রাতুলের বন্ধু

হুমায়ুন আবিদ

রাতুল তৃতীয় শ্রেণীতে পড়ে। স্কুলের বার্ষিক পরীক্ষা শেষ। স্কুল বন্ধ তাই সারাদিন পাড়ার বন্ধুদের সাথে খেলাধুলা আর হৈচৈ করে সময় কাটানোই এখন তার কাজ।

রাতুল কয়েকদিন ধরে লক্ষ্য করছে একটি অচেনা মা কুকুর প্রতিদিন সকালে নাস্তার সময় এবং দুপুরে খাওয়ার সময় তাদের বাড়ির রান্না ঘরের সামনে এসে বসে থাকে।

কেহো লাঠি দিয়ে আঘাত করলেও যায় না শুধু কু কু শব্দ করে, যেনো কিছু বলতে চায়।

কুকুরটিকে খাবার মাটিতে দিলে খায় না কিন্তু কোন পলিথিন কিংবা শক্ত কোন প্যাকেটে দিলে তা মুখে নিয়ে দ্রুত কোথাই যেনো দৌড়ে চলে যায়।

রাতুল মা কুকুরের এই অদ্ভুত আচরণের বিষয়টি নিয়ে খুব ভাবতে থাকে।

রাতুল একদিন তার বন্ধু রানাকে মা কুকুরের অদ্ভুত আচরণের বিষয়টি খুলে বললে, রানা একটু চিন্তা করে  বললো,

চল একদিন মা কুকুরের পেছন পেছন গিয়ে দেখি খাবারের প্যাকেট নিয়ে সে কোথাই যায়।

রাতুল বললো, তাহলে আগামীকাল নাস্তার সময় আমাদের বাড়িতে চলে আয় তারপর দু’জন মিলে মা কুকুরের পেছন পেছন গিয়ে দেখবো সে কোথাই যায়।

পরদিন যথাসময়ে রানা এসে হাজির হলে পরিকল্পনামত মা  কুকুরকে খাবারের প্যাকেট দিলো।

মা কুকুর খাবারের প্যাকেটটি মুখে নিয়ে যখন দৌড়াতে লাগলো, চুপিচুপি রাতুল আর রানাও তখন মা ককুরের পেছন পেছন দৌড়াতে লাগলো।

মা কুকুরটি এক সময় গ্রামের শেষ প্রান্তে রাস্তার পাশে একটি পুরোনো ভাঙ্গা বাড়ির মধ্যে ডুকে পড়লো।

রাতুল আর রানাও সেই পুরনো ভাঙ্গা বাড়ির ভিতর ডুকে পড়লো।

দু’জন মিলে খুঁজতে খুঁজতে দেখলো একটি পরিত্যক্ত ঘরের কোনার মধ্যে মা কুকুরটি  তার দুইটি ছোট বাচ্চাকে খাবারের প্যাকেট ছিড়ে দিচ্ছে আর বাচ্চা দুটোও মজা করে খাচ্ছে ।

হঠাৎ মা কুকুর রাতুল আর রানাকে দেখে কু কু করতে করতে লেজ নাড়াতে থাকলো।

রাতুল আর রানা মা কুকুরের মাথায় হাত বুলিয়ে চলে এলো।

নাদুসনুদুস সুন্দর কুকুরের বাচ্চাদের প্রতি রাতুলের বেশ মায়া পড়ে গেলো।

বাড়ি ফেরার পথে রাতুল রানাকে বললো, এখানে কুকুরের বাচ্চাদুটো নিরাপদ না, শিয়াল যদি একবার খুঁজ পায় তাহলে বাচ্চাদুটোকে মেরে খেয়ে ফেলবে।

রানা বললো, তাহলে কি করা যায়। রাতুল বললো, বাচ্চাদুটোকে যদি আমাদের বাড়িতে নিয়ে আসি তাহলে কেমন হয়।

রানা বললো, খুব ভালো হয়। রাতুল এবং রানা ফিরে এসেই তাদের বাড়ির পেছনে একটি পরিত্যাক্ত জায়গায় পুরাতন ইট দিয়ে সুন্দর একটি ঘর তৈরী করলো।

পুরাতন ইট দিয়ে ঘর তৈরী করতে দেখে রাতুলের আম্মু জিজ্ঞেস করলো, তোমরা এই ছোট্ট ঘর কিসের জন্য তৈরী করেছো।

রাতুল বললো, জানো আম্মু আমাদের বাড়িতে সকালে এবং দুপুরে যে মা কুকুরটি এসে খাবার নিয়ে যায় তার না দুটো সুন্দর বাচ্চা আছে।

রাস্তার পাশে পুরাতন ভাঙ্গা বাড়িতে তারা থাকে।

সেখানে শিয়াল যদি খুঁজ পায় তবে বাচ্চাদুটোকে মেরে খেয়ে ফেলবে তাই এখানে নিয়ে আসবো।

মা বললো, বাচ্চা আনার সময় যদি মা কুকুর তোমাদের কাঁমড়ে দেয়।

রাতুল বললো, মা কুকুরটি যখন আমাদের বাড়ি থেকে খাবার নিতে আসবে তখন গিয়ে বাচ্চাদুটোকে নিয়ে আসবো।

ও হ্যাঁ আমরা না আসা পর্যন্ত কিন্তু মা কুকুরকে খাবারের প্যাকেট দেবে না।

পরদিন সকালের নাস্তার সময় মা কুকুরটি রাতুলদের বাড়িতে আসলে, রাতুল আর রানা দৌড়ে গিয়ে বাচ্চা দুটোকে নিয়ে আসে।

তারপর খাবারের প্যাকেট দেখিয়ে মা কুকুরকে পুরাতন ইট দিয়ে তৈরী ঘরের সামনে নিয়ে আসে।

মা কুকুরটি খাবারের প্যাকেট নিতে এসে বাচ্চাদের দেখে লেজ নাড়িয়ে কু কু করতে থাকে।

তারপর থেকে বাচ্চাদুটো রাতুলদের বাড়িতেই বড় হতে থাকে।

মা কুকুর এবং বাচ্চাদুটো রাতুলের খুব ভক্ত হয়ে যায়। রাতুল বাচ্চা দুটোর নাম দেয় রাজু এবং সাজু।

রাতুল বাচ্চাদুটোকে রাজু, সাজু  বলে ডাকলেই দৌড়ে চলে আসে। রাতুল যেখানেই যায় রাজু-সাজু সেখানে গিয়ে হাজির হয়।

রাজু- সাজু এখন পাড়ার বন্ধুদের মতোই রাতুলের খুব ঘনিষ্ঠ বন্ধু।

 

 

গল্প

শেয়ার করুন:

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও লেখা:

Scroll to Top