অহংকারি রাজহাঁস
ফারিহা জান্নাত তোহফা
একদা একটা বড় জঙ্গলে অনেক সুন্দর পশুপাখি বাস করতো। তাদের মধ্যে একটি অহংকারি রাজহাঁস ছিল।
রাজহাঁসটি নিজের সৌন্দর্যের জন্য খুবই অহংকার করতো। রাজহাঁসটি সত্যিই খুব সুন্দর ছিল।
এক সুন্দর সকালে রাজহাঁস নদীতে গেলো পানি আর মাছ খেতে। আড়াল থেকে একটি বাঘ রাজহাঁসকে দেখলো।
এত সুন্দর হাঁস খেতে না জানি কত মজা হবে। লোভে তার জিহ্বায় পানি এসে গেলো।
তাকে খাওয়ার ফন্দি আটলো মনে মনে। তার সামনে গিয়ে বলল, “ও রাজহাঁস তুমি কত সুন্দর!!
আমি অত্যন্ত গর্বিত যে আমাদের জঙ্গলে তোমার মত সুন্দর প্রাণি আছে। নদীর উপরে উঠে এসো! আমি তোমার গায়ে হাত বুলিয়ে দেই।”
রাজহাঁস বলল, “তোর বুঝি হিংসে হচ্ছে আমাকে দেখে। ছিঃ! তোর নোংরা হাত দিয়ে আমার শরীরটাকে নোংরা বানাবি।
তোর গায়ের রঙ দেখছিস কত বিচ্ছিরি! তোকে যদি মানুষেরা দেখে তাহলে বমি করে ফেলবে।
তুই যদি মাটিতে ঘুমাস তাহলে কেউ বুঝবেই না যে এখানে তুই শুয়ে আছিস।” বাঘ এই সব কথা শুনে দুঃখ পেয়ে লজ্জায় লাল হয়ে চলে যায়।
কাকের সাাথে খারাপ ব্যবহার
আরেকদিন কয়েকটা কাক এসে এই নদীতে পানি খেতে লাগল, তা দেখে রাজহাঁস বললো, “এই তোদের এত সাহস কিভাবে হলো আমার নদীতে এসে পানি খাওয়ার।
খেয়ে নদীর রঙটাই কালো করে দিয়েছিস।” কাকেরা দুঃখ পেয়ে চলে যায়।
এভাবেই দিন কেটে যায়।
একদিন অনেক পিঁপড়া শস্য দানা কষ্ট করে এক জায়গায় জড়ো করছিলো। সেই সব দানা রাজহাঁসটা খেয়ে ফেললো। পিঁপড়ারা বলল, “তুমি আমাদের পরিশ্রম নষ্ট করে ফেলেছো।”
রাজহাঁস বলল, “তোদের এতো সাহস আমাকে খেতে মানা করছিস? এর পরিণাম পেতেই হবে।”
এই বলে কয়েকটা পিঁপড়াকে পায়ের নীচে ফেলে পিষে ফেলল। তা দেখে পিঁপড়াদের রাজা বলল, “এতো অহংকার করা ভালো না।”
এইভাবে বিভিন্নভাবে জঙ্গলের সবাইকে যন্ত্রণা ও কষ্ট দিতো রাজহাঁস। সবার ক্ষতি করে তার আনন্দ হতো।
নিজের সৌন্দর্য নিয়ে অহংকার করতে লাগলো আরো বেশি বেশি। একদিন প্রচণ্ড অসুস্থ হয়ে গেলো সে। অনেকদিন অসুখে ভোগার পর রাজহাঁসের সুন্দর পালক ঝরে ঝরে পড়তে লাগলো।
সমস্ত পালক ঝরে পড়ায় তাকে দেখতে খুবই বিশ্রী লাগছিলো। তার মধ্যে নতুন করে সমস্ত শরীরে ছোট ছোট গুটি বের হলো।
এখন তাকে দেখতে আরো বিশ্রী লাগছিলো। নিজের দিকে তাকিয়ে সারাক্ষণ কান্না করে সে, আর নিজের অহংকারের জন্য অনুতপ্ত হয়।
সে বুঝতে পেরেছে তার অহংকারই তার এই দুর্ভোগের কারণ।


