”

ফস ক’রে একটা দীর্ঘশ্বাস ফেলে লালু বললো, “রাখ তোর কত্তাবাবুর কথা, কতবারই সারাবার কথা উঠলো…. দেখবি এবারো ঠিক…..”

লালুর মুখের কথা কেড়ে নিয়ে নীলু বললো, “নারে এবার ঠিক তোকে সারাবেই।

গিন্নিমার রেগে যাওয়াতে কত্তাবাবু খুব ঘাবড়ে গিয়েছে। হারানের সাইকেলের দোকানে গিয়ে তোকে সারাবার জন্য কথা ব’লে এলো যে।

দোকান থেকে এক ছোকরা কারিগর কাল সকালে তোকে নিতে আসবে।”

লালু তো এসব শুনে আনন্দে আটখানা ! বাব্বা, কতদিন পর আবার লালু আগের মতো ঘুরে ফিরে বেড়াবে।

কী যে আনন্দ হচ্ছে তার ! নীলুটা কি বুঝতে পারছে সব !

 

 

স্মেল রেকর্ডার-বাংলা গল্প

 

শেয়ার করুন:

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও লেখা:

Scroll to Top