ছেঁড়া কাঁথা
মাওয়া জান্নাত
ছেঁড়া কাঁথায় কোত্থেকে জুটলো সুই-সুতো? এফোঁড়-ওফোঁড়,
একের পর এক উঠলো রঙিন সেলাই।
এ কোণায় জোড়া তালি, ও কোণায় রংচটা—
এমন একটা দেহে নকশিকাঁথার মাঠ,
দিব্যি গেয়ো হাতের আঁকিবুঁকি।
এ ছাতা মেনে নিতেই হবে।
ঘুম ভাঙলেই হারিয়ে যাবে ঝুমুরঝুমুর।
কেমন করে কাঠঠোকরা ঘর বেঁধে নেয়,
পায়ের পাতায় উলটে পড়ে রঙের শিশি।
ছেঁড়া কাঁথায় সব গল্প সেলাই করে দিচ্ছে গেঁথে এক শিল্পী।
আদর, শাসন, রাগ, অভিমান—কিচ্ছুটি নেই। আছেই শুধু শিল্পটুকু।
যেসব কথা নিষেধ বলা লোকজনকে,
সব কবিতা ফুলের মতো সেলাই করে তুলে দিচ্ছে ছেঁড়া কাঁথায়।
তবু বলি, একটা কঠিন কথা—কোনো কিছুই স্থায়ী নয়!
কোনো একদিন ফুল হারাবে, সুই হারাবে, সুতো ছিঁড়বে।
থাকবে আমার শূন্য আঁকা ছেঁড়া কাঁথার জীবনটুকুই।
পচা চিন্তা! ওসব কথা পরে ভাববো,
এখন শুধু সেলাই উঠুক, কাঁথা ভরুক রঙিন ফুলে….