শরৎ রূপ
সুব্রত চৌধুরী
যেদিক তাকাই রূপের আড়ং,
বাজে খুশির বীণ,
মন-ময়ূরী নেচে বেড়ায়,
তাক ধিনা ধিন ধিন।
তুলোট মেঘের আনাগোনা
আকাশজুড়ে আজ,
আকাশ নীলে মেঘ-বালিকার
নয়নকাড়া সাজ।
নদীর পাড়ে দোলায় চামর
কাশফুলেরা যেই,
শিউলি-ফুলের মালা গলে
নাচে খুকু ধেই।
মেঘের ছানা আনাগোনা,
স্বচ্ছ আকাশ নীল,
শরৎ রূপে খুলবে সবার
বদ্ধ মনের খিল।
নেমে এসো তুলোমেঘ
নূর-ই-ইলাহী
সাদা মেঘ, সাদা মেঘ, ওই উড়ে যায়,
কোথায় যাও তুলোমেঘ, কোন ঠিকানায়?
ভেসে ভেসে নীল ছুঁয়ে উড়ে যাও দূরে,
দূরে গিয়ে মিশে যাও আজানের সুরে!
সুরে সুরে শরতের ছোঁয়া পেয়ে ফের,
পাহাড়চূড়োয় উঠে দেখে নাও ঢের!
নদীকূলে নেমে এসো কাশফুলের দুলে,
এসো তুমি সাদা মেঘ, নেমে এসো ভুলে।
তারপর চুপিচুপি প্রকৃতির নায়ে,
শণচুল হয়ে যাও ইক্ষুর গায়ে!
বুঝি আমি, বুঝি সব, তুলোমেঘ তুমি,
শরতের সই হয়ে কাশফুল চুমি!
আখফুল, কাশফুল মুখ খুলে বলে,
দেখে নাও আমাদের, ছুঁয়ে নাও গলে।
মনে রেখো, আমরাও বিধাতাকে স্মরি,
বিধাতার ইশারায় বাঁচি আর মরি।
তুলোমেঘ, তুলোমেঘ, নেমে এসো নিচে,
নিচে এসে দুধভাত খেয়ে নাও মিছে।
মিছেমিছি আর খেয়ো সাদা সাদা ডিম,
তুমি এলে আসবেই শিশিরের হিম।
শিউলি তলায় ফুল খুকিরা
সাঈদুর রহমান লিটন
শিউলি ফুলের গন্ধে আকুল,
রূপে মনটা হারায়,
ছোট্ট ছোট্ট ছেলেমেয়ে
ফুল পেতে হাত বাড়ায়।
বিনিসুতার মালা গেঁথে
পরে সবাই গলায়,
মনে তাদের অবাধ খুশি,
যায় বোঝা সব চলায়।
ফুলের মতো হাসতে থাকে
ভোর বিহানে শিশু,
শিউলি ফুলের মোহে পড়ে
ছুটতে থাকে পিছু।
সবার আগে পাওয়া যাবে
শিউলি গাছের তলে,
ফুল কুড়িয়ে ফুলখুকিরা
কত্তো গল্প করে।


