ঝলকগল্প লেখার কলাকৌশল

আবু সাইদ কামাল

ঝলকগল্প কিভাবে লিখতে হয় এ সম্পর্কে ‘শন গ্ল্যাচ’ একটি নিবন্ধে বিস্তারিত আলোচনা করেছেন।

তাঁর মতে বজ্রপাতের মতো ঝলকগল্পগুলি এক নিমেষে শেষ হয়, যা পাঠকের কল্পনার ভুবনকে আমূল পরিবর্তন করে দিতে পারে।

এমন কামড়ে-ধরা আকারের মতো গল্পগুলি লিখতে প্রচুর শৈলী, দক্ষতা এবং কার্যকর শব্দ চয়ন করতে হয়।

লেখকগণ যদি তাদের লেখার ক্যারিয়ারে ঝলক (ফ্ল্যাশ) গল্পের ফর্মটি জয় করার চেষ্টা করেন, তবে ঝলকগল্প লেখার জন্য বেশ অনুশীলন এবং সম্পাদনা প্রয়োজন হয়।

ফ্ল্যাশ ফিকশন (ঝলকগল্প ) কি, এবং এটি কিভাবে লেখা যায় সে বিষয়ে আলোকপাত করা যাক:

সংক্ষেপে, অনুর্ধ ১,৫০০ শব্দের মধ্যে এটি এমন ধারার কথাসাহিত্য যা প্লট, চরিত্র এবং পরিবেশসহ সম্পূর্ণ গল্প পরিবেশন করে।

তাই, এই কাঠামোটি গল্প বলার জন্য ভাষার দক্ষ ব্যবহারের উপর নির্ভর করে, যা গল্পের প্রবাহ এবং প্রভাবকে বাধা দেয় না।

এই ধরারায় ১,৫০০ শব্দের মধ্যে ফ্ল্যাশ ফিকশন (ঝলকগল্প) প্লট, চরিত্র এবং সেটিংসহ সম্পূর্ণ একটি গল্প উপহার দেয়।

ফ্ল্যাশ ফিকশন লেখার জন্য অনুশীলনের প্রয়োজন। এই ঘরানার প্রয়াস বিশ্বের কথাসাহিত্যে সবচেয়ে আকর্ষণীয় বেশ কিছু গল্প সৃষ্টি করেছে।

প্রথমে ফ্ল্যাশ ফিকশন (ঝলকগল্প) কী? এই প্রশ্নের উত্তর খোঁজা যাক:

ঝলকগল্প(ফ্ল্যাশ ফিকশন) এর বিষয়বস্তু:

  • ১। ফ্ল্যাশ ফিকশন কী
    ২। ফ্ল্যাশ ফিকশনের উদাহরণ ও কৌশল
    ৩। ফ্ল্যাশগল্প কিভাবে লেখা যায়: কী বাদ দিতে হয়
    ৪। ঝলক গল্প লেখার: ৪টি পদ্ধতি

ফ্ল্যাশ ফিকশন কী?

এ প্রশ্নের জবাবে বলা যায়, এটি হলো— শব্দ গণনার বিবেচনায় গল্পের একটি কাঠামো। এটি কাব্যময় ঘরানার একটি গল্পধারা।

ফ্ল্যাশ ফিকশনের সংক্ষিপ্ত সংজ্ঞা হচ্ছে, কোনো কাল্পনিক গল্প যা ১,৫০০ শব্দের কম।

কারো কারো মতে ফ্ল্যাশ ফিকশনের দৈর্ঘ্যের ভিন্ন সংজ্ঞা থাকতে পারে, তবে বেশিরভাগই ১,৫০০ শব্দকে সর্বাধিক শব্দ সংখ্যা হিসেবে গ্রহণ করে।

এই ধারায় শব্দ সংখ্যার ভিত্তিতে ঝলকগল্পের আরও সাবডিভাইড বা উপশ্রেণী থাকতে পারে।
ফ্ল্যাশ ফিকশন শব্দসংখ্যায় লেখার সব সংজ্ঞার মতো, এগুলো কঠোর নিয়ম নয়, বরং প্রকাশক এবং সাহিত্যিক জার্নাল দ্বারা সাধারণত অনুসরণ করা হয় এমন নির্দেশিকা।

শব্দসংখ্যা:

