Author name: if0_39360873

কবিতা, বিখ্যাতদের লেখা

জোনাকিরা

জোনাকিরা আহসান হাবীব তারা- একটি দুটি তিনটি করে এলো তখন- বৃষ্টি-ভেজা শীতের হাওয়া বইছে এলোমেলো, তারা- একটি দু’টি তিনটি করে এলো। থই থই থই অন্ধকারে ঝাউয়ের শাখা দোলে সেই- অন্ধকারে শন শন শন আওয়াজ শুধু তোলে। ভয়েতে বুক চেপে ঝাউয়ের শাখা , পাখির পাখা উঠছে কেঁপে কেঁপে । তখন- একটি দু’টি তিনটি করে এসে এক শো দু শো তিন শো করে ঝাঁক বেঁধে যায় শেষে তারা- বললে ও ভাই, ঝাউয়ের শাখা, বললে, ও ভাই পাখি, অন্ধকারে ভয় পেয়েছো নাকি ? যখন- বললে, তখন পাতার ফাঁকে কী যেন চমকালো। অবাক অবাক চোখের চাওয়ায় একটুখানি আলো। যখন- ছড়িয়ে গেলো ডালপালাতে সবাই দলে দলে তখন- ঝাউয়ের শাখায়- পাখির পাখায় হীরে-মানিক জ্বলে। যখন- হীরে-মানিক জ্বলে তখন- থমকে দাঁড়াঁয় শীতের হাওয়া চমকে গিয়ে বলে- খুশি খুশি মুখটি নিয়ে তোমরা এলে কারা? তোমরা কি ভাই নীল আকাশের তারা ?আলোর পাখি নাম জোনাকি জাগি রাতের বেলা, নিজকে জ্বেলে এই আমাদের ভালোবাসার খেলা। তারা নইকো- নইকো তারা নই আকাশের চাঁদ ছোট বুকে আছে শুধুই ভালোবাসার সাধ।

ছড়া, বিখ্যাতদের লেখা

বৃষ্টির ছড়া

বৃষ্টির ছড়া ফররুখ আহমদ বৃষ্টি এল কাশ বনে জাগল সাড়া ঘাস বনে, বকের সারি কোথা রে লুকিয়ে গেল বাঁশ বনে। নদীতে নাই খেয়া যে, ডাকল দূরে দেয়া যে, কোন সে বনের আড়ালে ফুটল আবার কেয়া যে। গাঁয়ের নামটি হাটখোলা, বিষটি বাদল দেয় দোলা, রাখাল ছেলে মেঘ দেখে, যায় দাঁড়িয়ে পথ-ভোলা। মেঘের আঁধার মন টানে, যায় সে ছুটে কোন খানে, আউশ ধানের মাঠ ছেড়ে আমন ধানের দেশ পানে।   বাংলা ছড়া

ছড়া, বিখ্যাতদের লেখা

হাট্টিমাটিম টিম

হাট্টিমাটিম টিম রোকনুজ্জামান খান হাট্টিমাটিম টিম ছড়া টাট্টুকে আজ আনতে দিলাম বাজার থেকে শিম মনের ভুলে আনল কিনে মস্ত একটা ডিম। বলল এটা ফ্রি পেয়েছে নেয়নি কোনো দাম ফুটলে বাঘের ছা বেরোবে করবে ঘরের কাম। সন্ধ্যা সকাল যখন দেখো দিচ্ছে ডিমে তা ডিম ফুটে আজ বের হয়েছে লম্বা দুটো পা। উল্টে দিয়ে পানির কলস উল্টে দিয়ে হাড়ি আজব দু’পা বেড়ায় ঘুরে গাঁয়ের যত বাড়ি। সপ্তা বাদে ডিমের থেকে বের হল দুই হাত কুপি জ্বালায় দিনের শেষে যখন নামে রাত। উঠোন ঝাড়ে বাসন মাজে করে ঘরের কাম দেখলে সবাই রেগে মরে বলে এবার থাম। চোখ না থাকায় এ দুর্গতি ডিমের কি দোষ ভাই উঠোন ঝেড়ে ময়লা ধুলায় ঘর করে বোঝাই। বাসন মেজে সামলে রাখে ময়লা ফেলার ভাঁড়ে কাণ্ড দেখে টাট্টু বাড়ি নিজের মাথায় মারে। শিঙের দেখা মিলল ডিমে মাস খানিকের মাঝে কেমনতর ডিম তা নিয়ে বসলো বিচার সাঁঝে। গাঁয়ের মোড়ল পান চিবিয়ে বলল বিচার শেষ এই গাঁয়ে ডিম আর রবে না তবেই হবে বেশ। মনের দুখে ঘর ছেড়ে ডিম চলল একা হেঁটে গাছের সাথে ধাক্কা খেয়ে ডিম গেলো হায় ফেটে। গাঁয়ের মানুষ একসাথে সব; সবাই ভয়ে হিম ডিম ফেটে যা বের হল তা হাট্টিমাটিম টিম। হাট্টিমাটিম টিম- তারা মাঠে পারে ডিম তাদের খাড়া দুটো শিং তারা হাট্টিমাটিম টিম।

