Author name: if0_39360873

সময়ের এপিটাফ
কবিতা

সময়ের এপিটাফ

সময়ের এপিটাফ ফারহানা খান ভাঙা জানালার ফাঁক গলিয়ে সন্ধ্যার আলো ঢুকে পরে নিঃশব্দে, ধুলোমাখা টেবিলের কোণে দাঁড়িয়ে থাকে পুরোনো লন্ঠন। তার শিখায় আজও লেগে আছে হলদে হয়ে যাওয়া সময়ের গন্ধ, দেয়াল জুড়ে লেগে রয়েছে অচেনা ছায়া এক অনন্ত অপেক্ষার দীর্ঘশ্বাস। হঠাৎ শিস দিয়ে উঠা শেষ ট্রেনের শব্দটা মিশে যায় কাকের ডাকে। আমি জানি- ফিরে আসবেনা কেউ, কেউ ফেরেনা! শুধু অপেক্ষার প্রহর ফিরে আসে বারবার। জানালার ওপারে ঝুলে থাকা আকাশে মিলিয়ে যাচ্ছে অস্ফুট আলো ছড়ানো গোধূলি, অচেনা অন্ধকারে হারিয়ে যাচ্ছে চেনা দৃষ্টি, অন্ধ শালিক পাখিটা নীড় খুঁজে পায়নি এখনো, তার অপেক্ষায় কেউ নেই; কারো অপেক্ষায় কেউ থাকেনা। শুধু সময়ের এপিটাফে লেখা থাকে “প্রতীক্ষা”। 📌 আরও পড়ুন আরো কবিতা পড়ুন সাহিত্য বিভাগ লেখা পাঠানোর নিয়ম 📌 কবিতা সম্পর্কে জানুন বাংলা কবিতা – উইকিপিডিয়া আধুনিক কবিতা – উইকিপিডিয়া

শরৎ রূপ
Uncategorized, ছড়া

শরৎ রূপ

শরৎ রূপ সুব্রত চৌধুরী যেদিক তাকাই রূপের আড়ং, বাজে খুশির বীণ, মন-ময়ূরী নেচে বেড়ায়, তাক ধিনা ধিন ধিন। তুলোট মেঘের আনাগোনা আকাশজুড়ে আজ, আকাশ নীলে মেঘ-বালিকার নয়নকাড়া সাজ। নদীর পাড়ে দোলায় চামর কাশফুলেরা যেই, শিউলি-ফুলের মালা গলে নাচে খুকু ধেই। মেঘের ছানা আনাগোনা, স্বচ্ছ আকাশ নীল, শরৎ রূপে খুলবে সবার বদ্ধ মনের খিল। নেমে এসো তুলোমেঘ নূর-ই-ইলাহী সাদা মেঘ, সাদা মেঘ, ওই উড়ে যায়, কোথায় যাও তুলোমেঘ, কোন ঠিকানায়? ভেসে ভেসে নীল ছুঁয়ে উড়ে যাও দূরে, দূরে গিয়ে মিশে যাও আজানের সুরে! সুরে সুরে শরতের ছোঁয়া পেয়ে ফের, পাহাড়চূড়োয় উঠে দেখে নাও ঢের! নদীকূলে নেমে এসো কাশফুলের দুলে, এসো তুমি সাদা মেঘ, নেমে এসো ভুলে। তারপর চুপিচুপি প্রকৃতির নায়ে, শণচুল হয়ে যাও ইক্ষুর গায়ে! বুঝি আমি, বুঝি সব, তুলোমেঘ তুমি, শরতের সই হয়ে কাশফুল চুমি! আখফুল, কাশফুল মুখ খুলে বলে, দেখে নাও আমাদের, ছুঁয়ে নাও গলে। মনে রেখো, আমরাও বিধাতাকে স্মরি, বিধাতার ইশারায় বাঁচি আর মরি। তুলোমেঘ, তুলোমেঘ, নেমে এসো নিচে, নিচে এসে দুধভাত খেয়ে নাও মিছে। মিছেমিছি আর খেয়ো সাদা সাদা ডিম, তুমি এলে আসবেই শিশিরের হিম।   শিউলি তলায় ফুল খুকিরা সাঈদুর রহমান লিটন শিউলি ফুলের গন্ধে আকুল, রূপে মনটা হারায়, ছোট্ট ছোট্ট ছেলেমেয়ে ফুল পেতে হাত বাড়ায়। বিনিসুতার মালা গেঁথে পরে সবাই গলায়, মনে তাদের অবাধ খুশি, যায় বোঝা সব চলায়। ফুলের মতো হাসতে থাকে ভোর বিহানে শিশু, শিউলি ফুলের মোহে পড়ে ছুটতে থাকে পিছু। সবার আগে পাওয়া যাবে শিউলি গাছের তলে, ফুল কুড়িয়ে ফুলখুকিরা কত্তো গল্প করে।       আরও ছড়া পড়ুন