  • ১। ছয় শব্দের গল্প
    ২। টুইটারেচার -২৮০ শব্দের গল্প
    ৩। মিনিসাগা (যাকে ড্রিবলও বলা হয়)-৫০ শব্দসীমার গল্প
    ৪। মাইক্রোফিকশন (যাকে ড্র্যাবলও বলা হয়) ১০০ শব্দসীমার গল্প
    ৫। হঠাৎ নাটকীয় গল্প -অনুর্ধ ৭৫০ শব্দের গল্প
    ৬। ফ্ল্যাশ ফিকশন বা অতি ছোটগল্প -১৫০০ শব্দসীমার গল্প।

ফ্ল্যাশ ফিকশন সংক্ষিপ্ত আকারের হলেও এটি মৌলিক গল্পের বাইরে নয়।

ফ্ল্যাশ ফিকশনের কৌশলসমূহ:

সকল উৎকৃষ্ট ফ্ল্যাশ গল্পে নিম্নলিখিত কৌশলগুলি ব্যবহার করা যেতে পারে।

আমরা কীভাবে ফ্ল্যাশ ফিকশন লিখব তা দেখার আগে, এই কৌশলগুলির সাথে পরিচিত হওয়া জরুরি।

কারণ, এ প্রক্রিয়ায় গল্পকারের খসড়া লেখাগুলি পরিশুদ্ধ করা এবং সম্পাদনা করা অনেক সহজ করে তুলে।

এটি হল এমন একটি নিয়ম যা লেখকদের অভিজ্ঞতাকে চিত্র এবং বর্ণনার মাধ্যমে প্রকাশ করতে বলে, পাঠকের কাছে সরাসরি অভিজ্ঞতার কথা বলে না।

এ বিষয়ে অ্যান্তন চেখভের উদ্ধৃতি দিয়ে সবচেয়ে ভালোভাবে সারসংক্ষেপ করা যায়। যেমন: “আমাকে বলবেন না চাঁদ ঝলমল করছে; আমাকে ভাঙা কাচের উপর আলো ঝলমল দেখান।”

দৃশ্য বনাম সারসংক্ষেপ:

ঝলকগল্প লেখায়, আমরা একটি পাঠ্যাংশ বা রচনাকে দৃশ্য বা সারসংক্ষেপ হিসাবে শ্রেণীবদ্ধ করি।

যখন একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণ গুরুত্বপূর্ণ তথ্য উপস্থাপন করার সময় বিশদগুলোকে উপেক্ষা করে, তখন একটি দৃশ্য গল্পের গুরুত্বপূর্ণ ঘটনার উপর ঘনিষ্ঠ নজর দেয়।

ফ্ল্যাশ ফিকশন লেখায় সাধারণত খুব কম পরিমাণের সারসংক্ষেপ থাকে, এবং সেখানে সাধারণত এক বা দুইটি দৃশ্য থাকা উচিত।

ছাঁটাই:

ঝলকগল্পের ভাষা হবে ক্ষুরধার, যথাযথ এবং পরিমিত। ফ্ল্যাশ লেখকরা প্রায়ই নির্মম সম্পাদক।

এ ধারায় বাক্যগুলি ছেঁটে ছোট করা হয় এবং পুরো অনুচ্ছেদই সম্পাদনা করা হয়।

প্রতীকবাদ:

প্রতীকবাদ হল সুনির্দিষ্ট বস্তু ব্যবহারের মাধ্যমে বিমূর্ত ধারণাকে উপস্থাপন করা।  ফ্ল্যাশ গল্পে অনেকক্ষেত্রে প্রতীক ব্যবহার করা হয়ে থাকে,

যা লেখককে অনেক কথার ধারণাকে প্রতীকী বস্তুতে রূপান্তরিত করার সুযোগ করে দেয়।

মিডিয়া রেজ (বিষয়ের মাঝে):

ইন মিডিয়াস রেজ একটি লাতিন বাক্যাংশ, যার অর্থ “কিছুর মাঝে।” এটি একটি সাহিত্যিক শব্দ হিসেবে ব্যবহার করা হয়।

