ভাইফোঁটা
সুব্রত দাস
ভাইফোঁটা উৎসব
নীল আকাশে রোদ ঝিকমিক,
ধানের শীষে হাওয়া,
হিম জড়ানো দূরের মাঠে
হারিয়ে কোথায় যাওয়া!
উৎসবের বিষয়বস্তু
কোথায় কোথায় ভাইয়ের ভালে
চন্দনেরই টিপ,
ভাইফোঁটা দিই ভোর শিশিরে—
জ্বালিয়ে রাখি দীপ!
জ্বালিয়ে রাখি, স্বপ্ন আঁকি
ধান–দুব্বো–শাঁখে,
আশীষ যেন ভাই সোনাদের
সতেজ সবুজ রাখে!!
নোট:
ভাইফোঁটা হলো বাঙালির এক আবেগঘন পারিবারিক উৎসব, যা মূলত ভাই–বোনের ভালোবাসা, স্নেহ ও মঙ্গলকামনার প্রতীক।
ভাইফোঁটা কী?
উৎসবটি পালিত হয় কার্তিক মাসের শুক্লপক্ষের দ্বিতীয়া তিথিতে, দীপাবলির দু’দিন পর। এই দিনে বোনেরা ভাইয়ের কপালে ফোঁটা দেয়—চন্দন, সিঁদুর, ধান, দূর্বা ইত্যাদি দিয়ে—আর ভাইয়ের দীর্ঘায়ু, সুস্বাস্থ্য ও নিরাপদ জীবনের জন্য প্রার্থনা করে।
ভাইফোঁটার প্রচলিত রীতি-
- সকালে স্নান করে সব বোনেরা পূজার উপকরণ প্রস্তুত করে
- বোনেরা ভাইকে সামনে বসিয়ে কপালে ফোঁটা দেয়
- মন্ত্র বা শুভকামনা উচ্চারণ করা হয়
- ভাই বোনকে উপহার দেয় ও আশীর্বাদ করে
পৌরাণিক গল্প
ভাইফোঁটার পেছনে যম ও যমুনার কাহিনি প্রচলিত। যমুনা তার ভাই যমরাজকে এই দিনে ফোঁটা দিলে যম তাকে অমরত্বের আশীর্বাদ দেন। তখন থেকেই বিশ্বাস—এই দিনে ফোঁটা নিলে অকালমৃত্যু দূরে থাকে।
সামাজিক ও মানসিক গুরুত্ব
ভাইফোঁটা শুধু ধর্মীয় উৎসব নয়—
- উৎসবটি পারিবারিক বন্ধন দৃঢ় করে
- উৎসবটির ফলে দূরে থাকা ভাই-বোনকে কাছে আনে
যা ভালোবাসা ও দায়িত্ববোধের স্মারক হয়ে থাকে
সংক্ষেপে, ভাইফোঁটা মানে রক্তের সম্পর্কের বাইরে গিয়ে এক অটুট আবেগের বন্ধন—যেখানে ভালোবাসাই সবচেয়ে বড় উৎসব।