গিট্টুভূতের রাস্তা কাণ্ড-১ চন্দনকৃষ্ণ পাল
টাকুর টুকুর

গিট্টুভূতের রাস্তা কাণ্ড-১

গিট্টুভূতের রাস্তা কাণ্ড-১ চন্দনকৃষ্ণ পাল   ১. বারান্দাতেই গিট্টুর সাথে দেখা হয়ে যায় চান্দুমামার।মামাকে বারান্দায় দেখেই আওয়াজ দেয় গিট্টু। – শুভ বিকেল মামা। – ও গিট্টু! মেজাজটা খুব খারাপ রে বাপ। – কেন মামা ? – আর কেন? রাস্তার অবস্থা দেখেছিস? সবাই মিলে সমস্ত নিচু জমি ভরাট করে ফেলেছে। এলিভেটেড এক্সপ্রেস ভরাট করেছে রেলের জমি। বনরূপাসহ অন্যান্য কোম্পানিও চারপাশের জমে ভরাট করে ফেলেছে। এখন পানি যাবার কোন রাস্তা নেই। সব পানি রাস্তায় আর গলিতে। পানি থাকতে থাকতে রাস্তায় ভয়াবহ গর্ত।অটো উল্টাচ্ছে রিক্সা উল্টাচ্ছে। এইমাত্র রাস্তার পচা পানিতে ডুব দিয়ে এলাম। সারা শরীরে দুর্গন্ধ। – আহা মামা খুব বাজে অবস্থা তো আপনার। তাড়াতাড়ি বাথরুমে ঢুকেন। – হ্যাঁ দেখার কেউ নেই রে গিট্টু। কেউ নেই। প্রতিদিন অফিস যেতে আসতে চরম ভোগান্তি। – কিন্তু মামা লেকসিটির কাছে ব্রীজের পাশে দেখলাম পাইপ ফেলেছে। পাইপলাইন বসাবে। মাটি কাটার মেশিনও এনেছে একটা। – শুনেছি কিন্তু তাতে কী? একটা মেশিনে মাটি কাটলে এই তিন কিলোমিটার রাস্তা কেটে পাইপ বসাতে তিন বছর লাগবে। এই তিন বছরে আমরা তো শেষ। – তাহলে? – তাহলে আর কী? আমি এ এলাকা ছেড়ে দিবো। – এটা কোন সমাধান হলো মামা? – তো আমি কী করবো। নেতারা তো চুপচাপ। ঠিকাদারকে কে বলবে যে দ্রুত কাজ করতে, বেশি মেশিন আর লোকজন নিয়োগ করতে। আমরা জিম্মি হয়ে আছি তাদের কাছে। অসহায় মানুষদের কপালে দুর্ভোগই থাকে। এটা ধানমন্ডি, গুলশান বা বারিধারা হলে দেখতে কতো দ্রুত কাজ হয়। আমাদের কপালই এমন। ২. গিট্টু খুব চিন্তায় পড়ে যায়। কী করা যায়? সারা খিলক্ষেতের মানুষ কষ্ট করছে গত এক বছর ধরে। আগে রাস্তার দুই এক জায়গায় গর্ত হতো, পানি জমতো। এখন পুরো এলাকা পানির নীচে। চিন্তিত মনে বাইরে বের হয় গিট্টু। লেক সিটির পূর্ব পাশের ব্রীজের গোড়ায় এসে দাড়ায় ও। একটা মাত্র মেশিন দিয়ে একটু একটু করে মাটি কাটা হচ্ছে। সারাদিনে একটার বেশি পাইপ বসাতে পারবে বলে মনে হয় না। একটা ভূড়িওয়ালা লোক দূরে দাড়িয়ে কাজ দেখাশুনা করছে। পাশের এক দোকানদার