বিখ্যাতদের লেখা

বড়োবাবুর কাছে নিবেদন

বড়োবাবুর কাছে নিবেদন অমিয় চক্রবর্তী তালিকা প্রস্তুত কী কী কেড়ে নিতে পারবে না- হই না নির্বাসিত-কেরানি। বাস্তুভিটে পৃথিবীটার সাধারণ অস্তিত্ব। যার এক খন্ড এই ক্ষুদ্র চাকরের আমিত্ব। যতদিন বাঁচি, ভোরের আকাশে চোখ জাগানো, হাওয়া উঠলে হাওয়া মুখে লাগানো। কুয়োর ঠান্ডা জল, গানের কান, বইয়ের দৃষ্টি গ্রীষ্মের দুপুরে বৃষ্টি। আপন জনকে ভালোবাসা, বাংলার স্মৃতিদীর্ণ বাড়ি-ফেরার আশা। তাড়াও সংসার, রাখলাম, বুকে ঢাকলাম জন্মজন্মান্তরের তৃপ্তি যার যোগ প্রাচীন গাছের ছায়ায় তুলসী-মন্ডপে, নদীর পোড়ো দেউলে, আপন ভাষার কন্ঠের মায়ায়। থার্ডক্লাসের ট্রেনে যেতে জানলায় চাওয়া, ধানের মাড়াই, কলা গাছ, কুকুর, খিড়কি-পথ ঘাসে ছাওয়া। মেঘ করেছে, দু-পাশে ডোবা, সবুজ পানার ডোবা, সুন্দরফুল কচুরিপানার শঙ্কিত শোভা, গঙ্গার ভরা জল; ছোটো নদী; গাঁয়ের নিমছায়াতীর- হায়, এও তো ফেরা-ট্রেনের কথা। শত শতাব্দীর তরু বনশ্রী নির্জন মনশ্রী : তোমায় শোনাই, উপস্থিত ফর্দে আরো আছে- দূর-সংসারে এলো কাছে বাঁচবার সার্থকতা।।   বাংলা কবিতা

