করোনার পর আতঙ্কের আরেক নাম কি জম্বি ভাইরাস?
প্রিন্স মাহমুদ হাসান
জম্বি ভাইরাস? হ্যাঁ ঠিকই পড়ছেন। জম্বি মুভি দেখেননি বা জম্বির কথা শোনেননি এমন মানুষ খুব কমই আছে কিন্তু জম্বি ভাইরাস-এর নাম অনেকেই শোনেননি।
সাধারণত হলিউড বা কোরিয়ান মুভিগুলোতে দেখানো হয় কোন একটি ভাইরাস এর সংক্রমনের কারণে মানুষ জম্বি বা দানবে পরিণত হচ্ছে। যা দ্রুত মানুষ থেকে পশু পাখিতেও ছড়াচ্ছে।
বর্তমানে প্রাপ্ত জম্বি ভাইরাসটি মুভিতে যেমন দেখা যায় ঠিক সেরকম না ঘটালেও বা মুভির মত এখনও সংক্রমিত না হলেও এর একটি বৈশিষ্ট্যের কারণে এর নাম জম্বি ভাইরাস রাখা হয়েছে।
এই ভাইরাসের প্রথম বৈশিষ্ট্যটি হচ্ছে বরফের মধ্যেও এর বছরের পর বছর কোন রকম সংগ্রাম ছাড়াই সুপ্তাবস্থায় বেঁচে থাকা।
এবার আন্দাজ করে বলুন তো কত ব্ছর হতে পারে? বিশ, পঞ্চাশ বা একশ বছর। আসলে এর কোনটাই সঠিক নয়, যা আমাদের সবার কল্পনারও বাইরে।
রাশিয়ায় প্রাপ্ত একটি জম্বি ভাইরাস ৪৮,৫০০ বছর ধরে আমাদের পৃথিবীতে ঠিকে আছে। আর এই কারণে এই ভাইরাসটিকে দৈত্য বা জম্বি ভাইরাস বলা হয়।
ভাইরাসটি ছোটবেলায় পড়া পুকুরের তলদেশে কৌটার ভিতর ঘুমন্ত দৈত্যের মত সুদীর্ঘ বছর ঘুমিয়ে ছিল।
জম্বি ভাইরাস-এর উৎপত্তি:
সম্প্রতি রাশিয়ার সাইবেরিয়াতে ৭ টি হিমায়িত হ্রদ বা পারমাফ্রস্টে বিজ্ঞানীরা সর্বমোট ১৩ ধরণের ভাইরাস এর সন্ধান পান।
যার মধ্যে একটি জম্বি ভাইরাস ছিল যা ৪৮ হাজার ৫০০ বছরের পুরোনো অ্যামিবা ভাইরাস। পরবর্তীতে এই ভাইরাসটি কালচার এর মাধ্যমে জীবিত হয়ে ওঠে।
পারমাফ্রস্ট কী?
এটি হল এমন কোন একটি ভূমি যা সম্পূর্ণরূপে ৩২°ফারেনহাইট (০°সেন্টিগ্রেড) বা তারও তারও কম তাপমাত্রায় দুই বছর বা তারও অধিক স্থায়ীভাবে হিমায়িত থাকে।
এই স্থায়ীভাবে হিমায়িত স্থানগুলো পৃথিবীর উচ্চ অক্ষাংশের উত্তর ও দক্ষিণ গোলার্ধে উচ্চ পর্বতযুক্ত অঞ্চলে অবস্থিত।
তবে কি জম্বি ভাইরাস সংক্রামক?
জ্বি, জম্বি ভাইরাস সংক্রামক। ধারণা করা হচ্ছে এটি কোভিড-১৯ করোনা ভাইরাস থেকেও মারাত্মক সংক্রামক। যা দ্রুত মানুষ থেকে পশু, পাখি ও অন্যান্য প্রাণীতে ছড়াতে পারে।
তাহলে কি আতঙ্কের আরেক নাম হতে যাচ্ছে জম্বি ভাইরাস?
এই বিষয়ে কোন সন্দেহ নেই যে করোনাকালীন আমাদের লক ডাউনের ভিতর দীর্ঘ সংগ্রাম করতে হয়েছে। আমরা এই সময় আমাদের অনেক প্রিয়জনদের হারিয়েছি,
স্থবির হয়ে গিয়েছিল অনেক দেশের অর্থনীতি যার রেশ এখনও বিরাজমান।
সুতরাং বলা যায় একটি ভাইরাস আমাদের জন-জীবনের জন্য বড় ধরণের হুমকি স্বরূপ হতে পারে।
জম্বি ভাইরাস করোনার চেয়ে বেশি সক্রিয় হওয়ায় বলা চলে এই ভাইরাসটি আমাদের জন্য ভয়ানক আকারে ছড়াতে পারে।
তাছাড়া এক দেশ থেকে আরেক দেশে ভাইরাসটির সাহায্যে জৈব অস্ত্র বা জীবানু বোমা নিক্ষেপের আশঙ্কাও রয়েছে।
দিনদিন বৈশ্বিক তাপমাত্রা বেড়ে চলায় পারমাফ্রস্ট অতি দ্রুত গলতে শুরু করেছে।
পারমাফ্রস্ট এর ভিতর আটকে থাকা জম্বি ভাইরাসগুলো অনুকূল পরিবেশ পেলে আরও সক্রিয় হয়ে ওঠবে।
এভাবে যতদিন গড়াবে সমস্যা আরও প্রকট আকারে ধারণ করবে।
প্রতিকার:
ভাইরাসটিকে আটকাতে হলে সব সমাধান আমাদের কাছে না থাকলও কিছু সমাধান আমাদের কাছ আছে।
গ্লোবাল ওয়ার্মিং বা বৈশ্বিক তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণ রাখতে পারলে আমরা ভাইরাসটির বিরুদ্ধে প্রতিকূল ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারব।
তাছাড়া ভাইরাসটিকে রুখতে বিশ্বের প্রতিটি দেশের সৌহার্দপূর্ণ সম্পর্ক রাখা অতি জরুরী।