লোকটার কাছে এসে দাঁড়ায়। – স্লামালেকুম ঠিকাদার সাব। – ওয়ালাইকুম সালাম। উত্তর দেন ভূড়িওয়ালা ঠিকাদার সাব। – মাত্র একটা মেশিনে তো পুরা কাজ করতে কয়েক বছর লাগবে। – তো? – মেশিন বাড়ান, লোকজন বাড়ান…। – আপনের কথায়? জ্ঞান দিয়েন না তো ভাই। খেঁকিয়ে ওঠে ভূড়িওয়ালা। – ওই চালায়ে যা আমি বিকালে আসমু আবার। গটগট করে পূর্বপাড়ার দিকে হাঁটতে থাকে ঠিকাদার। গিট্টু তার পিছন পিছন হাঁটতে থাকে। পূর্বনামা পাড়ার জমকালো বাড়িটার দোতলায় উঠে পড়ে লোকটা। গিট্টু তার বাসাটা চিনে ফিরে আসে। ৩. লোকটাকে সাইজ করা দরকার। তাকে বুঝানো দরকার যে মানুষ কষ্ট পাচ্ছে। পানি নেমে যাবার খাল যারা ভরাট করেছে তাদেরও বুঝানো দরকার। একটা রিয়েল এস্টেট কোম্পানী খালসহ জমি ভরাট করায় পানি নামতে পারছে না। প্রথমে ঐ কোম্পানীর সাইট অফিসে একটা ঢুঁ মারা যায়। রাতে অপারেশন ভূড়িওয়ালা। কার্যক্রম ঠিক করে মনে একটু শান্তি পায় গিট্টু। দিনের বেলা সাইট অপারেশন। বোটঘাট এসে লেকসিটির দিকে হাঁটে গিট্টু। শত শত লোক রাস্তায় দাঁড়িয়ে আছে। অটো রিক্সা নেই। কোথাও হয়তো অটো গর্তে পড়ে রাস্তা জ্যাম হয়ে আছে। এটা এখন নিয়মিত ঘটনা। লেক সিটির পর রিয়েল এস্টেট এর অফিস। অদৃশ্য হয়ে অফিসে ঢুকে পড়ে গিট্টু।লোকজন তেমন নেই। অফিসার গোছের একজন মোবাইল টিপছে। কাছে গিয়ে তাকায় গিট্টু। ফেসবুকে ব্যস্ত সে। তার মনোযোগ আকর্ষণ করতে হবে। অনেক জোরে দরোজাটা লাগিয়ে দেয় গিট্টু। লোকটা চমকে ওঠে। বাতাস নেই কোন মানুষও নেই। নিজে নিজে দরোজাটা লেগে যওেয়ার রহস্যটা বুঝতে পারে না লোকটা। সর্বশক্তি দিয়ে চেঁচিয়ে ওঠে সে- – কে? কে? – আমি। মিহি গলায় উত্তর দেয় গিট্টু। লোকটা চমকে গিয়ে চারদিকে তাকায়। কাউকে দেখতে পায় না। ফলে ভীষণ রকম ভড়কে যায় সে। – দেখতে পাবি না। ভূত কি দেখা যায়? যায় না। তবে অজ্ঞান হবি না কিন্তু। হলে মেরে ফেলবো। আমি কী বলি সেটা মনোযোগ দিয়ে শুনবি। আর যা বলি সে মত কাজ শুরু করবি এখনি। লোকটা নির্বাক হয়ে ফ্যলফ্যাল করে তাকায়। কিন্তু কিছুই দেখতে পায় না। – মনোযোগ দিয়ে শোন। খিলক্ষেতের পানি যাবার বোয়ালিয়া খালের মুখ তোরা ভরাট করে ফেলেছিস। এই মূহুর্তে লোক লাগিয়ে