বিখ্যাতদের লেখা

এই মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ না

এই মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ না নবারুন ভট্টাচার্য যে পিতা সন্তানের লাশ সনাক্ত করতে ভয় পায় আমি তাকে ঘৃণা করি- যে ভাই এখনও নির্লজ্জ স্বাভাবিক হয়ে আছে আমি তাকে ঘৃণা করি- যে শিক্ষক বুদ্ধিজীবী কবি ও কেরাণী প্রকাশ্য পথে এই হত্যার প্রতিশোধ চায় না আমি তাকে ঘৃণা করি- আটজন মৃতদেহ চেতনার পথ জুড়ে শুয়ে আছে আমি অপ্রকৃতিস্থ হয়ে যাচ্ছি আট জোড়া খোলা চোখ আমাকে ঘুমের মধ্যে দেখে আমি চীৎকার করে উঠি আমাকে তারা ডাকছে অবেলায় উদ্যানে সকল সময় আমি উন্মাদ হয়ে যাব আত্মহ্ত্যা করব যা ইচ্ছা চায় তাই করব। কবিতা এখনই লেখার সময় ইস্তেহারে দেয়ালে স্টেনসিলে নিজের রক্ত অশ্রু হাড় দিয়ে কোলাজ পদ্ধতিতে এখনই কবিতা লেখা যায় তীব্রতম যন্ত্রনায় ছিন্নভিন্ন মুখে সন্ত্রাসের মুখোমুখি-ভ্যানের হেডলাইটের ঝলসানো আলোয় স্থির দৃষ্টি রেখে এখনই কবিতা ছুঁড়ে দেওয়া যায় ’৩৮ ও আরো যা যা আছে হত্যাকারীর কাছে সব অস্বীকার করে এখনই কবিতা পড়া যায় লক-আপের পাথর হিম কক্ষে ময়না তদন্তের হ্যাজাক আলোক কাঁপিয়ে দিয়ে হত্যাকারীর পরিচালিত বিচারালয়ে মিথ্যা অশিক্ষার বিদ্যায়তনে শোষণ ও ত্রাসের রাষ্ট্রযন্ত্রের মধ্যে সামরিক-অসামরিক কর্তৃপক্ষের বুকে কবিতার প্রতিবাদ প্রতিধ্বনিত হোক বাংলাদেশের কবিরাও লোরকার মতো প্রস্তুত থাকুক হত্যার শ্বাসরোধের লাশ নিখোঁজ হওয়ার স্টেনগানের গুলিতে সেলাই হয়ে যাবার জন্য প্রস্তত থাকুক তবু কবিতার গ্রামাঞ্চল দিয়ে কবিতার শহরকে ঘিরে ফেলবার একান্ত দরকার। এই মৃত্যু উপত্যকা আমার দেশ না এই জল্লাদের উল্লাসমঞ্চ আমার দেশ না এই বিস্তীর্ণ শ্মশান আমার দেশ না এই রক্তস্নাত কসাইখানা আমার দেশ না আমি আমার দেশকে ফিরে কেড়ে নেব বুকের মধ্যে টেনে নেব কুয়াশায় ভেজা কাশ বিকেল ও ভাসান সমস্ত শরীর ঘিরে জোনাকি না পাহাড়ে পাহাড়ে জুম অগণিত হৃদয় শস্য, রূপকথা ফুল নারী নদী প্রতিটি শহীদের নামে এক একটি তারকার নাম দেব ইচ্ছে মতো ডেকে নেব টলমলে হাওয়া রৌদ্রের ছায়ায় মাছের চোখের মত দীঘি ভালোবাসা-যার থেকে আলোকবর্ষ দুরে জন্মাবধি অচ্ছুৎ হয়ে আছি- তাকেও ডেকে নেব কাছে বিপ্লবের উৎসবের দিন। হাজার ওয়াট আলো চোখে ফেলে রাত্রিদিন ইনটারোগেশন মানি না নখের মধ্যে সূঁচ বরফের চাঙড়ে শুইয়ে রাখা মানি না পা বেঁধে ঝুলিয়ে রাখা যতক্ষণ রক্ত ঝরে নাক দিয়ে মানি না ঠোঁটের ওপরে বুট জ্বলন্ত শলাকায় সারা গায় ক্ষত মানি না ধারালো চাবুক দিয়ে খন্ড খন্ড রক্তাক্ত পিঠে সহসা আ্যালকোহল মানি না নগ্নদেহে ইলেকট্রিক শক কুৎসিৎ বিক্রত যৌন অত্যাচার মানি না পিটিয়ে পিটিয়ে হত্যা খুলির সঙ্গে রিভলবার ঠেঁকিয়ে গুলি মানি না কবিতা কোন বাধাকে স্বীকার করে না কবিতা সশস্ত্র কবিতা স্বাধীন কবিতা নির্ভীক। চেয়ে দেখো মায়কোভস্কি হিকমেত নেরুদা আরাগঁ এলুয়ার তোমাদের কবিতাকে আমরা হেরে যেতে দিইনি বরং সারাটা দেশ জুড়ে নতুন একটা মহাকাব্য লেখবার চেষ্টা চলছে গেরিলা ছন্দে রচিত হতে চলেছে সকল অলংকার। গর্জে উঠুক দল মাদল প্রবাল দ্বীপের মত আদিবাসী গ্রাম রক্তে লাল নীলক্ষেত শঙ্খচূড়ের বিষ-ফেনা মুখে আহত তিতাস বিষাক্ত মৃত্যুসিক্ত তৃষ্ঞায় কুচিলা টণ্কারের সূর্য অন্ধ উৎক্ষিপ্ত গান্ডীবের ছিলা তীক্ষ্ম তীর হিংস্রতম ফলা- ভাল্লা তোমার টাঙ্গি পাশ ঝলকে ঝলকে বল্লম চর-দখলের সড়কি বর্শা মাদলের তালে তালে রক্তচক্ষু ট্রাইবাল টোটেম বন্দুক কুরকি দা ও রাশি রাশি সাহস এত সাহস যে আর ভয় করে না আরো আছে ক্রেন, দাঁতালো বুলডজার বনভয়ের মিছিল চলামান ডাইনামো টারবাইন লেদ ও ইনজিন ধ্বস-নামা কয়লার মিথেন অন্ধকারে কঠিন হীরার মতো চোখ আশ্চর্য ইস্পাতের হাতুড়ি ডক জুটমিল ফার্ণেসের আকাশে উত্তোলিত সহস্র হাত না ভয় করে না ভয়ের ফ্যাকাশে মুখ কেমন অচেনা লাগে যখন জানি মৃত্যু ভালোবাসা ছাড়া কিছু নয়। আমাকে হ্ত্যা করলে বাংলার সব কটি মাটির প্রদীপে শিখা হয়ে ছড়িয়ে যাব আমার বিনাশ নেই- বছর বছর মাটির মধ্য হতে সবুজ আশ্বাস হয়ে ফিরে আসব আমার বিনাশ নেই- সুখে থাকব, দুঃখে থাকব সন্তান-জন্মে সৎকারে বাংলাদেশ যতদিন থাকবে ততদিন মানুষ যতদিন থাকবে ততদিন।       কবিতা