যখন একটি গল্পের ঘটনায় একটি চরিত্রের সঙ্গে ক্রিয়া শুরু করে—এটি তা ব্যাখ্যা করে।

এটি ঘটনার পেছনের অপ্রয়োজনীয় কাহিনী উপেক্ষা করার চেয়ে অনেক বেশি কিছু।

মিডিয়া রেজে অনেক ফ্ল্যাশ গল্প শুরু হয়, যার মানে হল, যে ফ্ল্যাশগল্পটি প্রথম থেকে না হয়ে কাহিনীর মাঝখান থেকে শুরু হয়।

এমন ঘোরানো উপায়ে গল্পের প্লট লিখলে গল্পটি কার্যকরভাবে বলার জন্য যতটা তথ্য প্রয়োজন তা কমিয়ে আনে।

আলঙ্কারিক ভাষা বা রূপক ভাষা:

সাহিত্যিক উপকরণ হিসাবে কবিতার মতো ফ্ল্যাশগল্পে প্রচুর পরিমাণে আলঙ্কারিক ভাষা প্রয়োগ করা হয়।

রূপক ভাষা হলো এমন কিছু শব্দ বা অভিব্যক্তির ব্যবহার, যা মৌলিক অর্থের বাইরে যায় এবং আরও জীবন্ত, কল্পনাপ্রসূত বা প্রভাবশালী প্রভাব সৃষ্টি করে।

ঝলকগল্পে এটি প্রয়োগের মাধ্যম হিসেবে প্রায়ই রূপক, উপমা এবং ইঙ্গিতসহ বক্তব্যের বিভিন্ন রূপ অন্তর্ভুক্ত করে,

যা ভাষিক চিত্র তৈরি করতে, অনুভূতি জাগাতে বা একটি বিন্দুকে জোর দেওয়ার জন্য এমনভাবে সাহায্য করে যে, মৌলিক ভাষা তা করতে পারে না।

এই ধরনের ভাষা সাধারণত কবিতা, গল্পবলার এবং প্রতিদিনের কথোপকথনে ব্যবহার করা হয়, যা পাঠের অর্থ এবং অভিজ্ঞতা বাড়াতে সাহায্য করে।

কাজেই ঝলকগল্পে আলঙ্কারিক ভাষা ও সাহিত্যিক উপকরণ প্রয়োগের ক্ষেত্রে কবিতার মতো প্রচুর পরিমাণে রূপক ব্যবহারের উপর জোর দেওয়া উচিত।

পাঠকের কাছে বিশ্বাসযোগ্য করে তোলা:

যেহেতু ফ্ল্যাশ গল্পগুলি খুব সংক্ষিপ্ত হয়, তাই লেখকদের গল্পের ভুবন তৈরি করার জন্য খুব বেশি সময় থাকে না।

ফলস্বরূপ, লেখকরা গল্পে অপ্রয়োজনীয় বর্ণনা এবং চরিত্রায়নের বা সংলাপের গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্তগুলিকে বাদ দিয়ে গল্পভুবন নির্মাণ করতে আগ্রহী হতে পারেন।

সত্যিকার অর্থে, সেরা ফ্ল্যাশ গল্পগুলোর প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো, পাঠকের উপর আস্থা রাখা, তাদেরকে বোঝানোর জন্য যা ঘটছে এবং তারা যা জানে না তার রহস্যে প্রবেশ করার জন্য উৎসাহিত করা।

ফ্ল্যাশ ফিকশন গল্প কিভাবে লিখবেন:

দীর্ঘ কল্পকাহিনী—উপন্যাস, নভেলা এমনকি ছোটগল্পে লেখককে গুরুত্বপূর্ণ কিছু অণুপুঙ্খ অন্তর্ভুক্ত করতে হয়, যাতে গল্প এবং চরিত্রগুলো উপভোগ্য হয়।

ফ্ল্যাশগল্পের স্বল্প শব্দের সীমাবদ্ধতা থাকায় বিশদ বিবরণ অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে ব্যাপকভাবে বাধা দেয়।

তাই, শুরু থেকেই যদি শব্দসংখ্যা কমানোর প্রয়াস থাকে, অপরিহার্য নয় এমন শব্দ গল্প থেকে বাদ দেওয়া যায়।

গল্প থেকে বাদ দেওয়ার জন্য কিছু জিনিস এখানে উল্লেখ করা হলো:

গভীর অভ্যন্তরীণ তত্ত্ব:

গভীর অভ্যন্তরীণ তত্ত্ব বলতে গল্পের চরিত্রের বা প্রধান চরিত্রের নিজস্ব জীবনকে বোঝায়।