সেটা কেটে দিবি আর যেখানে যেখানে পানি যাবার পথ বন্ধ আছে সকল পথ নিজ দায়িত্বে খুলে দিবি। না হলে তোদের কোম্পানীর মালিকসহ সবকটা আজ রাতেই সাবাড় করে দিবো। লোকটা কাঁপতে শুরু করে। – এই কাঁপবি না। নো কাঁপাকাপি। – জী বস… জী বস.. এখনি করছি বস..। – ওকে গুডবাই। আমি কিন্তু খেয়াল রাখছি। ৪. গিট্টু বেরিয়ে আসে। এখন দেখার পালা লোকটা একশনে যায় কি না। গিট্টু আস্তে আস্তে বোয়ালিয়া খালের কাছে এসে দাঁড়ায়। ব্রীজের রেলিংয়ে পা ঝুলিয়ে মাটি ভরাট করা খালের মুখের দিকে তাকিয়ে থাকে। অল্প কিছুক্ষণের মধ্যে জনা দশেক লোক ঝুড়ি ও কোদাল নিয়ে কাজে লেগে যায়। সাইট অফিসের লোকটি ভীত চোখে এদিক ওদিক তাকায়। মজা দেখতে দু’একজন করে লোক জড়ো হতে শুরু করে। সন্ধের দিকে প্রবল বেগে খিলক্ষেতের পানি নামতে শুরু করে। গিট্টু চিৎকার দিয়ে ওঠে, হুররে….! ৫. সন্ধে হয়েছে অনেকক্ষণ। নামাপাড়ার বিলাসবহুল বাড়ির বারান্দায় অদৃশ্য হয়ে অপেক্ষা করছে গিট্টু। শেষ লোকটা ভূড়িওয়ালার রুম থেকে বেরিয়ে যেতেই গিট্টু ঢুকে পড়ে।ওকে দেখেই কর্কশ গলায় ধমকে ওঠে ভূড়িওয়ালা। – তুই কে রে ? কিভাবে ঢুকলি? – আমি কে সেটা বড় কথা নয়। যেটা বলছি সেটা মন দিয়ে শুনুন। বোয়ালিয়া খালের মুখ কাটা হয়েছে খিলক্ষেতের পানি নামতে শুরু করেছে। কাল থেকে মাটি কাটার মেশিন তিন থেকে চারটা লাগাবেন। প্রয়োজন মতো লোক নিয়োগ দিবেন। তিনমাসের মধ্যে পাইপ লাইনের কাজ শেষ করবেন। ফাইনাল বলে গেলাম। না হলে ঘাড়ে মুণ্ডু থাকবে না। আমি গিট্টু ভূতের বাদশাহ। বাচ্চা দেখা গেলেও এটা আমার আসল রুপ নয়। আমি আশে পাশেই থাকবো আগামী তিনমাস। নো টেনশন। আপনারা ভাবেন ভূত নেই, ভূত কিন্তু আছে। কোন কথা চলবে না। কোন অন্যায় নয়। আগামীকাল সকাল থেকে পুরো দমে কাজ শুরু না করলে রাতে কী হবে? ঘাড়ে মুণ্ডু…। বলেই অদৃশ্য হয়ে যায় গিট্টু। – ৬. পরদিন খুব ভোরে দুটি মাটিকাটার আধুনিক মেশিন খিলক্ষেতের লেকসিটির দিকে যেতে দেখা যায়। রঙধনু টুইন টাওয়ারের নয় তলার বারান্দায় বসে চান্দুমামার সাথে আড্ডা দিতে দিতে গিট্টু বলে- ‘দিন ফিরে যাচ্ছে মামা। ঐ দেখেন।’ চান্দুমামা অবাক হয়ে রাস্তার দিকে তাকিয়ে থাকেন।   গল্পের ঢালি

