জাদুকর বন্ধু ইরেজার
প্রিন্স মাহমুদ হাসান
মনে করো তুমি ক্লাস টু-তে পড়ো। তোমার স্কুলের মিস তোমাকে পড়া লিখতে বললেন।
তুমিও মিসের কথামতো দ্রুত লিখতে শুরু করলে। তুমি পেনসিল দিয়ে সবার আগে লিখে ফেললে কিন্তু খেয়াল করলে—লেখার মাঝখানে কোনো এক লাইনে বানান ভুল করে বসেছো।
মিসের নির্দেশ ছিল—তাড়াতাড়ি লিখলেই হবে না, বানানেও নির্ভুল হতে হবে। এই মুহূর্তে কাটাকাটি সম্ভব নয়, নতুন করে লেখা তো নয়ই।
এবার তুমি প্রথমেই যেই বন্ধুটির কথা মনে করবে, সে আর কেউ নয়—তোমার সেই প্রিয় বন্ধু ইরেজারের কথা।
কেউ কেউ তাকে ‘রাবার’ বলেও ডাকে, যার অর্থ মোছার যন্ত্র বা মুছনির উপকরণ। তোমার স্কুলব্যাগে, পেনসিলের পাশেই সে সব সময় অবস্থান করে।
ভুল সংশোধন করাই যেন তার একমাত্র কাজ। এসো, এবার জেনে নেওয়া যাক ইরেজার সম্পর্কে।
ধারণা করা হয়, পেনসিলের প্রয়োজনে ইরেজারের আবির্ভাব। রাবার দিয়ে তৈরি ইরেজার আবিষ্কৃত হয় এখন থেকে প্রায় ২৫৫ বছর আগে।
আঠারো শতকের দিকে, ১৭৭০ সালে, সর্বপ্রথম পেনসিলের দাগ মুছতে এডওয়ার্ড নাইম্যান নামক এক ইংরেজ ভদ্রলোক রাবার দিয়ে ইরেজার তৈরি করেন।
পেনসিল দিয়ে লিখতে বা আঁকতে গেলে ইরেজার এক অপরিহার্য উপকরণ হয়ে উঠেছে। কিছু কিছু ইরেজার দিয়ে আবার কালি-ও মোছা যায়।
রাবার দিয়ে ইরেজার তৈরির আগে মানুষ রুটি, বালি বা কাপড় ব্যবহার করে পেনসিলের দাগ মুছত।
ইরেজার ব্যবহারের ধরন অনুযায়ী বিভিন্ন রং ও আকারের হয়ে থাকে।
অনেক পেনসিলের পেছনে ছোট্ট একটি ক্যাপের মতো ইরেজার লাগানো থাকে, যা সবারই চেনা।
অনেকেই এই অংশে মজার ছলে চোখ, নাক ও মুখ আঁকতে ভালোবাসে।
এছাড়াও, ইরেজার চৌকোনা, গোলাকার কিংবা ফলের আকৃতির হয়ে থাকে।
বিভিন্ন ইরেজার বিভিন্ন উপাদানে তৈরি হয়। সাধারণত ইরেজার প্রাকৃতিক রাবার, সিন্থেটিক রাবার, ভিনাইল বা প্লাস্টিক (PVC) দিয়ে তৈরি হয়।
প্রয়োজন অনুসারে এতে খসখসে পদার্থ, আকর্ষণীয় রং বা সুগন্ধিও মেশানো হয়।
অধিকাংশ আধুনিক ইরেজার পেট্রোলিয়ামজাত কেমিক্যাল থেকে তৈরি হয়, যা ‘সিন্থেটিক রাবার’ নামে পরিচিত।
এটি বেশ টেকসই এবং বিভিন্ন আকৃতিতে তৈরি করা যায়।
তবে কেমিক্যাল দিয়ে তৈরি হওয়ায় ভুলেও ইরেজার মুখে নেওয়া উচিত নয়।
প্রকৃত বন্ধু সেই, যে ভালো বিষয়গুলো গ্রহণ করার পাশাপাশি ভুলগুলোও শুধরে দিতে পারে।
ইরেজারের কল্যাণে আমরা বুঝতে পারি—ভুল হলেই থেমে যেতে হয় না।
মানসিকভাবে দৃঢ় হলে অনেক ভুলই শুধরানো যায়। ইরেজার ঠিক যেন ভুল শুধরানোর এক জাদুকর বন্ধু।
ইরেজার আমাদের শেখায়—ভুল থেকে কীভাবে শিক্ষা নিতে হয় এবং প্রতিটি ধাপে কীভাবে এগিয়ে যেতে হয়।
(লেখাটি মাসিক কুঁড়িতে প্রকাশিত)


