ছবির পার্থক্য খোঁজো-2
বুদ্ধির খেলা

ছবির পার্থক্য খোঁজো-২

ছবিতে ১০টি পার্থক্য খোঁজো ছবিতে দশটি পার্থক্য খোঁজো। শেষে উত্তরের সাথে মিলিয়ে দেখো ১. ২. ৩. ৪. ৫. ৬. ৭. ৮. ৯. ১০. 🔍 পার্থক্যগুলো দেখতে এখানে ক্লিক করুন বাঁ পাশে সূর্য আছে, ডান পাশে নেই। ডান পাশে একটি বল আছে, বাঁ পাশে নেই। মেয়েটির ডান হাতের আঙুলের সংখ্যা ভিন্ন। বাঁ পাশে তাবুর মাথা কালো, ডান পাশে লাল। একটি গাছের শাখা ভিন্ন। মেঘের আকৃতি দুই ছবিতে আলাদা। চুলের ব্যান্ডের ডিজাইন আলাদা। রঙিন ব্লকের রঙের বিন্যাস আলাদা। ডান পাশে মেয়ের জুতায় সাদা দাগ আছে, বাঁ পাশে নেই। মাটিতে ঘাসের পরিমাণ ভিন্ন।

সাকিবের গল্প
গল্প, শিশু সাহিত্য

সাকিবের গল্প

সাকিবের গল্প আলমগীর কবির সাকিবুল ইসলাম সাকিব নাটোর সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণীর বিজ্ঞান বিভাগের ছাত্র। বিজ্ঞানে ওর ভীষণ আগ্রহ। ছোটমামা নাম দিয়েছেন ক্ষুদে বিজ্ঞানী। ছোটমামা যতখানি ওকে সহযোগিতা করেন, বাসার অন্য কেউ ততটা করেন না। এই নিয়ে মাঝে মাঝে সাকিবের মন খারাপ হয়। যদি সবাই ওর কাজে উৎসাহ দিতেন, তাহলে কাজগুলো অনেক সহজ হয়ে যেত। তখন কতই না মজা হতো! আজ শুক্রবার। ছুটির দিন। সাত সকালেই ক্ষুধায় পেট চোঁ চোঁ করছে। রান্নাঘর থেকে খাবারের ঘ্রাণ ভেসে আসছে। মা নিশ্চয়ই রান্নাঘরে। সাকিব দৌড়ে রান্নাঘরে গেল। রান্নাঘরে গিয়েই ওর চোখ ছানাবড়া! মা নেই কোথাও। একটি বাটিতে দুধ রাখা ছিল। বাসার বেড়ালটা চুপিচুপি সেটি খাচ্ছে। সাকিব ভালো করে লক্ষ্য করতে লাগল। — “আরে এ কী অবাক কাণ্ড! বেড়ালটা দুধ খেয়ে নিচ্ছে, কিন্তু বাটির মাঝে কোনো আলোড়ন তৈরি হচ্ছে না!” ঠিক তখনই ছোটভাই রাকিব এসে বলে উঠল—— “আরে ভাইয়া! বেড়াল দুধ খাচ্ছে আর তুমি চুপচাপ দেখছো? আবার এক্সপেরিমেন্ট করছো নাকি?” সাকিব উত্তর দিল—— “না রে, ভুল বুঝিস না। আমি আসতেই দেখি বেড়ালটা দুধ সাবাড় করছে। কিন্তু একটা ব্যাপার কিছুতেই মাথায় আসছে না—বেড়াল দুধ খাচ্ছে অথচ বাটির মধ্যে কোনো আলোড়ন হচ্ছে না।” রাকিব বলল—— “দেখেছি, কিন্তু তুমি বেড়ালটাকে তাড়াচ্ছো না কেন ভাইয়া?” সাকিব হেসে বলল—— “আরে, আমি আসার আগেই দুষ্টু বেড়ালটা সব নষ্ট করে ফেলেছে। তাড়ালেও আর কেউ তো এটা খেতে পারবে না। যা হওয়ার হয়ে গেছে।” এমন সময় মা রান্নাঘরে এসে বললেন—— “কিরে, তোরা দুজন রান্নাঘরে কী করছিস?” সবটা শুনে মা কারো ওপরই রাগ করলেন না।— “আচ্ছা, যা হওয়ার হয়ে গেছে। এবার তোরা দুটি যা, আমাকে কাজ করতে দে।” সারাদিন ভাইয়ে-ভাইয়ে খুনসুটি চলতে থাকল। মা রান্নায় ব্যস্ত হয়ে গেলেন। পেঁয়াজ কাটতে গিয়ে মার চোখে জল এলো। সাকিব তা দেখে কষ্ট পেল। সে মায়ের কাছে গিয়ে বলল—— “মা, তোমার তো অনেক কষ্ট হচ্ছে। এক কাজ করো, পেঁয়াজগুলো আগে পানিতে ভিজিয়ে রাখো তারপর কাটো। আচ্ছা, আমিই ভিজিয়ে দিচ্ছি।” মা অবাক হয়ে দেখলেন, সত্যিই এবার আর চোখ দিয়ে জল বেরোচ্ছে না। তিনি হাসলেন।— “বাবা, আমার ছেলে তো সত্যিই ক্ষুদে বিজ্ঞানী হয়ে গেছে।” রাতের আকাশে গোল চাঁদ উঠল। জোৎস্নায় ভেসে যাচ্ছে চারিদিক। ছোটমামা এলেন। খাবার পর সবাই বারান্দায় বসে গল্প করছিল। সাকিব বলল—— “মামা, আমার একটা প্রশ্ন আছে।” মামা হেসে উত্তর দিলেন—— “নিশ্চয়ই কোনো বিজ্ঞান বিষয়ক। আচ্ছা, বলো।” সাকিব জিজ্ঞেস করল—— “আকাশের তারাগুলো মনে হয় মিটিমিটি জ্বলছে কেন? জোনাকি পোকার দেহে আলো জ্বলে কেন? কোন রঙের সাথে মিলে কোন রঙ তৈরি হয়? রংধনু সম্পর্কেও জানতে চাই।” মা মুচকি হেসে বললেন—— “সাকিব, মামাকে এত প্রশ্ন করছো কেন?” মামা হেসে বললেন—— “বুবু, ওকে প্রশ্ন করতে দাও। এখন তো প্রশ্ন করার বয়স। আচ্ছা সাকিব, কাল তোমার জন্য কিছু বিজ্ঞানবিষয়ক বই কিনে দেব।” সাকিব আনন্দে বলল—— “সত্যি মামা? তাহলে বেশ ভালো হবে!” রাকিবও লাফিয়ে উঠল—— “মামা, আমার জন্য কী কিনে দেবেন?” মামা হেসে বললেন—— “কি চাই তোমার?” রাকিব গম্ভীর হয়ে বলল—— “একটা খেলনা বিমান চাই। তারপর সেটা দেখে দেখে বিমান বানাবো। আমিও ভাইয়ার মতো বিজ্ঞানী হবো।” ওর কথা শুনে সবাই হেসে উঠলেন—— “বেশ, বেশ, তাই হবে।”

সমসাময়িক বাংলা গল্প দূরদৃষ্টি
গল্প

দূরদৃষ্টি

দূরদৃষ্টি রানা জামান দূরদৃষ্টি সমসাময়িক বাংলা গল্প প্রিয় নেতার আশীর্বাদ নিতে ছেলে নবীনকে সঙ্গে করে হরিহরবাবু স্থানীয় সাংসদ রবিশঙ্করের শহরের বাড়িতে এলেন। হাতে ছিল মিষ্টির প্যাকেট। দারোয়ান তাদের আটকে দিল। কিন্তু হরিহরবাবু জানেন, দারোয়ান বেশিক্ষণ আটকে রাখতে পারবে না—সাংসদ তাঁর নাম শুনলেই ভেতরে ডেকে নেবেন। কারণ, সাংসদ জানেন, হরিহরের হাতে কতটা ক্ষমতা! এই ক্ষমতা হলো ভোট। হরিহরবাবুর এলাকায় হাজারখানেক ভোটার রয়েছে, যা প্রতিবছর বাড়ছে। এই ভোটাররা হরিহরবাবুকে দেবতার মতো মানে এবং তাঁর কথামতো ভোট দেয়। ঘটনাচক্রে নবীনের জন্মও হয়েছে রবিশঙ্করের গাড়িতে। সেদিন অ্যাম্বুলেন্স আসতে দেরি হওয়ায় রবিশঙ্কর তাঁর গাড়ি দিয়ে হরিহরের সন্তানসম্ভবা স্ত্রীকে হাসপাতালে পাঠান; কিন্তু গাড়িতেই নবীনের জন্ম হয়ে যায়। হরিহরবাবুর আগমন হরিহরবাবু বললেন, “স্যার আমাদের চেনেন। আমরা হরিগাতি গ্রাম থেকে এসেছি। আমার নাম হরিহর।” এই বলে তিনি দারোয়ানের হাতে পঞ্চাশ টাকা গুঁজে দেন। দারোয়ান ওদের ভেতরে ঢুকতে দেয়। নবীনসহ হরিহর ভেতরে ঢুকতেই স্থানীয় এক নেতা ঘরে ঢুকে রাগত কণ্ঠে বলে উঠল, “উপজেলা ইলেকশনে এবার আমাকে নমিনেশন না দিলে খবর আছে আপনার, নেতা!” সাংসদ রবিশঙ্করও রগচটা, এবং তিনি এক কাঠি উপরে।তিনি নেতার মাথা ধরে টি-টেবিলে আঘাত করে চিৎকার করে বললেন, “তুই আমাকে ভয় দেখাস! কী করবি তুই আমার?” নেতা নিস্তেজ হয়ে মেঝেতে পড়ে গেল। তাঁর মাথায় ঢুকে গেছে টি-টেবিলের কাঁচের একটি ভাঙা টুকরো। হতভম্ব রবিশঙ্কর নেতার নাড়ি টিপে বুঝলেন—মারা গেছে।তিনি আতঙ্কিত চোখে হরিহরদের দিকে তাকালে, হরিহর বললেন,“স্যার, আপনি ওকে মেরে ফেলেছেন!” রবিশঙ্কর বললেন, “তুমি তো আমাকে খুব পছন্দ করো, তাই না হরিহর?”“জি স্যার।”“এই খুনের দায়ে আমি জেলে গেলে এলাকার অনেক ক্ষতি হবে। তুমি এই খুনের দায় নিয়ে নাও। আমি তোমার পরিবারের সব দায়িত্ব নিলাম, আর তোমার ছেলেকে ডাক্তার বানানোর প্রতিশ্রুতি দিলাম।” এ সময় নবীন এক কদম এগিয়ে এসে বলল,“বাবা না স্যার, আমি নেব। কিশোর অপরাধী হিসেবে আমার কয়েক বছরের সাজা হবে। তবে একটা শর্ত আছে।”“কী শর্ত?”“উপজেলা ইলেকশনে বাবাকে নমিনেশন দিতে হবে। এখনই বাইরে জনতার সামনে গিয়ে এই ঘোষণা দেবেন। তারপর পুলিশে খবর দিন!”   বাংলা গল্প