তুলনা-কথা জাহাঙ্গীর আলম জাহান
ছড়া

তুলনা-কথা

তুলনা-কথা জাহাঙ্গীর আলম জাহান কাউকে যখন সিংহপুরুষ, ডাকছো বাঘের বাচ্চা, খুশির চোটে নেচে নেচে সে বলে, ‘বেশ-আচ্ছা’। তাকেই যদি গরু-ছাগল কিংবা গাধা ডাকবে, ঘাড়ে তোমার মাথা—বল, আস্ত কি সে রাখবে? কিংবা যদি শৃগাল-বানর, খাটাস তাকে বলবে, সে কি তোমায় বন্ধু ভেবে আদৌ পাশে চলবে? বরং তোমায় শত্রু বলেই গণ্য আরও করবে, সুযোগ পেলে রাস্তাঘাটে টুটিই চেপে ধরবে। বাঘ-সিংহ মানুষ তো না, পশুর জাতিই বটে, তাদের সাথে তার তুলনা বিশ্রী আর উদ্ভটে। কিন্তু মানুষ আজব ভারি, ওই তুলনায় খুশি, হায়রে গরু খায় সে তরু, খেতেও পারে ভূষি!   আরও ছড়া পড়ুন

ঝলকগল্প লেখার কলাকৌশল
নির্বাচিত লেখা, প্রবন্ধ

ঝলকগল্প লেখার কলাকৌশল

ঝলকগল্প লেখার কলাকৌশল আবু সাইদ কামাল ঝলকগল্প কিভাবে লিখতে হয় এ সম্পর্কে ‘শন গ্ল্যাচ’ একটি নিবন্ধে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন। তাঁর মতে বজ্রপাতের মতো ঝলকগল্পগুলি এক নিমেষে শেষ হয়, যা পাঠকের কল্পনার ভুবনকে আমূল পরিবর্তন করে দিতে পারে। এমন কামড়ে-ধরা আকারের মতো গল্পগুলি লিখতে প্রচুর শৈলী, দক্ষতা এবং কার্যকর শব্দ চয়ন করতে হয়। লেখকগণ যদি তাদের লেখার ক্যারিয়ারে ঝলক (ফ্ল্যাশ) গল্পের ফর্মটি জয় করার চেষ্টা করেন, তবে ঝলকগল্প লেখার জন্য বেশ অনুশীলন এবং সম্পাদনা প্রয়োজন হয়। ফ্ল্যাশ ফিকশন (ঝলকগল্প ) কি, এবং এটি কিভাবে লেখা যায় সে বিষয়ে আলোকপাত করা যাক: সংক্ষেপে, অনুর্ধ ১,৫০০ শব্দের মধ্যে এটি এমন ধারার কথাসাহিত্য যা প্লট, চরিত্র এবং পরিবেশসহ সম্পূর্ণ গল্প পরিবেশন করে। তাই, এই কাঠামোটি গল্প বলার জন্য ভাষার দক্ষ ব্যবহারের উপর নির্ভর করে, যা গল্পের প্রবাহ এবং প্রভাবকে বাধা দেয় না। এই ধরারায় ১,৫০০ শব্দের মধ্যে ফ্ল্যাশ ফিকশন (ঝলকগল্প) প্লট, চরিত্র এবং সেটিংসহ সম্পূর্ণ একটি গল্প উপহার দেয়। ফ্ল্যাশ ফিকশন লেখার জন্য অনুশীলনের প্রয়োজন। এই ঘরানার প্রয়াস বিশ্বের কথাসাহিত্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় বেশ কিছু গল্প সৃষ্টি করেছে। প্রথমে ফ্ল্যাশ ফিকশন (ঝলকগল্প) কী? এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজা যাক: ঝলকগল্প(ফ্ল্যাশ ফিকশন) এর বিষয়বস্তু: ১। ফ্ল্যাশ ফিকশন কী ২। ফ্ল্যাশ ফিকশনের উদাহরণ ও কৌশল ৩। ফ্ল্যাশগল্প কিভাবে লেখা যায়: কী বাদ দিতে হয় ৪। ঝলক গল্প লেখার: ৪টি পদ্ধতি ফ্ল্যাশ ফিকশন কী? এ প্রশ্নের জবাবে বলা যায়, এটি হলো— শব্দ গণনার বিবেচনায় গল্পের একটি কাঠামো। এটি কাব্যময় ঘরানার একটি গল্পধারা। ফ্ল্যাশ ফিকশনের সংক্ষিপ্ত সংজ্ঞা হচ্ছে, কোনো কাল্পনিক গল্প যা ১,৫০০ শব্দের কম। কারো কারো মতে ফ্ল্যাশ ফিকশনের দৈর্ঘ্যের ভিন্ন সংজ্ঞা থাকতে পারে, তবে বেশিরভাগই ১,৫০০ শব্দকে সর্বাধিক শব্দ সংখ্যা হিসেবে গ্রহণ করে। এই ধারায় শব্দ সংখ্যার ভিত্তিতে ঝলকগল্পের আরও সাবডিভাইড বা উপশ্রেণী থাকতে পারে। ফ্ল্যাশ ফিকশন শব্দসংখ্যায় লেখার সব সংজ্ঞার