চরিত্রটি কী ভাবে, কী অনুভব করে এবং কী স্বপ্ন দেখে, সে পৃথিবীকে কীভাবে দেখে এবং কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানায়; কেউ হয়ত দেখে না সে কীভাবে থাকে।

বেশিরভাগ প্রধান চরিত্রের কিছু স্তরের অভ্যন্তরীণ তত্ত্বের প্রয়োজন হয়, যদি না সেটি স্থুল চরিত্র হয়।

ফ্ল্যাশগল্পে খুব বেশি অভ্যন্তরীণ তত্ত্বের প্রয়োজন নেই। যখন গল্পের প্রধান চরিত্র গুরুত্বপূর্ণ চিন্তা, প্রতিক্রিয়া বা ট্রমার সম্মুখীন হয়; পাঠক সব শেষে এমন চরিত্রের সাথে সংযুক্ত হতে চায়।

কিন্তু পাঠককে প্রধান চরিত্রের মস্তিষ্কের প্রতিটি চিন্তা জানতে হবে না: তাদের কর্ম এবং সংলাপ প্রায়শই এর জন্য যথেষ্ট হবে।

অতিরিক্ত পটভূমি:

সারাংশের সাথে যুক্ত হয় পটভূমি। সারাংশ এবং পটভূমি উভয়ই ঝলকগল্পের কিছু দিক ব্যাখ্যা করতে সাহায্য করে, যা বিশেষ কিছু চরিত্র কীভাবে চিন্তা করে বা অনুভব করে, এবং তারা কেন এসব অনুভব ও চিন্তা করে।

যেখানে সারাংশ গল্পের চরিত্রের মনে কাজ করার জন্য অভ্যন্তরীণ প্রক্রিয়া দেখায়, পটভূমি বর্তমান গল্পের পূর্ববর্তী ইভেন্টগুলিকে প্রদান করে যা একটি চরিত্রের সিদ্ধান্ত অথবা বর্তমান পরিস্থিতিকে প্রভাবিত করে।

উপন্যাস এবং স্মৃতিকথায় পটভূমি দেওয়া গুরুত্বপূর্ণ। ফ্ল্যাশ গল্পে তা কম গুরুত্বপূর্ণ। গল্পের মূলভাব এবং চরিত্রের পদক্ষেপগুলোর প্রতি মনোযোগ কেন্দ্রীভূত হওয়া উচিত।

এই উপাদানগুলো বা নিজেদের ব্যাখ্যা করতে হবে, অথবা পাঠকের মধ্যে কিছু স্তরের কৌতূহল সৃষ্টি করতে হবে।

অন্যথায়, অতিরিক্ত পটভূমি কেবলমাত্র শব্দের অপচয়ই হয়। সবকিছু ব্যাখ্যা করতে চেষ্টা করা যাবে না: কিছু জিনিস পাঠকের কল্পনায় ছেড়ে দিতে হবে, এবং শুধুমাত্র যখন এটি আবশ্যক তখন ব্যাখ্যা করতে হবে।

কর্মহীনতার মুহূর্তসমূহ:

ঘটনা গল্পকে এগিয়ে নিয়ে যায়, গল্পের চরিত্রগুলো সিদ্ধান্ত নেয় এবং সেই সিদ্ধান্তগুলির ফলাফল আরও কর্মকাণ্ড ঘটায়।

যখন শব্দের সীমা কম হয়, তখন বিশেষ্য এবং ক্রিয়াপদে বেশি মনোযোগ দিতে হয়। অর্থাৎ গল্পের চরিত্রের বেশি চিন্তা করতে দেওয়া উচিত নয়।

চরিত্র সকালে কি করে সে ব্যাপারেও কিছু আমরা দেখতে চাই না, কিংবা দেখতে চাইনা সে প্রাতঃরাশে কী খায়।

এই বিবরণগুলি উপন্যাস এবং স্মৃতিকথার জগতগুলি নির্মাণে সাহায্য করে। ঝলকগল্পে দ্রুত লেখার উপর জোর দিতে হয়, এবং বিশদ বিবরণ যুক্ত করতে হয় কেবল তখনই, যখন গল্প দাবি করে।

প্যাসিভ ভয়েস:

