মাটি মিথ্যা সহ্য করে না

রচনা ও চিত্রনাট্য: শিকদার বাসির

দৃশ্য ১- বটতলা, সকাল

(লং শট থেকে জুম-ইন। কুয়াশা কাটছে। আবদুল করিম হুক্কা টানছেন, চোখ বোজা। দূর থেকে মতলব মিয়া হাঁপাতে হাঁপাতে ছুটে আসছেন।)

মতলব: করিম ভাই! করিম ভাই, শুনছেন?

করিম: (চোখ না খুলেই) তোমার পায়ের শব্দেই বুঝি, মতলব-আইজ খবরটা বড়।

মতলব: (হাঁপাতে হাঁপাতে বসে পড়ে) চেয়ারম্যান সাব গ্রামে হাসপাতাল বানাইবেন কইছেন!

করিম: (একটু থেমে) কবে কইলেন?

মতলব: ভোটের মাস দুয়েক আগে।

করিম: (আস্তে হুক্কায় টান দিয়ে) ভোটের আগে ওয়াদা, ভোটের পরে ভুলা যাওয়া-এই গল্প আমি তিনবার শুনছি, মতলব। চারবার শুনতে মন চায় না।

(সুফিয়া বেগম চায়ের কেটলি নিয়ে ঢোকেন।)

সুফিয়া: মতলব ভাই, এবার কোন খবর বেচতে আইছেন?

মতলব: (অপ্রস্তুত) ভাবি, খবর বেচি না তো-এমনি কই 1

সুফিয়া: (চা ঢালতে ঢালতে, হেসে) আপনার মুখের “এমনি” শুনলেই গ্রামের মানুষ সাবধান হয়ে যায়।

(মতলব মাথা চুলকায়। করিম চোখ খুলে হাসেন।)

করিম: চা খাও। আর এইটা মনে রাইখো-উন্নয়ন যদি সত্যি হয়, সেইটা প্রথমে মানুষের মুখে না, কাজে দেখা যায়।

দৃশ্য ২- করিমের উঠান, দুপুর

(তারেক ও শিউলি ঢাকা থেকে ব্যাগ হাতে নামছেন। শিউলি ফোনের স্ক্রিনে চোখ, হাঁটতে হাঁটতেই স্কুল করছে।)

তারেক: (ঘাম মুছতে মুছতে) বাবা, এই গরমে নেটওয়ার্কও ঠিকমতো পাই না।

করিম: (শান্তভাবে) বাপের বাড়িতে আসতে নেটওয়ার্ক লাগে বুঝি?

তারেক: (একটু থমকে) না বাবা… মানে, অভ্যাস হয়ে গেছে।

সুফিয়া: (রান্নাঘরের দরজা থেকে) অভ্যাসটাই তো আসল রোগ, বাবা।

শিউলি: (ফোন থেকে চোখ না তুলে) মা, এখানে কোনো কফিশপ নাই তো?

সুফিয়া: (মৃদু হেসে) নাই মা। তবে চিনি-গুড়ের চা আছে, যেটা তোমার শাশুড়ির হাতে বানানো-ঢাকার কফির চেয়ে খারাপ হবে না বইলা মনে হয়।

(রনি মাটি মাখা হাতে ঢোকে।)

রনি: ভাবি, একটা ছবি তুলবেন? আমি আর আমার সবজিক্ষেত-ক্যাপশন দিমু “শহরের বউয়ের গ্রাম দর্শন”।

শিউলি: (বিরক্তির হাসি) রনি ভাই, তুমি থামবা না।

তারেক: (রনির দিকে) তুই এখনো এই মাটি নিয়া পইড়া আছস?