মতো, এগুলো কঠোর নিয়ম নয়, বরং প্রকাশক এবং সাহিত্যিক জার্নাল দ্বারা সাধারণত অনুসরণ করা হয় এমন নির্দেশিকা। শব্দসংখ্যা: ১। ছয় শব্দের গল্প ২। টুইটারেচার -২৮০ শব্দের গল্প ৩। মিনিসাগা (যাকে ড্রিবলও বলা হয়)-৫০ শব্দসীমার গল্প ৪। মাইক্রোফিকশন (যাকে ড্র্যাবলও বলা হয়) ১০০ শব্দসীমার গল্প ৫। হঠাৎ নাটকীয় গল্প -অনুর্ধ ৭৫০ শব্দের গল্প ৬। ফ্ল্যাশ ফিকশন বা অতি ছোটগল্প -১৫০০ শব্দসীমার গল্প। ফ্ল্যাশ ফিকশন সংক্ষিপ্ত আকারের হলেও এটি মৌলিক গল্পের বাইরে নয়। ফ্ল্যাশ ফিকশনের কৌশলসমূহ: সকল উৎকৃষ্ট ফ্ল্যাশ গল্পে নিম্নলিখিত কৌশলগুলি ব্যবহার করা যেতে পারে। আমরা কীভাবে ফ্ল্যাশ ফিকশন লিখব তা দেখার আগে, এই কৌশলগুলির সাথে পরিচিত হওয়া জরুরি। কারণ, এ প্রক্রিয়ায় গল্পকারের খসড়া লেখাগুলি পরিশুদ্ধ করা এবং সম্পাদনা করা অনেক সহজ করে তুলে। এটি হল এমন একটি নিয়ম যা লেখকদের অভিজ্ঞতাকে চিত্র এবং বর্ণনার মাধ্যমে প্রকাশ করতে বলে, পাঠকের কাছে সরাসরি অভিজ্ঞতার কথা বলে না। এ বিষয়ে অ্যান্তন চেখভের উদ্ধৃতি দিয়ে সবচেয়ে ভালোভাবে সারসংক্ষেপ করা যায়। যেমন: “আমাকে বলবেন না চাঁদ ঝলমল করছে; আমাকে ভাঙা কাচের উপর আলো ঝলমল দেখান।” দৃশ্য বনাম সারসংক্ষেপ: ঝলকগল্প লেখায়, আমরা একটি পাঠ্যাংশ বা রচনাকে দৃশ্য বা সারসংক্ষেপ হিসাবে শ্রেণীবদ্ধ করি। যখন একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উপস্থাপন করার সময় বিশদগুলোকে উপেক্ষা করে, তখন একটি দৃশ্য গল্পের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার উপর ঘনিষ্ঠ নজর দেয়। ফ্ল্যাশ ফিকশন লেখায় সাধারণত খুব কম পরিমাণের সারসংক্ষেপ থাকে, এবং সেখানে সাধারণত এক বা দুইটি দৃশ্য থাকা উচিত। ছাঁটাই: ঝলকগল্পের ভাষা হবে ক্ষুরধার, যথাযথ এবং পরিমিত। ফ্ল্যাশ লেখকরা প্রায়ই নির্মম সম্পাদক। এ ধারায় বাক্যগুলি ছেঁটে ছোট করা হয় এবং পুরো অনুচ্ছেদই সম্পাদনা করা হয়। প্রতীকবাদ: প্রতীকবাদ হল সুনির্দিষ্ট বস্তু ব্যবহারের মাধ্যমে বিমূর্ত ধারণাকে উপস্থাপন করা।  ফ্ল্যাশ গল্পে অনেকক্ষেত্রে প্রতীক ব্যবহার করা হয়ে থাকে, যা লেখককে অনেক কথার ধারণাকে প্রতীকী বস্তুতে রূপান্তরিত করার সুযোগ করে দেয়। মিডিয়া রেজ (বিষয়ের মাঝে): ইন মিডিয়াস রেজ একটি লাতিন বাক্যাংশ, যার অর্থ “কিছুর মাঝে।” এটি একটি সাহিত্যিক শব্দ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। যখন একটি গল্পের ঘটনায় একটি চরিত্রের সঙ্গে ক্রিয়া শুরু করে—এটি তা ব্যাখ্যা করে। এটি ঘটনার পেছনের অপ্রয়োজনীয় কাহিনী উপেক্ষা করার চেয়ে অনেক বেশি কিছু। মিডিয়া রেজে অনেক ফ্ল্যাশ গল্প শুরু হয়, যার মানে হল, যে ফ্ল্যাশগল্পটি প্রথম থেকে না হয়ে কাহিনীর মাঝখান থেকে শুরু হয়। এমন ঘোরানো উপায়ে গল্পের প্লট লিখলে গল্পটি কার্যকরভাবে বলার জন্য যতটা তথ্য প্রয়োজন তা কমিয়ে আনে। আলঙ্কারিক ভাষা বা রূপক ভাষা: সাহিত্যিক উপকরণ হিসাবে কবিতার মতো ফ্ল্যাশগল্পে প্রচুর পরিমাণে আলঙ্কারিক ভাষা প্রয়োগ করা হয়। রূপক ভাষা হলো এমন কিছু শব্দ বা অভিব্যক্তির ব্যবহার, যা মৌলিক অর্থের বাইরে যায় এবং আরও জীবন্ত, কল্পনাপ্রসূত বা প্রভাবশালী প্রভাব সৃষ্টি করে। ঝলকগল্পে এটি প্রয়োগের মাধ্যম হিসেবে প্রায়ই রূপক, উপমা এবং ইঙ্গিতসহ বক্তব্যের বিভিন্ন রূপ অন্তর্ভুক্ত করে, যা ভাষিক চিত্র তৈরি করতে, অনুভূতি জাগাতে বা একটি বিন্দুকে জোর দেওয়ার জন্য এমনভাবে সাহায্য করে যে, মৌলিক ভাষা তা করতে পারে না। এই ধরনের ভাষা সাধারণত কবিতা, গল্পবলার এবং প্রতিদিনের কথোপকথনে ব্যবহার করা হয়, যা পাঠের অর্থ এবং অভিজ্ঞতা বাড়াতে সাহায্য করে। কাজেই ঝলকগল্পে আলঙ্কারিক ভাষা ও সাহিত্যিক উপকরণ প্রয়োগের ক্ষেত্রে কবিতার মতো প্রচুর পরিমাণে রূপক ব্যবহারের উপর জোর দেওয়া উচিত। পাঠকের কাছে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলা: যেহেতু ফ্ল্যাশ গল্পগুলি খুব সংক্ষিপ্ত হয়, তাই লেখকদের গল্পের ভুবন তৈরি করার জন্য খুব বেশি সময় থাকে না। ফলস্বরূপ, লেখকরা গল্পে অপ্রয়োজনীয় বর্ণনা এবং চরিত্রায়নের বা সংলাপের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলিকে বাদ দিয়ে গল্পভুবন নির্মাণ করতে আগ্রহী হতে পারেন। সত্যিকার অর্থে, সেরা ফ্ল্যাশ গল্পগুলোর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো, পাঠকের উপর আস্থা রাখা, তাদেরকে বোঝানোর জন্য যা ঘটছে এবং তারা যা জানে না তার রহস্যে প্রবেশ করার জন্য উৎসাহিত করা। ফ্ল্যাশ ফিকশন গল্প কিভাবে লিখবেন: দীর্ঘ কল্পকাহিনী—উপন্যাস, নভেলা এমনকি ছোটগল্পে লেখককে গুরুত্বপূর্ণ কিছু অণুপুঙ্খ অন্তর্ভুক্ত করতে হয়, যাতে গল্প এবং চরিত্রগুলো উপভোগ্য হয়। ফ্ল্যাশগল্পের স্বল্প শব্দের সীমাবদ্ধতা থাকায় বিশদ বিবরণ অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে বাধা দেয়। তাই, শুরু থেকেই যদি শব্দসংখ্যা কমানোর প্রয়াস থাকে, অপরিহার্য নয় এমন শব্দ গল্প থেকে বাদ দেওয়া যায়। গল্প থেকে বাদ দেওয়ার জন্য কিছু জিনিস এখানে উল্লেখ করা হলো: গভীর অভ্যন্তরীণ তত্ত্ব: গভীর অভ্যন্তরীণ তত্ত্ব বলতে গল্পের চরিত্রের বা প্রধান চরিত্রের নিজস্ব জীবনকে বোঝায়। চরিত্রটি কী ভাবে, কী অনুভব করে এবং কী স্বপ্ন দেখে, সে পৃথিবীকে কীভাবে দেখে এবং কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানায়; কেউ হয়ত দেখে না সে কীভাবে থাকে। বেশিরভাগ প্রধান চরিত্রের কিছু স্তরের অভ্যন্তরীণ তত্ত্বের প্রয়োজন হয়, যদি না সেটি স্থুল চরিত্র হয়। ফ্ল্যাশগল্পে খুব বেশি অভ্যন্তরীণ তত্ত্বের প্রয়োজন নেই। যখন গল্পের প্রধান চরিত্র গুরুত্বপূর্ণ চিন্তা, প্রতিক্রিয়া বা ট্রমার সম্মুখীন হয়; পাঠক সব শেষে এমন চরিত্রের সাথে সংযুক্ত হতে চায়। কিন্তু পাঠককে প্রধান চরিত্রের মস্তিষ্কের প্রতিটি চিন্তা জানতে হবে না: তাদের কর্ম এবং সংলাপ প্রায়শই এর জন্য যথেষ্ট হবে। অতিরিক্ত পটভূমি: সারাংশের সাথে যুক্ত হয় পটভূমি। সারাংশ এবং পটভূমি উভয়ই ঝলকগল্পের কিছু দিক ব্যাখ্যা করতে

