কবিতা

বাংলা কবিতা সমাহার

বাংলা কবিতা মানুষের অনুভূতি, প্রেম, প্রকৃতি, জীবনবোধ ও সমাজচেতনার গভীর প্রকাশ। কালের সাঁকোর কবিতা বিভাগে প্রকাশিত হয় নতুন বাংলা কবিতা, আধুনিক কবিতা, প্রেমের কবিতা, প্রকৃতির কবিতা, দেশপ্রেমের কবিতা এবং বাংলা সাহিত্যের বিশিষ্ট কবিদের নির্বাচিত রচনা। পাঠকদের জন্য নিয়মিত যুক্ত হচ্ছে মৌলিক ও মানসম্মত বাংলা কবিতার সমৃদ্ধ সংগ্রহ।

কাহা পরব কবিতার প্রতীকী চিত্র: সাঁওতাল গ্রাম, নৃত্য, ঢোল ও লোকজ আবহ
কবিতা

কাহা পরব

কাহা পরব মারুফ আহমেদ নয়ন দূরতম সাঁওতাল গ্রাম যেন এক কৃত্রিম উপগ্রহ— পৃথিবীকে কেন্দ্র করে ঘুরছে নিরন্তর। আমি ঘুরতে ঘুরতে ধরা পড়ে গেছি তোমার পাখি ধরার ফাঁদে। আমার দুটি নখর—কী নাজুক! শস্যদানা খুঁজে বনে–জঙ্গলে এসেছিলাম। দেখো, আমার চলন কত সরল— খরগোশের মতো ধীর, স্থির পদক্ষেপে হাঁটছি। ডানার নিচে আগুন ছিল— মনে করতে গিয়ে ভুলে গিয়েছি মানব-আচরণ। যদি তুমি আমাকে সম্বোধন করো ‘বটেরা’ কিংবা ‘তিতির’ বলে, আমি বলব— “বাক-বাকুম!” পাখিদের বর্ণমালা তোমার বোধগম্য নয়। বরং কাহা পরবে ঢুকে পড়ি— দেখি, শিকার শেষে নৃত্যের ভেতরে লুকানো কী মাদকতা! ভোজে মদ ও মাংসের কাবাব— উপগ্রহ থেকে ভেসে আসে কৃত্রিম সংগীত, যেন এলিয়েনরা বাজাচ্ছে ঢোল ও বাঁশি। আধুনিক বাংলা কবিতা বিভাগ

চন্দনকৃষ্ণ পালের দুপুর বাংলা কবিতা
কবিতা

দুপুর

দুপুর চন্দনকৃষ্ণ পাল ডোর বেলে কে আঙুল রাখে মাঝ দুপুরে দরজা খুলে দেখি আমি শূন্যতা খুব- কেউ আসেনি, শূন্য প্যাসেজ, ফিরছে না কেউ সিঁডি ধরে। কে বাজালো ? অবাক আমি হচ্ছেটা কী? একা থাকার স্মৃতি নিয়ে বাজাচ্ছে কেউ এই আমাকে ? বুকের ভেতর কাঁপন জাগে কারা যেনো খুব নিরবে যাচ্ছে হেঁটে দীঘল চোখের ছায়া ফেলে আমার চোখে নীল বেদনার মেঘ ছড়িয়ে বিষণ্নতার মেঘ ধোঁয়াশা ছুঁইয়ে দিয়ে যাচ্ছে চলে মাঝ দুপুরে কে বা কারা এমন করে? অবাক করে? আমার দুপুর এমন দুপুর হলো কেনো ? উত্তরটা দূরে দাঁড়ায়, মুচকি হাসে বিহ্বলতা আমায় আরো জাপটে ধরে। আপনারও কি কখনো এমন এক “দুপুর” এসেছে জীবনে — যখন কেউ ছিল না, তবু কারও উপস্থিতি অনুভব করেছেন? কমেন্টে জানান আপনার অনুভব। আরও পড়ুন: অ্যালগরিদমের কলম – জয়শ্রী দাস

জয়শ্রী দাসের অ্যালগরিদমের কলম কবিতা
কবিতা

অ্যালগরিদমের কলম

অ্যালগরিদমের কলম জয়শ্রী দাস আগে শব্দ জন্মাত নিঃশব্দ রাত্রিতে, কাগজের বুক চিরে উঠত মানুষের শ্বাস। এখন সার্ভারের আলোয় জ্বলে ওঠে বাক্য, বাইনারি বৃষ্টিতে ভিজে থাকে উপমা-রূপক। এআই শোনে—কিন্তু শোনে কি হৃদয়ের কম্পন? সে জানে ছন্দ, জানে সহস্র উপাখ্যান, কিন্তু জানে না হঠাৎ থেমে যাওয়া দীর্ঘশ্বাস, ভাঙা দুপুরে হারিয়ে যাওয়া নামহীন দুঃখ। তবু তার আঙুলে জন্মায় নতুন সম্ভাবনা, ভাষার মানচিত্রে আঁকে অজানা পথ। মানুষের কল্পনা পায় এক নীরব সহযাত্রী, যে ভুল করে না, কিন্তু অনুভবও করে না। সাহিত্যের আকাশে তাই আজ যুগল নক্ষত্র—মানুষ আর যন্ত্র, আলোর দ্বন্দ্বে বাঁধা। কলমটি কার, তা আর প্রশ্ন নয় একা, প্রশ্ন শুধু—আত্মা থাকবে কি লেখার ভেতর?     আরও বাংলা কবিতা