রনি: (দৃঢ়ভাবে, কিন্তু রাগ না করে) ভাই, এইটা শখ না। আমি হিসাব কইরা নামছি-জৈব সবজির বাজার বাড়তেছে।

তারেক: (হালকা হেসে উড়িয়ে দিতে গিয়েও থেমে যায়) ….হিসাবটা দেখাইস আমারে।

(করিম দূর থেকে এই ছোট্ট মুহূর্তটা লক্ষ করেন, কিছু বলেন না-শুধু মুখে হালকা তৃপ্তির রেখা।)

দৃশ্য ৩ গ্রামের স্কুল, দুপুর

(নাসরিন ক্লাস নিচ্ছেন। জুঁই সামনের বেঞ্চে।)

নাসরিন: জুই, বড় হয়ে কী হতে চাও?

জুই: (উঠে দাঁড়িয়ে, স্থির কণ্ঠে) ডাক্তার, আপা। যাতে মায়ের মতো কাউকে ওষুধের অভাবে কষ্ট পাইতে না হয়।

নাসরিন; (নরম হয়ে) কেন এই কথা মনে হইলো তোর?

জুই: গতবার মা খুব অসুখে পড়ছিল। হাসপাতালে ডাক্তার ছিল না, ওষুধের টাকাও ছিল না। মা কানতেছিল, আমি খালি চাইয়া ছিলাম।

(ক্লাসে নীরবতা। জানালার বাইরে ডালিম উঁকি দেয়, বিদ্রূপের হাসি হাসে।)

ডালিম: (বাইরে থেকে) গরিবের মাইয়া ডাক্তার হইবো! শুনলেই হাসি পায়!

নাসরিন: (বাইরে এসে, ঠান্ডা অথচ ধারালো গলায়) ডালিম, একটা স্বপ্নরে হাসির খোরাক বানানোর আগে নিজের স্বপ্নটা কী, সেইটা ভাইবা দেইখো।

(ডালিম কিছু বলতে গিয়েও পারে না। মুখ শক্ত করে চলে যায়-তার চোখে বিদ্রূপের বদলে একটা চাপা অস্বস্তি।)

দৃশ্য ৪ চেয়ারম্যানের অফিস, বিকাল

(জহির চেয়ারম্যান চেয়ারে হেলান দিয়ে। মতলব পাশে দাঁড়ানো।)

চেয়ারম্যান: হাসপাতাল প্রজেক্টের টাকা কত আসছে?

মতলব: (গলা নামিয়ে) পঞ্চাশ লাখ, স্যার।

চেয়ারম্যান; বিশ লাখ কাজে যাক। বাকিটা…

মতলব: (মাথা নিচু করে) বুঝছি, স্যার।

(দরজায় নাসরিন। শেষ কথাগুলো শুনে ফেলেছেন। ভেতরে ঢোকেন।)

নাসরিন: চেয়ারম্যান সাহেব, স্কুলের চাল তিন জায়গায় ফুটা। বৃষ্টি হইলে ক্লাস বন্ধ থাকে। এইটার ব্যবস্থা হইবো কবে?

চেয়ারম্যান: (অপ্রস্তুত) দেখতেছি, দেখতেছি।

নাসরিন: তিন বছর ধইরা দেখতেছেন। আর এখন পঞ্চাশ লাখের হাসপাতালের কথা শুনলাম। স্কুলের জন্য কত রাখছেন, জানতে পারি?

চেয়ারম্যান: (রেগে) আপনি আমার হিসাব চাইতেছেন?

নাসরিন: (শান্ত অথচ দৃঢ়) না, স্যার। এই গ্রামের মানুষ চাইবে, একদিন।

(নাসরিন বেরিয়ে যান। মতলব ঢোক গিলেন।)

মতলব: স্যার, এই মেয়ে সমস্যা করবো।

চেয়ারম্যান: (দাঁতে দাঁত চেপে) ব্যবস্থা নিতে হইবো।

দৃশ্য ৫ হামিদার ঘর, সন্ধ্যা

(ভাঙা টিনের চালা। হামিদা মাটির চুলায় রান্না করছেন। জুঁই কোণে বসে ছেঁড়া বই পড়ছে।)

হামিদা: (আপনমনে) আল্লাহ, এই মাসের চাল প্রায় শেষ…

জুঁই: (বই বন্ধ করে) মা, আমার নতুন বই লাগবো না। পুরানটাই ঠিক আছে।

হামিদা: (চমকে) তুই শুনলি কেমনে?