অহংকারি রাজহাঁস
টাকুর টুকুর, শিশু সাহিত্য

অহংকারি রাজহাঁস ‎

অহংকারি রাজহাঁস ফারিহা জান্নাত তোহফা ‎ একদা একটা বড় জঙ্গলে অনেক সুন্দর পশুপাখি বাস করতো। তাদের মধ্যে একটি অহংকারি রাজহাঁস ছিল। রাজহাঁসটি নিজের সৌন্দর্যের জন্য খুবই অহংকার করতো। রাজহাঁসটি সত্যিই খুব সুন্দর ছিল। ‎এক সুন্দর সকালে রাজহাঁস নদীতে গেলো পানি আর মাছ খেতে। আড়াল থেকে একটি বাঘ রাজহাঁসকে দেখলো। এত সুন্দর হাঁস খেতে না জানি কত মজা হবে। লোভে তার জিহ্বায় পানি এসে গেলো। তাকে খাওয়ার ফন্দি আটলো মনে মনে। তার সামনে গিয়ে বলল, “ও রাজহাঁস তুমি কত সুন্দর!! আমি অত্যন্ত গর্বিত যে আমাদের জঙ্গলে তোমার মত সুন্দর প্রাণি আছে। নদীর উপরে উঠে এসো! আমি তোমার গায়ে হাত বুলিয়ে দেই।” ‎রাজহাঁস বলল, “তোর বুঝি হিংসে হচ্ছে আমাকে দেখে। ছিঃ! তোর নোংরা হাত দিয়ে আমার শরীরটাকে নোংরা বানাবি। তোর গায়ের রঙ দেখছিস কত বিচ্ছিরি! তোকে যদি মানুষেরা দেখে তাহলে বমি করে ফেলবে। তুই যদি মাটিতে ঘুমাস তাহলে কেউ বুঝবেই না যে এখানে তুই শুয়ে আছিস।” বাঘ এই সব কথা শুনে দুঃখ পেয়ে লজ্জায় লাল হয়ে চলে যায়। কাকের সাাথে খারাপ ব্যবহার আরেকদিন কয়েকটা কাক এসে এই নদীতে পানি খেতে লাগল, তা দেখে রাজহাঁস বললো, “এই তোদের এত সাহস কিভাবে হলো আমার নদীতে এসে পানি খাওয়ার। খেয়ে নদীর রঙটাই কালো করে দিয়েছিস।” কাকেরা দুঃখ পেয়ে চলে যায়। ‎এভাবেই দিন কেটে যায়। ‎একদিন অনেক পিঁপড়া শস্য দানা কষ্ট করে এক জায়গায় জড়ো করছিলো। সেই সব দানা রাজহাঁসটা খেয়ে ফেললো। পিঁপড়ারা বলল, “তুমি আমাদের পরিশ্রম নষ্ট করে ফেলেছো।” রাজহাঁস বলল, “তোদের এতো সাহস আমাকে খেতে মানা করছিস? এর পরিণাম পেতেই হবে।” এই বলে কয়েকটা পিঁপড়াকে পায়ের নীচে ফেলে পিষে ফেলল। তা দেখে পিঁপড়াদের রাজা বলল, “এতো অহংকার করা ভালো না।” ‎এইভাবে বিভিন্নভাবে জঙ্গলের সবাইকে যন্ত্রণা ও কষ্ট দিতো রাজহাঁস। সবার ক্ষতি করে তার আনন্দ হতো। নিজের সৌন্দর্য নিয়ে অহংকার করতে লাগলো আরো বেশি বেশি। ‎একদিন প্রচণ্ড অসুস্থ হয়ে গেলো সে। অনেকদিন অসুখে ভোগার পর রাজহাঁসের সুন্দর পালক ঝরে ঝরে পড়তে লাগলো। সমস্ত পালক ঝরে পড়ায় তাকে দেখতে খুবই বিশ্রী লাগছিলো। তার মধ্যে নতুন করে সমস্ত শরীরে ছোট ছোট গুটি বের হলো। এখন তাকে দেখতে আরো বিশ্রী লাগছিলো। নিজের দিকে তাকিয়ে সারাক্ষণ কান্না করে সে, আর নিজের অহংকারের জন্য অনুতপ্ত হয়। সে বুঝতে পেরেছে তার অহংকারই তার এই দুর্ভোগের কারণ।   আরও গল্প পড়ুন

পুকুর পাড়ের দৈত্য
টাকুর টুকুর, শিশু সাহিত্য

পুকুর পাড়ের দৈত্য

পুকুর পাড়ের দৈত্য প্রিন্স মাহমুদ হাসান পুকুর পাড়ের দৈত্য পুকুর পাড়ে ইয়া বড় একটি দৈত্য থাকে, গোসল শেষে শরীর জুড়ে শ্যাওলা–কাদা মাখে। চোখ দু’টো তার আগুন যেন, কান দু’টো তার কুলো। রান্নার ভয়ে কাঁচা খায় সে, তার লাগে না চুলো। মাছ ধরে সে গাফুস্–গুফুস্, আস্তই খায় গিলে। মাছ না পেয়ে হিংসা করে মাছরাঙা, বক, চিলে। বুদ্ধি করে আনলো তারা বিষাক্ত সাপ ধরে, সাপের ভয়ে দৈত্য এখন থাকে কুঁড়েঘরে।   লেখকের আরও লেখা পড়ুন

Scroll to Top