পেঁয়াজ রসুন
Uncategorized, ছড়া

তর্ক

তর্ক বাসুদেব খাস্তগীর পেঁয়াজ রসুন আদা তর্ক করে নিত্য ওরা কে হয়রে কার দাদা। পেঁয়াজ বলে আমি তরকারিতে আমার চেয়ে বলো তো কে দামি? মনটা করো সাদা আমিই হলাম দাদা। রসুন বলে থাম বাজার মূল্যে সবার চেয়ে আমার বেশি দাম। সরাও মনের কাদা আমিই হলাম দাদা। আদা বলে রাগে বর্ণমালায় আমি কিন্তু আছি সবার আগে। নেই কোন তাই বাধা আমিই সবার দাদা। একি গোলক ধাঁধা! বুয়া বলে তিনজনই তো মস্ত বড় গাধা তর্ক কেন? একটু পরেই হবি হাতের রাঁধা।     আরও বাংলা ছড়া পড়ুন

চুং চাং চিং
ছড়া, শিশু সাহিত্য

চুং চাং চিং

চুং চাং চিং ইকবাল বাবুল চুং চাং চিং রঘুনাথ সিং রঘুনাথ সিং কপালে সে বেঁধে রাখে ইয়া বড় শিঙ। কেউ তার পাশে এলে কিংবা সে কাছে পেলে সেই দু’টো শিঙ দিয়ে মারে ঢিং ঢিং রঘুনাথ সিং। রঘুনাথ সিং উঠোনে সে বানিয়েছে বড় এক রিং সেই বড় রিং জুড়ে নেচে নেচে ঘুরে ঘুরে উল্লাসে শূন্যে সে মারে বক্সিং রঘুনাথ সিং। রঘু নাথ সিং রোগা টিং টিং খালি পেটে খায় নাকি সালসা ও হিং সালসা ও হিং খেয়ে মেতে উঠে গান গেয়ে চাইনিজে কথা বলে চুং চাং চিং রঘুনাথ সিং।।       মজার ছড়া

ছড়া, বিখ্যাতদের লেখা

আমাদের ছোট নদী

আমাদের ছোটো নদী রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর আমাদের ছোটো নদী চলে বাঁকে বাঁকে বৈশাখ মাসে তার হাঁটু জল থাকে। পার হয়ে যায় গোরু, পার হয় গাড়ি, দুই ধার উঁচু তার, ঢালু তার পাড়ি। চিক্ চিক্ করে বালি, কোথা নাই কাদা, একধারে কাশবন ফুলে ফুলে সাদা। কিচিমিচি করে সেথা শালিকের ঝাঁক, রাতে ওঠে থেকে থেকে শেয়ালের হাঁক। আর-পারে আমবন তালবন চলে, গাঁয়ের বামুন পাড়া তারি ছায়াতলে। তীরে তীরে ছেলে মেয়ে নাইবার কালে গামছায় জল ভরি গায়ে তারা ঢালে। সকালে বিকালে কভু নাওয়া হলে পরে আঁচল ছাঁকিয়া তারা ছোটো মাছ ধরে। বালি দিয়ে মাজে থালা, ঘটিগুলি মাজে, বধূরা কাপড় কেচে যায় গৃহকাজে। আষাঢ়ে বাদল নামে, নদী ভর ভর মাতিয়া ছুটিয়া চলে ধারা খরতর। মহাবেগে কলকল কোলাহল ওঠে, ঘোলা জলে পাকগুলি ঘুরে ঘুরে ছোটে। দুই কূলে বনে বনে পড়ে যায় সাড়া, বরষার উৎসবে জেগে ওঠে পাড়া।  

Scroll to Top