জুঁই: (মৃদু হেসে) তোমার মুখ দেইখাই বুঝি, মা। বলা লাগে না।

(দরজায় ধাক্কা। ডালিম দাঁড়ানো, চোখে-মুখে অস্বস্তি।)

ডালিম: চাচি, বাবা কইছে… এই মাসের ঘরভাড়ার কথা

হামিদা: (নিচু স্বরে) বাবা, আর কয়টা দিন সময় দে।

ডালিম: (কন্ঠে জোর কম, কিন্তু কথা কড়া) সময় নাই, চাচি। বাবার হুকুম।

(জুঁই দরজায় এসে দাঁড়ায়, সরাসরি তাকায়।)

জুই: তোমার মা নাই, তাই না?

(ডালিম থমকে যায়। কিছু বলতে পারে না। ফিরে যায়-কিন্তু পা দুটো আগের মতো জোরে পড়ে না।)

দৃশ্য ৬ বটতলা, বিকাল

(ডাক্তার রফিক করিমের সঙ্গে কথা বলছেন।)

রফিক: চাচা, এই গ্রামে একটা ছোট ফ্রি ক্লিনিক করতে চাই। সরকারি সাহায্যের অপেক্ষায় না থেকে।

করিম: (একটু অবাক) শহরের ডাক্তার গ্রামে পইড়া থাকবা?

রফিক: (একটু থেমে) আমার মা একটা গ্রামেই মারা গেছিলেন, ওষুধ পান নাই বইলা। তখন আমি নয় বছরের। সেই থেইকা এই সিদ্ধান্ত।

করিম: (দীর্ঘশ্বাস ফেলে) তুমি এই যুগে বিরল মানুষ, বাবা।

(মতলব হন্তদন্ত হয়ে আসেন।)

মতলব: ডাক্তার সাব, আমি সাহায্য করমু! জমি লাগবো? আমি ঠিক কইরা দিমু-একটু কমিশন হইলেই চলবো।

রফিক: (হেসে) কমিশন ছাড়া হয় না, চাচা?

মতলব: (একটু ভেবে) হয়… তয় মন লাগে কম।

(করিম হাসেন, কিন্তু চোখে গম্ভীরতা।)

করিম: মতলব, একবার বিনা স্বার্থে কিছু করলে দেইখো-মনটা কত হালকা লাগে।

দৃশ্য ৭ করিমের উঠান, সন্ধ্যা

(তারেক আর রনি মুখোমুখি।)

তারেক: রনি, এই মাটি কামড়াইয়া থাকলে জীবনে কিছু হইবো না।

রনি: ভাই, শহরে গেলেই কি জীবন হয়? আমার হিসাবটা একবার দেখো-লাভের মার্জিন খারাপ না।

তারেক: (একটু থেমে) দেখাইস।

রনি: (কাগজ বের করে) এই যে। প্রথম বছরেই খরচ উঠবো, দ্বিতীয় বছর থেইকা লাভ।

(তারেক কাগজ হাতে নিয়ে সত্যিই মনোযোগ দিয়ে দেখেন। কিছুক্ষণ চুপ থাকেন।)

তারেক: (নরম গলায়) আমি পাঁচ লাখ দিমু। শর্ত একটাই-হিসাব প্রতি মাসে পাঠাবি।

রনি: (অবাক, তারপর হেসে) ব্যবসায়ীর মতোই শর্ত দিলা।

তারেক: (হালকা হেসে) ব্যবসায়ী তো এমনেই।

(সুফিয়া দূর থেকে দেখে মৃদু হাসেন-এই প্রথম দুই ভাইকে সমান চোখে কথা বলতে দেখলেন।)