সময়ের এপিটাফ
কবিতা

সময়ের এপিটাফ

সময়ের এপিটাফ ফারহানা খান ভাঙা জানালার ফাঁক গলিয়ে সন্ধ্যার আলো ঢুকে পরে নিঃশব্দে, ধুলোমাখা টেবিলের কোণে দাঁড়িয়ে থাকে পুরোনো লন্ঠন। তার শিখায় আজও লেগে আছে হলদে হয়ে যাওয়া সময়ের গন্ধ, দেয়াল জুড়ে লেগে রয়েছে অচেনা ছায়া এক অনন্ত অপেক্ষার দীর্ঘশ্বাস। হঠাৎ শিস দিয়ে উঠা শেষ ট্রেনের শব্দটা মিশে যায় কাকের ডাকে। আমি জানি- ফিরে আসবেনা কেউ, কেউ ফেরেনা! শুধু অপেক্ষার প্রহর ফিরে আসে বারবার। জানালার ওপারে ঝুলে থাকা আকাশে মিলিয়ে যাচ্ছে অস্ফুট আলো ছড়ানো গোধূলি, অচেনা অন্ধকারে হারিয়ে যাচ্ছে চেনা দৃষ্টি, অন্ধ শালিক পাখিটা নীড় খুঁজে পায়নি এখনো, তার অপেক্ষায় কেউ নেই; কারো অপেক্ষায় কেউ থাকেনা। শুধু সময়ের এপিটাফে লেখা থাকে “প্রতীক্ষা”। 📌 আরও পড়ুন আরো কবিতা পড়ুন সাহিত্য বিভাগ লেখা পাঠানোর নিয়ম 📌 কবিতা সম্পর্কে জানুন বাংলা কবিতা – উইকিপিডিয়া আধুনিক কবিতা – উইকিপিডিয়া

কবিতা, বিখ্যাতদের লেখা

জোনাকিরা

জোনাকিরা আহসান হাবীব তারা- একটি দুটি তিনটি করে এলো তখন- বৃষ্টি-ভেজা শীতের হাওয়া বইছে এলোমেলো, তারা- একটি দু’টি তিনটি করে এলো। থই থই থই অন্ধকারে ঝাউয়ের শাখা দোলে সেই- অন্ধকারে শন শন শন আওয়াজ শুধু তোলে। ভয়েতে বুক চেপে ঝাউয়ের শাখা , পাখির পাখা উঠছে কেঁপে কেঁপে । তখন- একটি দু’টি তিনটি করে এসে এক শো দু শো তিন শো করে ঝাঁক বেঁধে যায় শেষে তারা- বললে ও ভাই, ঝাউয়ের শাখা, বললে, ও ভাই পাখি, অন্ধকারে ভয় পেয়েছো নাকি ? যখন- বললে, তখন পাতার ফাঁকে কী যেন চমকালো। অবাক অবাক চোখের চাওয়ায় একটুখানি আলো। যখন- ছড়িয়ে গেলো ডালপালাতে সবাই দলে দলে তখন- ঝাউয়ের শাখায়- পাখির পাখায় হীরে-মানিক জ্বলে। যখন- হীরে-মানিক জ্বলে তখন- থমকে দাঁড়াঁয় শীতের হাওয়া চমকে গিয়ে বলে- খুশি খুশি মুখটি নিয়ে তোমরা এলে কারা? তোমরা কি ভাই নীল আকাশের তারা ?আলোর পাখি নাম জোনাকি জাগি রাতের বেলা, নিজকে জ্বেলে এই আমাদের ভালোবাসার খেলা। তারা নইকো- নইকো তারা নই আকাশের চাঁদ ছোট বুকে আছে শুধুই ভালোবাসার সাধ।

কবিতা

আকাশলীনা

আকাশলীনা জীবনানন্দ দাশ সুরঞ্জনা, ওইখানে যেওনাকো তুমি, বোলোনাকো কথা ওই যুবকের সাথে; ফিরে এসো সুরঞ্জনা: নক্ষত্রের রুপালি আগুন ভরা রাতে; ফিরে এসো এই মাঠে, ঢেউয়ে; ফিরে এসো হৃদয়ে আমার; দূর থেকে দূরে— আরো দূরে যুবকের সাথে তুমি যেওনাকো আর। কি কথা তাহার সাথে? তার সাথে! আকাশের আড়ালে আকাশে মৃত্তিকার মতো তুমি আজ: তার প্রেম ঘাস হ’য়ে আসে। সুরঞ্জনা, তোমার হৃদয় আজ ঘাস: বাতাসের ওপারে বাতাস— আকাশের ওপারে আকাশ।     কবিতা-রাত্রি

কবিতা, নির্বাচিত লেখা

রাত্রি

রাত্রি অমিয় চক্রবর্তী অতন্দ্রিলা, ঘুমোওনি জানি তাই চুপিচুপি গাঢ় রাত্রে শুয়ে বলি,শোনো, সৌরতারা ছাওয়া এই বিছানায় -সূক্ষ্মজাল রাত্রির মশারি- কত দীর্ঘ দু-জনার গেল সারাদিন, আলাদা নিঃশ্বাসে – এতক্ষণে ছায়া-ছায়া পাশে শুই কী আশ্চর্য দু-জনে দু-জনা – অতন্দ্রিলা, হঠাৎ কখন শুভ্র বিছানায় পড়ে জ্যোৎস্না, দেখি তুমি নেই।       আধুনিক কবিতা

Scroll to Top