প্যাসিভ ভয়েস তখনই ঘটে, যখন একটি বাক্যের সাবজেক্ট ক্রিয়ার কর্মকাণ্ড গ্রহণ করে বা ক্রিয়া করে।

যা অ্যাক্টিভ ভয়েসের তুলনায় বেশি জটিল এবং প্রায়শই কম আকর্ষণীয়। এখানে একটি উদাহরণ দেওয়া হলো যেমন: অ্যাক্টিভ ভয়েস বলা হল, তিনি পাহাড়ে ওঠেন। এর প্যাসিভ ভয়েস হবে: তাঁর দ্বারা পাহাড়ে ওঠা হয়।

কখনও কখনও গল্পে, বিশেষ করে গল্পকার যদি চান গল্পের চরিত্রগুলোর উপর যে ধরণের কর্ম করা হচ্ছে তা হাইলাইট করতে হবে, তখন প্যাসিভ ভয়েসের প্রয়োজন হয়।

তবে, যখন আপনার প্রধান চরিত্র কর্ম নিচ্ছেন, তখন আপনার বাক্যগুলিকে কর্মী হতে দিন।

অতিরিক্ত প্রিপজিশন বা পূর্বপদ:

একটি পূর্বপদ হলো একটি শব্দ যা একটি বাক্যের ক্রিয়াকে প্রভাবিত করে।

বক্তৃতার জন্য এগুলি অপরিহার্য উপাদান, তবে ঝলকগল্পে সেগুলি সম্পূর্ণরূপে এড়ানো উচিত নয়।

অপ্রয়োজনীয় মনে হলে পূর্বপদের উপর নির্ভরশীল বাক্য গঠন এড়ানো উচিত। এখানে একটি উদাহরণ দেওয়া হলে।

যেমন: বৃহৎ শব্দ— এটি হল আমার মায়ের চেয়ার। বাক্যটির সংক্ষিপ্তরূপ: এটি আমার মা’র চেয়ার। এখানে ‘হল’ বাদ দিয়ে এবং “মা” এর সাথে একটি ঊর্ধ্বকমা যোগ করে বাক্যটি সংক্ষিপ্ত করা যায়।

ক্রিয়া বিশেষণ:

ক্রিয়া বিশেষণ একটি বর্ণনামূলক শব্দ যা একটি ক্রিয়াকে প্রায়শই পরিমার্জিত করে।

প্রায়শই, কিন্তু সর্বদা নয়।

কখনও কখনও, একটি ক্রিয়া বিশেষণ প্রয়োজনীয় বর্ণনা এবং বিশদ যোগ করে; তবে বাংলা শব্দভাণ্ডারে অনেকগুলি ক্রিয়া রয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে দুর্বল ক্রিয়ার চেয়ে একটি শক্তিশালী ক্রিয়া ব্যবহার করলে ভালো হয়।

উদাহরণস্বরূপ: সিংহটি গভীর ভাবে এবং জোরে গর্জন করল। সংক্ষিপ্তরূপ : সিংহটি গর্জন করল।

ক্রিয়া বাক্যকে ক্রিয়াশীল করে, তাই শক্তিশালী, বিশেষণহীন ক্রিয়া ব্যবহার করলে গল্প কম শব্দে ভালভাবে চিত্রিত হয়।

কিভাবে ফ্ল্যাশ ফিকশন গল্প লিখবেন, সংক্ষেপে ৪টি পন্থা:

ফ্ল্যাশ ফিকশনে দীর্ঘ গল্পের সব উপাদান থাকে, কিন্তু কম “ফ্লাফ” বা উপকরণ থাকে।

সুতরাং, ঝলকগল্প লেখার চ্যালেঞ্জ হচ্ছে ১,৫০০ শব্দের নিচে একটি সম্পূর্ণ গল্প তৈরি করা।

ফ্ল্যাশ লেখার জন্য কী পদ্ধতি করা উচিত? সে বিবেচনায় নিম্নলিখিত চারটি পন্থা বিবেচনা করা যায়:

 

কঠোর সম্পাদনা:

একটি সাধারণ গল্পের মতো শুরু করার চেষ্টা করে ফ্ল্যাশগল্প থেকে অপ্রয়োজনীয় শব্দগুলো কঠোর সম্পাদনা করে কমিয়ে দিতে হবে।

এটি ফ্ল্যাশগল্প লেখার জন্য একটি সাধারণ পন্থা, বিশেষ করে যদি গল্পটি ১,৫০০ শব্দের কাছাকাছি হয়।