দৃশ্য ৮ – নাসরিনের বাড়ি, রাত

(দরজায় ধাক্কা। চেয়ারম্যানের দুইজন লোক দাঁড়ানো।)

লোক: ম্যাডাম, চেয়ারম্যান সাব কইছেন-চুপ থাকলে ভালা।

নাসরিন: (দরজায় দাঁড়িয়ে, কণ্ঠ স্থির) গিয়া কইয়েন-চুপ থাকা শেখানোই আমার কাজ, নিজে চুপ থাকা না।

(লোকজন চলে যায়। দরজা বন্ধ করে নাসরিন কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থাকেন-হাত সামান্য কাঁপছে। তারপর ফোন তোলেন।)

নাসরিন: (ফোনে, গলা নিচু) রফিক ভাই, একটু কথা ছিল।

দৃশ্য ৯- বটতলা, পরদিন সকাল

(গ্রামবাসী জড়ো। নাসরিন, রফিক, রনি, করিম সামনের সারিতে।)

নাসরিন: (দাঁড়িয়ে) আপনারা জানেন, হাসপাতালের পঞ্চাশ লাখ টাকার কতটা আসলে হাসপাতালে যাইতেছে?

(গুঞ্জন ওঠে জনতার মধ্যে।)

চেয়ারম্যান: (পেছন থেকে) মিথ্যা কথা! এই মেয়ে মিথ্যা বলতেছে!

করিম: (ধীরে উঠে দাঁড়িয়ে) জহির, আমার সামনে মিথ্যার সাহস দেখাইও না।

চেয়ারম্যান: (কণ্ঠ নরম করে) করিম ভাই…

করিম: (গম্ভীর) চুপ করো। পঞ্চাশ বছর এই মাটিতে আছি। মিথ্যা এই মাটি সহ্য করে না।

(মতলব ধীরে সামনে আসেন, কণ্ঠে দ্বিধা কাটিয়ে।)

মতলব: স্যার, আমারেও মাফ কইরা দিয়েন-আমি নিজে শুনছি টাকা ভাগ হইতে। এতদিন চুপ ছিলাম, আজ থেইকা না।

(জনতা সরব হয়। চেয়ারম্যান কোণঠাসা।)

রফিক: (সামনে এসে) ভাই-বোনেরা, সরকারি টাকার হিসাব চাওয়ার অধিকার আপনাদের আছে, সেইটা চান। আর যেইটুকু আমরা নিজেরা পারি, নিজেরা শুরু করি-একটা ক্লিনিক দিয়াই শুরু হোক।

(জনতার মধ্যে সমর্থনের গুঞ্জন। চেয়ারম্যান নিঃশব্দে সরে যান।)

দৃশ্য ১০ গ্রামের পথ, বিকাল

(ডালিম একা বসে। হামিদা পাশ দিয়ে যাচ্ছিলেন।)

ডালিম: চাচি, একটু দাঁড়ান।

হামিদা: (থেমে) কী বাবা?

ডালিম: (মাথা নিচু) জুঁই জিজ্ঞেস করছিল, আমার মা আছে কিনা।

হামিদা: (নীরব থাকেন।)

ডালিম: (কাঁপা গলায়) মা মারা গেছেন তিন বছর আগে । তারপর থেইকা বাবার কথামতোই চলতেছি-কিন্তু ওই ছোট্ট মেয়েটার একটা কথায় বুকে লাগলো।

হামিদা; (তার মাথায় হাত রেখে) বাবা, ভেতরের মানুষটা হারায় নাই। খালি একটু ঢাকা পড়ছে।

(ডালিম চোখ মোছে, কিছু না বলে হাঁটা দেয়-কিন্তু আগের চেয়ে ধীরে, ভাবনায় ডুবে।)

দৃশ্য ১১- করিমের উঠান, সন্ধ্যা

(শিউলি রান্নাঘরের দরজায়।)

শিউলি: মা, রান্নায় একটু সাহায্য করি?