বিখ্যাতদের লেখা

কাজলা দিদি

কাজলা দিদি যতীন্দ্রমোহন বাগচী বাঁশ-বাগানের মাথার উপর চাঁদ উঠেছে ওই, মাগো আমার শোলক্-বলা কাজলা দিদি কই? পুকুর ধারে লেবুর তলে, থোকায় থোকায় জোনাক জ্বলে, ফুলের গন্ধে ঘুম আসে না, একলা জেগে রই, মাগো আমার কোলের কাছে কাজলা দিদি কই? সেদিন হতে কেন মা আর দিদিরে না ডাকো; দিদির কথায় আঁচল দিয়ে মুখটি কেন ঢাকো? খাবার খেতে আসি যখন দিদি বলে ডাকি তখন, ও-ঘর থেকে কেন মা আর দিদি আসে নাকো? আমি ডাকি, তুমি কেন চুপটি করে থাকো? বাংলা কবিতা

বিখ্যাতদের লেখা, শিশু সাহিত্য

এমন যদি হতো

এমন যদি হতো সুকুমার বড়ুয়া   এমন যদি হতো ইচ্ছে হলে আমি হতাম প্রজাপতির মতো নানান রঙের ফুলের পরে বসে যেতাম চুপটি করে খেয়াল মতো নানান ফুলের সুবাস নিতাম কতো । এমন হতো যদি পাখি হয়ে পেরিয়ে যেতাম কত পাহাড় নদী দেশ বিদেশের অবাক ছবি এক পলকের দেখে সবই সাতটি সাগর পাড়ি দিতাম উড়ে নিরবধি । এমন যদি হয় আমায় দেখে এই পৃথিবীর সবাই পেতো ভয় মন্দটাকে ধ্বংস করে ভালোয় দিতাম জগৎ ভরে খুশির জোয়ার বইয়ে দিতাম এই দুনিয়াময় । এমন হবে কি ? একটি লাফে হঠাৎ আমি চাঁদে পৌঁছেছি ! গ্রহ থেকে গ্রহান্তরে দেখে শুনে ভালো করে লক্ষ যুগের অন্ত আদি জানতে ছুটেছি ।

Scroll to Top