লেখার পর গল্পটি ছোট করা যায়।

এক্ষেত্রে লেখকের প্রিয় অংশগুলোকে ছাঁটাই করতে হবে—এবং গল্পকার এই ছাঁটাইকরণ উপভোগ করতে পারেন।

প্রথমে প্লট বা কাহিনী:

ফ্ল্যাশগল্পের জন্য মাংস দেওয়ার আগে হাড্ডি প্রয়োজন, তাই গল্পের কাহিনী দিয়ে শুরু করতে হবে।

কোন বর্ণনা বা রূপক প্রয়োগ ছাড়া একটি প্লট-কেন্দ্রিক পদ্ধতির মাধ্যমে কেবল গল্পের বিস্তারিত লেখা শুরু করতে হবে।

একবার কাহিনী লেখা হলে, এটি বিস্তারিত দ্বারা পূর্ণ করতে হবে যতক্ষণ না ১,৫০০ শব্দের সীমা অতিক্রম করে।

এই “ফাঁকা পূরণ” পদ্ধতি গল্পকে গুরুত্বপূর্ণ বিস্তারিত লেখায় সীমাবদ্ধ রাখতে বাধ্য করে। তবুও এটি সম্পূর্ণ থাকে।

কবিতা দিয়ে শুরু:

কবিতা দিয়ে ঝলকগল্প শুরু করা যায়, যাতে মনে হয় ফ্ল্যাশ গল্পটি কাব্যকারে লেখা।

এটা ভাবনার চেয়েও অধিক কিছু হতে পারে। অনেক সাহিত্য সমালোচক মনে করেন, ফ্ল্যাশ গল্পগুলো গদ্য ও কবিতার সীমা ছাড়িয়ে যেতে পারে।

কারণ, ঝলকগল্পের প্লট প্রকাশ করার জন্য অনেক কাব্যিক ব্যঞ্জনাময় উপকরণ ব্যবহার করা হয়।

যদি আপনি একইসাথে একজন কবি এবং একজন গল্পকার হন, তাহলে আপনার গল্পের প্লটটি পদ্যের আকারে লিখতে বিবেচনা করতে পারেন,

পরে সেই পদ্যটিকে একটি গদ্য-কবিতা বা গদ্যে সম্প্রসারিত করতে পারেন।

একটি মোচড় দিয়ে সমাপ্তি:

একটি ক্ষিপ্র কাহিনী ‘সম্পূর্ণ’ অনুভব করার জন্য এটি ‘একটি ধামাকা বা চমক দিয়ে শেষ করা উচিত।’

গল্পের শেষ লাইন এমন হওয়া উচিৎ যাতে গল্পটি শেষ হওয়ার পরেও পাঠকের মনে দীর্ঘ সময়ের জন্য ভাবনার অবকাশ থাকে।

ফ্ল্যাশ গল্পের সমাপ্তি পাঠককে কিছুটা চমকে দিতে হবে। ফ্ল্যাশ গল্পের শেষে এমন একটি সমাধান দেয় যা থিমগুলিকে উল্টো করে, মোচড় দেয়, বা অপ্রত্যাশিত দ্বৈততা তুলে ধরে।


একটি ফ্ল্যাশ গল্পের সমাপ্তিতে পাঠককে অবাক করে দেওয়া উচিত। যেভাবে গল্প বলার জন্য শেষ ভাবা হয়, তা প্রথমে এনে গল্প লেখা কোনো প্রচলিত পন্থা নয়, কিন্তু এই পদ্ধতি অনুশীলন করা যায়।

এ ঘরানার গল্পের শেষ বাক্যে পাঠককে অবাক করে দেওয়ার মতো কিছু থাকতে হয়।

তথ্যসূত্র:
১। ‘শন গ্ল্যাচ’ এর একটি নিবন্ধ।
২। পাঠে বিশ্লেষণে বিশ্বগল্প, ছোটগল্পের শিল্প ও রূপান্তর- মোজাফফর হোসেন।
৩। বৃহত্তর ময়মনসিংহের প্রবন্ধ
৪। অন্তর্জাল।
৫। লেখকের নিজস্ব পর্যবেক্ষণ।

শেয়ার করুন:

Leave a Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই বিভাগের আরও লেখা:

Scroll to Top