সুফিয়া: (মৃদু অবাক) হঠাৎ কী হইলো, মা?

শিউলি: (একটু লজ্জিত হেসে) সারাদিন দেখলাম, এই গ্রামের মানুষ কত অল্পে বাঁচে, কত লড়াই করে। আর আমি ফোনেই ডুইবা ছিলাম।

সুফিয়া: (হাত ধরে) লজ্জা পাইও না, মা। বোঝাটাই বড় কথা।

(রনি ছুটে আসে, নিঃশ্বাস ভারী।)

রনি: বাবা! জুঁইয়ের জ্বর অনেক বাইড়া গেছে, জ্ঞান নাই!

(সবার মুখে উদ্বেগ।)

করিম: রফিককে খবর দে, তাড়াতাড়ি!

দৃশ্য ১২ – হামিদার ঘর, রাত

(রফিক জুঁইকে দেখছেন। বাইরে সবাই অপেক্ষায়।)

রফিক: (বেরিয়ে এসে) ভয়ের কিছু নাই। জ্বরটা বেশি উঠছিল, ওষুধ দিছি। কাল সকালেই ভালো লাগবো।

(হামিদা মাটিতে বসে পড়েন, চোখে পানি।)

হামিদা: আলহামদুলিল্লাহ!

(ডালিম নিঃশব্দে এসে দাঁড়িয়েছে, হাতে ওষুধের ব্যাগ।)

ডালিম: (নিচু স্বরে) চাচি, এক মাসের ওষুধ আইনা দিলাম। আর… জুঁইয়ের পড়ার খরচটাও আমি দেখুম।

(হামিদা অবাক হয়ে তাকান। ভেতর থেকে জুঁইয়ের ক্ষীণ কণ্ঠ শোনা যায়।)

জুই: (আধো ঘুমে) মা… আমি ডাক্তার হমুই…

(সবাই নীরব হয়ে যান। করিম ধীরে উঠে দাঁড়ান, আকাশের দিকে তাকান।)

করিম: এই গ্রামে অনেক মতলব আছে, অনেক চেয়ারম্যানও আছে। কিন্তু একটা জুঁইও আছে, একটা রফিকও আছে, একটা নাসরিনও আছে। যতদিন এরা থাকবো, ততদিন এই মাটি বাঁচবো।

তারেক: (বাবার পাশে দাঁড়িয়ে) বাবা, প্রতি মাসে আসমু, কথা দিলাম।

করিম: (হালকা হেসে) বাপের বাড়ি আসতে কথা দেওয়া লাগে না, বাবা। শুধু মনে রাইখো পথটা।

(মতলব চোখ মুছতে মুছতে হাসেন।)

মতলব: ভাই, আমি কি ভালো মানুষ হইতে পারমু?

করিম: (তার কাঁধে হাত রেখে) পারবা। মনটারে একটু সুযোগ দিলেই হয়।

(রাতের আকাশে তারা ফোটে। হামিদার ভাঙা ঘরে মিটমিট আলো। জুঁই ঘুমিয়ে পড়ে, বুকের কাছে বই। বাইরে সবাই নীরবে দাঁড়িয়ে-একটা গ্রাম, একটা রাত, একটা প্রতিজ্ঞা।)

(ফেড আউট। কালো পর্দায় ভেসে ওঠে সাদা অক্ষর-)

একটি জুই স্বপ্ন দেখলে,

একটি দেশ এগিয়ে যায়।

একটি ডালিম বদলালে,

সমাজ একটু আলো পায়।

আর একটি করিম না থাকলে-

মাটি তার আসল গন্ধ হারায়।

মাটির মানুষ হও। মাটিই আসল পরিচয়।

(পর্দা নামে।)

শেয়ার করুন:

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও লেখা:

Scroll to Top